শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২৩:১৭

সাব্বির তাণ্ডবে স্বপ্নভঙ্গ রংপুরের

মেজবাহ্-উল-হক

সাব্বির তাণ্ডবে স্বপ্নভঙ্গ রংপুরের
জয়ের পর বরিশাল বুলসের উল্লাস —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ক্রিস গেইল নেই। নেই চলতি বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান এভিন লুইসও। কিন্তু ছিলেন এক সাব্বির রহমান। বাংলাদেশের এই মারকুটে ব্যাটসম্যান গতকাল একাই তাণ্ডব চালিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিলেন রংপুর রাইডার্সকে। তার টর্নেডো ইনিংসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠল বরিশাল বুলস।

গেইল নেই বলে যারা স্টেডিয়ামে ঢুকে হতাশায় মুখ ভার করেছিলেন সেই দর্শকরাই কাল সাব্বিরে মুগ্ধ হয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফেরেন মধ্যরাতে। সত্যি বরিশালের অবিশ্বাস্য এক জয়। অবিশ্বাস্য এক ম্যাচও বটে! যে ম্যাচের পরতে পরতে ছিল রোমাঞ্চ।

মিরপুরের মরা উইকেটে রংপুর রাইডার্স ১৬০ রান করার পর কে ভেবেছিল বরিশাল ম্যাচ জিতবে? গেইল-লুইস তো নেই-ই, তার ওপর ১০ রানেই দুই ওপেনারের বিদায়! খাদের কিনারায় তখন দাঁড়িয়ে বরিশাল! এমন শোচনীয় অবস্থা থেকে টেনে তুলে সাব্বির রহমান বুলসকে উপহার দিলেন দারুণ এক রোমাঞ্চকর জয়! টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন সাব্বির। কিন্তু কাল বেরিয়ে এলেন খোলস থেকে। গেইলের অনুপস্থিতিতে নিজেকে যেন গেইলের ভূমিকায় দাঁড় করিয়ে দিলেন সাব্বির। রংপুরের বোলারদের বলগুলোকে আছড়ে ফেললেন শেরেবাংলার গ্যালারিতে। গেইল যে কাজগুলো করেন স্বদম্ভে, কাল সেই কাজটি করলেন সাব্বির। অবশ্য আগের ম্যাচে ৪১ রান করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাব্বির। কাল খেললেন ৪৯ বলে ৭৯ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ৭ বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কা। সাব্বিরকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন শাহরিয়ার নাফিসও। তিনি করেন ৪০ বলে ৪৪ রান। তৃতীয় উইকেটে দুই ব্যাটসম্যান মিলে গড়লেন ১২৪ রানের পার্টনারশিপ। ওভারপ্রতি রান প্রায় ৯ করে। এই জুটিই কাল ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে রংপুরকে। আগামীকাল বিপিএলের স্বপ্নের ফাইনালে মাশরাফির কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের মুখোমুখি হবে বরিশাল। গেইল না থাকলেও কাল দর্শকরা শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয় ঝড় দেখেছেন ঠিকই। বুলসের জার্সিতে সাব্বির এবং রাইডার্সের হয়ে ২২ গজে ঝড় তুলেছিলেন গেইলের দুই স্বদেশি লেন্ডল সিমন্স ও ড্যারেন স্যামি। সিমন্স ৫৭ বলে খেলেছেন ৭৩ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ৯টি বাউন্ডারির সঙ্গে দুটি বিশাল ছক্কা। স্যামি খেলেছেন ১০ বলে ২৩ রানের ইনিংস। ৩টি বাউন্ডারির সঙ্গে একটি ছক্কা।

আগের দিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে হেরেছিল রাইডার্স। কাল তাই প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন সাকিব আল হাসান। শুরুটাও ছিল অসাধারণ। ওপেনিং জুটিতেই আসে ৫২ রান। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে যে পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়েছিল রংপুর, কাল পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেটই হারায়নি। এসেছে ৪২ রান। দুর্দান্ত শুরুর কারণেই ১৬০ রানের বড় স্কোর পায় রংপুর। তবে মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যেন যাওয়া-আসার মিছিলে নেমেছিলেন। শেষ ওভারেই গতকাল ৪ উইকেট হারায় রংপুর। তা না হলে রংপুরের স্কোর আরও বড় হতে পারত। এ ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ সাকিব আল হাসান। আগের ম্যাচে সাজঘরে ফিরে গেছেন প্রথম বলেই। আর এ ম্যাচে ড্রেসিংরুমের রাস্তা ধরতে হয়েছিল ‘অপয়া’ ১৩-এর ফাঁদে পড়ে। ‘অপয়া’র কারণেই কিনা পরে জেতা ম্যাচটাও হারতে হয়েছে সাকিবকে!

কাল আসলে ভাগ্যসহায় ছিল না রংপুর রাইডার্সের। অথচ ক্যারিবিয়ান তারকা ড্যারেন স্যামি ক্যাচটি ধরার পর মনে হচ্ছিল ভাগ্য বিধাতাই যেন রাইডার্সকে জিতিয়ে দেবেন! কিন্তু হলো উল্টো। স্যামি কয়েক ফুট লাফিয়ে ওঠে যেন পাখির মতো উড়ে গিয়ে বল তালুবন্দী করলেন। কিন্তু সামির শরীরের বেশির ভাগ অংশই তখন বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। তবে রশির এক মিলিমিটার ভিতরে ডান পায়ের আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে পুরো শরীরকে শূন্যে ভাসিয়ে রাখলেন। ভারসাম্য রাখতে সময় নিলেন বেশ কয়েক সেকেন্ড। ২০১৫ সালের সেরা হতে পারে স্যামির ক্যাচটি। এমন একটি ম্যাচের পরও দল হারায় মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো স্যামিকে!

রংপুর ইনিংস : ১৬০/৯, ২০ ওভার (সিমন্স ৭৩, স্যামি ২৩, মামুন ২০, কুপার ৪/৩৯, প্রসন্ন ১/২০, আল-আমিন ১/৩০)

বরিশাল ইনিংস : ১৬৩/৫, ১৯.৩ ওভার (সাব্বির ৭৯, নাফিস ৪৪, আরাফাত ১/১৮)

ফল : বরিশাল ৫ উইকেটে জয়ী


আপনার মন্তব্য