শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১৪

নার্স তৈরির অনন্য প্রতিষ্ঠান

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

নার্স তৈরির অনন্য প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালিত মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষার্থীকে মেমন মাতৃসদন হাসপাতালে বাধ্যতামূলক ২০০ নরমাল ডেলিভারি নিজ হাতে করাতে হয়। একই সঙ্গে মাতৃসদন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রসব এবং প্রসব-পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এভাবে মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট থেকে কোর্স সম্পন্নকারী প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষিত করে তুলতে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়। কোর্স গ্রহণ করে নার্সরাও দক্ষতা অর্জন করে সরকারি  বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। ফলে প্রশিক্ষিত নার্স তৈরিতে অনন্য ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। জানা যায়, ২০০১ সালে চসিকের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মাতৃমৃত্যু ঠেকানো, সুস্থ নবজাতক প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী প্রয়োজনীয় সেবায় প্রশিক্ষিত নার্স তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করেন চসিক পরিচালিত মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট। এখানে আছে ১৮ মাস মেয়াদের ‘মিডওয়াইফারি ট্রেনিং’ কোর্স এবং তিন বছর মেয়াদের ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ কোর্স। বর্তমানে মিডওয়াইফারি ট্রেনিং কোর্সের ২১তম ব্যাচ চলছে। প্রতিষ্ঠার সময় প্রতি ব্যাচে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও ২০১৫ সাল থেকে ৩৫ জন করে ভর্তি করা হচ্ছে। তা ছাড়া ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি নার্সিং কোর্সের প্রতি ব্যাচে ভর্তি করা হয় ২৫ জন করে। মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ও চসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এখানকার প্রশিক্ষণার্থীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের কোর্স ছাড়াও চসিক পরিচালিত মেমন মাতৃসদন হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি, অপারেশন এবং অপারেশন পরবর্তীতে মা ও শিশুর সেবা করতে হয়। ফলে থিওরিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল- দুই ক্ষেত্রেই তারা পারদর্শী হয়ে ওঠেন। পরে তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন। তা ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালও আমাদের কাছে দক্ষ নার্স খোঁজে।’ তিনি বলেন, ‘সময়ের বাস্তবতায় মিডওয়াইফারির গুরুত্ব অপরিসীম। তারা সরাসরি গর্ভবতী মায়েদের সেবা দিয়ে থাকে। এটি অনেক কঠিন কাজ। কঠিন কাজটি ধৈর্য, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে করতে হাতে-কলমে শেখানো এবং মানসিকভাবে তৈরি করা হয়। কারণ এ জন্য প্রসূতি মা চিকিৎসকের পর নার্সের ওপরই আস্থা রাখেন। তাই প্রসূতির সেবায় নার্সের গুরুত্ব অনন্য।’  

জানা যায়, ১৮ মাস মেয়াদের ‘মিডওয়াইফারি ট্রেনিং’ কোর্সে অংশগ্রহণকারীকে প্রতি মাসে দেওয়া হয় ১ হাজার টাকা ভাতা ও বিনামূল্যে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতি মাসে বেতন ১৫০ টাকা। এসএসসি পাসের পর এ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। এ কোর্সে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক মিলে ৬০টি ক্লাস করানো হয়। অন্যদিকে, তিন বছর মেয়াদের ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ কোর্সে এইচএসসি সার্টিফিকেট দিয়ে ভর্তি হওয়া যায়। মিডওয়াইফারি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সরা সরকারি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে আছে-অপারেশন কক্ষে চিকিৎসকের সহকারী হিসাবে থাকা, ড্রেজিং করা, ইনজেকশন দেওয়া, শিশুর পরিচর্যা করাসহ নানা কাজ। নিকট অতীতেও মাতৃমৃত্যু ও প্রসবকালীন নবজাতক মৃত্যুর বিষয়টি সাধারণ ঘটনা ছিল।

 


আপনার মন্তব্য