Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০৮

দুই বিপিএলের ভিন্ন রূপ

রাশেদুর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে

দুই বিপিএলের ভিন্ন রূপ

হাহাকার’ শব্দের অর্থ এক থাকলেও এর ব্যবহার বিধি পুরোপুরি ভিন্ন হতে পারে। যেমন চট্টগ্রামে এখন ফুটবল আর ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ‘হাহাকার’ শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। একদিকে দর্শকদের জন্য হাহাকার করছে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের শূন্য গ্যালারি। অন্যদিকে টিকিটের জন্য হাহাকার করছে সাগরিকার দর্শকরা। বিপিএলের ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে অনধিকার প্রবেশ করতেও দ্বিধা নেই সাগরিকায়। এই যেমন সাংবাদিকের ‘অ্যাক্রিডিটেশন’ কার্ড দেখে এক তরুণের অনুরোধ, ভাই কোনোভাবে ম্যানেজ করে ঢুকিয়ে দেন না! অন্যদিকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন যেন টিকিটের ফেরিওয়ালা। দুয়ারে দুয়ারে মাইকিং করেও দর্শকদের হাতে তুলে দিতে পারছে না সহজলভ্য টিকিট! ড্রাইভারদের অযৌক্তিক হর্ণ আর রিকশার টুঙটাঙের পাশাপাশি টিকিটের ফেরিওয়ালা বাফুফের উচ্চশব্দের মাইকিং চট্টগ্রাম শহরে শব্দদূষণের মাত্রাই কেবল বাড়িয়েছে!

এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকায় উচ্চ শব্দে ক্রমাগত বেজে চলেছে রেকর্ডকৃত ‘আহ্বান’। গানে-গানে পেশাদার লিগ দেখতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ‘বেসুরো’ কণ্ঠ। মাইকধারী ভ্যানওয়ালার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই বলে, ভাই টিকিট লাগবে! চারপাশের লোকজন বিরক্ত। বিপিএলের বেশ কয়েকটা দল উঠেছে রেডিসন ব্লু হোটেলে। ওই এলাকায় রিকশাওয়ালা পর্যন্ত যেতে চায় না ‘ফেরিওয়ালা’ বাফুফের ‘শব্দ-অত্যাচারে’র ভয়ে! এমএ আজিজ স্টেডিয়াম পাড়ায় যাদের কর্মস্থল তারাও বিরক্ত। ‘দেখুন এখানে শব্দদূষণের যন্ত্রণায় একটু মন খুলে আলাপ করব, তারও উপায় নেই।’ বলছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নুরুল আবেদিন নবেল। কেবল চট্টগ্রাম কেন, ঢাকায় স্টেডিয়াম পাড়ারও তো একই অবস্থা। ওখানেও মাইকে-মাইকে ঘোষণা দিয়ে দর্শকদের টিকিট ক্রয়ের অনুরোধ জানায় বাফুফে। ভিন্ন চিত্র ক্রিকেটে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ তো বটেই এমনকি ঘরোয়া আসর বিপিএলের টিকিট কোথায় পাওয়া যাবে এই নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার। পত্রিকার অফিসে ফোন আসে, ভাই কোথায় টিকিট পাওয়া যাবে! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দর্শক নিয়ে মাথাব্যথার কিছু নেই। তাদের বিশ্বাস, দর্শক আসবেই। আর ক্রিকেটের দর্শকরা কখনো নিরাশ করেনি বিসিবিকে।

বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বে দুয়েকটা ম্যাচ ছাড়া দর্শক তেমন একটা হয়নি। এর অর্থ গ্যালারি কানায়-কানায় পূর্ণ হয়নি। উল্লেখ করার মতো দর্শক ছিল সব ম্যাচেই। দর্শকদের উচ্ছ্বাস-উৎসব কমেনি মোটেও। সন্ধ্যা রাতে আতশবাজির ঝলক আর ডিজের বাজানো গ্রাউন্ড মিউজিকের ছন্দ দর্শকদের আকাশ-কাঁপানো চিৎকারে হারিয়েছে বার বার। এর কারণ কী!

ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নয়নটা চোখে পড়ার মতোই। এখানে ক্রিকেটের রাজাধিরাজরাও ক্ষুধার্ত টাইগারদের সামনে দেখলে আঁতকে উঠে। এইতো দিন কয়েক আগে ইংল্যান্ডের দর্পচূর্ণ করেছেন মুশফিকরা। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোও এখন অনেক ভেবেচিন্তে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়। এর ঠিক বিপরীত চিত্র ফুটবলে। ঘরোয়া ফুটবল তো বটেই, জাতীয় দলের খেলা নিয়েও কোনো আগ্রহ নেই সমর্থকদের। বিশেষ করে সপ্তাহ কয়েক আগে ভুটানের কাছে পরাজয় যেন বাংলাদেশের ফুটবলের কফিনে শেষ পেরেকই ঠুকে দিল। বাফুফের ফুটবল উন্নয়ন স্বপ্নটা এখন অনেক দূরের বলে মনে হয়!

ফুটবল আর ক্রিকেটে ‘হাহাকার’ শব্দ ব্যবহারের ভিন্নতা অনেক কিছুই বলে দেয়। টিকিটের ফেরিওয়ালা বাফুফের আচরণ দর্শকদের মাঠে আনার পরিবর্তে আরও দূরেই ঠেলে দিচ্ছে! দর্শকদের মাঠে আনার জন্য মাশরাফিদের মতো দারুণ কিছু করে দেখাতে হবে মাঠে। তখন দর্শকরাই টিকিট প্রাপ্তির স্থান খুঁজে বেড়াবে। এক টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়বে ফুটবলেও। ততোদিন পর্যন্ত ফেরিওয়ালা সেজেও দর্শকদের মাঠে আনতে পারবে না ফুটবল। ভক্তরা আশায় আছে কবে ফুটবল আর ক্রিকেটে ‘হাহাকার’ একই অর্থে ব্যবহৃত হবে!


আপনার মন্তব্য