Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুন, ২০১৮ ২৩:১৪

হাসছে ব্রাজিল কাঁদছে আর্জেন্টিনা

হাসছে ব্রাজিল কাঁদছে আর্জেন্টিনা
কোস্টারিকাকে হারানোর পর গ্যালারিতে ব্রাজিলিয়ান তরুণ সমর্থকের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর আর্জেন্টাইন সমর্থক তরুণীর কান্না। সেন্ট পিটার্সবার্গজুড়েই ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা উল্লাসে ভাসছেন। যদিও তাদের নকআউট পর্ব এখনো নিশ্চিত হয়নি —এএফপি

উজবেক রেফারি ইরমাতভ ম্যাচ শেষ হওয়ার বাঁশিতে ফুঁ দিতেই লিওনেল মেসি তড়িঘড়ি মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লেন। ভক্তদের সামনে পড়তে চাননি তিনি। মুখোমুখি হতে চাননি কোনো সাংবাদিকের। মিক্সড জোনটা পাড়ি দিলেন তিনি কাউকে কিছু না বলেই। মেসির দল ৩-০ গোলে হেরেছে ক্রোয়েশিয়ার কাছে। এই লজ্জা লুকানোর মতো একটা স্থান খুঁজছিলেন কি মেসি! আগুয়েরো সাইড বেঞ্চ থেকে উঠতেই পারছিলেন না। গোল মিস করেছেন তিনি। হতাশ করেছেন সমর্থকদের। আর্জেন্টিনাকে লজ্জায় ডুবিয়েছেন। আগুয়েরোর পায়ের সব শক্তিই যেন শেষ হয়ে গেল। নিরাপত্তাকর্মী এসে আগুয়েরোকে সান্ত্বনা দিলেন। উঠিয়ে নিলেন ড্রেসিং রুমের দিকে। এ আর্জেন্টিনা যে পুরোপুরিই অপরিচিত এক দল! বিপরীত দিকে ক্রোয়েশিয়া হাতে হাত বেঁধে এগিয়ে গেল সমর্থকদের দিকে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল, আনন্দ করল। ক্রোটদের এই আনন্দের সঙ্গে যোগ হয়েছিল আরও একটা দল। বিরাট সে দল।

বাস, ট্রাম, ফ্যান জোন, স্টেডিয়ামের চারপাশে হলুদ জার্সি গায়ে কোরাস গাইছে ব্রাজিল সমর্থকরা। ‘ব্রাজিল ওলে, ওলে, ওলে’ কোরাস গাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে তারা গাইছিল ‘চাও মেসি, চাও, চাও, চাও’। ফিওদর নামের ব্রাজিল সমর্থক মোটামুটি ইংলিশ জানেন। তাকে প্রশ্ন করতেই বললেন, এর অর্থ হলো, বিদায় মেসি, বিদায়। আর্জেন্টিনার হারে ব্রাজিল সমর্থকদের উৎসব নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে গত বিশ্বকাপে কোপাকাবানা সৈকতে ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যে উৎসব করেছিল আকাশি-নীলের সমর্থকরা তা ভুলতে পারেনি ব্রাজিল। এ কারণেই আর্জেন্টিনার যে কোনো ব্যর্থতায় দারুণ সুখী হয় ব্রাজিলীয়রা। কেবল মেসির এই যুগেই দুই দলের সমর্থকদের দ্বন্দ্বটা আছে তা নয়, এই দ্বন্দ্বের শুরু বহু আগে থেকেই। আর্জেন্টাইনরা ম্যারাডোনাকে দেখলেই পাগলের মতো টেনে টেনে ‘ম্যা-রা-দো-না’ কোরাস গায়। ব্রাজিলীয়রা পেলেকে নিয়ে বড়াই করে। ওরা বলে, পেলে থাওজেন্ট গোল। ম্যারাডোনার নাম নিলে নাক চেপে ধরে। আর আর্জেন্টিনাকে বলে ‘ওখুদা আর্জেন্টিনা’ (গাধাদের দল আর্জেন্টিনা)। ব্রাজিল সমর্থকদের এই উৎসবের বিপরীতে, নাক ছিটকানোর বিপরীতে আর্জেন্টাইনদের এখন কিছু করার নেই। মেসিরা লজ্জাজনকভাবে হেরে গেছেন। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের ঘণ্টা অনেকটাই বেজে উঠেছে তাদের। যে দলটা চ্যাম্পিয়ন হবে বলে এসেছিল রাশিয়ায়, তাদের নিঃস্ব হয়েই সম্ভবত যেতে হবে নিজভূমে। অনেকেই হয়তো নিজ দেশে ফিরবেন না। লজ্জায়! আর্জেন্টিনার হার সেই সঙ্গে নেইমারদের জয়ে ফেরা ব্রাজিলিয়ানরা উৎসব করবে এটাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারের পর কাঁদছে আর্জেন্টাইনরা। কেননা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াটা তাদের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গতকাল অবশ্য নাইজেরিয়ার জয়ে নতুন করে আশা জেগেছে। তবু পথটা কঠিন। কেননা এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক যদি। ক্রোয়েশিয়া যদি আইসল্যান্ডকে হারায় বা ড্র করে তখনই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মেসিদের। তবে শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়াকে অবশ্যই হারাতে হবে। ড্র করলেই গ্রুপ পর্ব থেকে মেসিদের দেশে ফিরে যেতে হবে।

মেসিদের অবশ্য এখনো সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা অনেক হিসাব-নিকাশের জালে আটকা পড়েছে। সেই জাল ছিঁড়ে বের হওয়ার জন্য মেসিদের পরের ম্যাচটা জিততে হবে বিরাট ব্যবধানে। ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেই শক্তি কি ধারণ করছেন মেসিরা! আর্জেন্টিনা ২০০২ সালের পর আরও একবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব খেলেই বিদায় নেবে, এই দৃশ্যটা সত্যিই করুণ হয়ে থাকবে। আর্জেন্টাইন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি ম্যাচ হেরে কেবল এতটুকুই বললেন, ‘আমি করজোরে ক্ষমা চাই সমর্থকদের কাছে।’ কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এমন ভুলের কি কোনো ক্ষমা হয়! হয় না বলেই সম্ভবত লোকচক্ষুর অন্তরালে ডুব দিচ্ছেন মেসিরা!


আপনার মন্তব্য