শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ টা

নিজ জমিতে মায়ের জন্য অন্যরকম ভালোবাসা

মাহবুবুর রহমান, শ্রীপুর (গাজীপুর)

নিজ জমিতে মায়ের জন্য অন্যরকম ভালোবাসা

গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই প্রজাতির ধান দিয়ে ‘মা’ লেখা ফুটিয়ে তুলেছেন এক কৃষক। টেংরা গ্রামের কৃষক এনামুল হক বিস্তীর্ণ সবুজের মাঠে সবুজ ও বেগুনির মিশেলে ধান খেতে ফুটিয়ে তুলেছেন ‘মা’। সড়কের ধারে হঠাৎ করে দৃষ্টি আটকে যায় পথিকের। অনেকে থমকে যায়, আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের সৌন্দর্য দেখেন। ছবি উঠিয়ে নিয়ে যান, সামাজিক যোগযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ।

কৃষক এনামুল হক শ্রীপুর বাজারের পান-সুপারির বিক্রেতা। তাঁর বাবা আবদুল আউয়াল মারা গেছেন বহু বছর আগে। মা জহুরা খাতুন অনেক কষ্ট-সংগ্রাম করে তাঁকে ও তাঁর এক বোনকে মানুষ করেছেন। তিনি ক্ষুদ্র এ ব্যবসার পাশাপাশি অন্যের জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ করেন। এবার মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়কের পাশে প্রায় তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এই ধান খেতেই ফুটিয়ে তুলেছেন ‘মা’ কথাটি।

এনামুল বলেন, সবাই তো মায়ের জন্য কতকিছু করে। আমি কৃষক, সারা দিন ধান খেতে থাকি। তাই ধান খেতেই মায়ের জন্য এই উপহার। যাঁর জন্য এই আয়োজন, সেই জহুরা খাতুন মুগ্ধ সন্তানের শিল্পকর্মে। তিনি জানালেন, ছেলে ধান খেতে মায়ের নাম লেখায় খুব খুশি তিনি। আবেগাপ্লুত হয়ে বললেন, আমার ছেলে যেমন আমাকে ভালোবাসে, আমিও আমার ছেলেকে ভালোবাসি।

তিনি আরও বলেন, বেগুনি রঙের ধান গাছ দিয়ে অনেকেই অনেক কিছু তুলে ধরেছেন। তিনি তুলে ধরেছেন মায়ের নাম লিখে। ‘মা’ তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি দেখেছেন, কেউ মায়ের দোয়া দোকানের নাম দেন, কেউ আবার পরিবহনে লিখেন। তিনি যেহেতু কৃষক, তাই ধানের জমিতেই ফুটিয়ে তুলেছেন মাকে। নিজের মন থেকে অনুপ্রেরণা ও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তিনি তাঁর ধানের খেতে ‘মা’ কথাটি লিখেছেন।

সন্তানের এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ মা জহুরা খাতুন। তিনি বলেন, ছেলের এমন কাণ্ডে তিনি নিজেও অভিভূত। তাঁর ছেলে তাঁকে খুব ভালোবাসে।

সব সময় খবর নেয়। দেশে অনেকেই এখন ব্যতিক্রম। বৃদ্ধ বয়সে মা ও বাবা বোঝা হয়ে যায়। তাঁদের খবর পর্যন্ত নেয় না। তাঁর ছেলের মতো প্রতিটি সন্তানের  মায়ের প্রতি এমন আনুগত্য থাকা প্রয়োজন।

সর্বশেষ খবর