শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:২৪

সেই ‘খাটো’ ছেলেটাই বাস্কেটবল কিং

মেজবাহ্-উল-হক

সেই ‘খাটো’ ছেলেটাই  বাস্কেটবল কিং

তুলনামূলক ‘খাটো’ হওয়ার কারণে ভার্সিটি বাস্কেটবল দলে সুযোগ হয়নি তার। উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। বাস্কেটবল দলের সদস্য হিসেবে খাটোই! সে কারণে তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল ফুটবল কিংবা বেসবল খেলার জন্য। কিন্তু সেই ‘খাটো’ ছেলেটিই হয়ে গেলেন বাস্কেটবলের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়!

নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের কথা। বাস্কেটবলে দুনিয়ার যিনি ‘এম জে’ নামে পরিচিত। বাস্কেটবলের প্রায় সব রেকর্ড ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন এই এম জে।

ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনে (এনবিএ) ১৫ মৌসুম তিনি খেলেছেন। এর মধ্যে শিকাগো বুলসের হয়ে ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হন। আরও কত যে পুরস্কার পেয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই।

স্কুলে পড়াকালে একটা সময় জর্ডান নিজেও ভাবছিলেন তাকে দিয়ে বুঝি বাস্কেটবল হবে না। একটাই কারণ, তার ‘কম উচ্চতা’। স্কুল দলে সবচেয়ে খাটো খেলোয়াড় ছিলেন এম জে। তাই ফুটবল ও বেসবল খেলছিলেন পাশাপাশি। যদি কোনো কারণে বাস্কেটবল দলে সুযোগ না পান তাই। তবে সিনিয়র দলে সুযোগ না পেলেও জুনিয়র দলে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে সে বছর আলোচনায় উঠে আসেন জর্ডান। মনে মনে প্রতিজ্ঞাও করে ফেলেন তিনি বাস্কেটবলেই ক্যারিয়ার গড়বেন।

পরিশ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। কীভাবে দ্রুত লম্বা হওয়া যায় সে উপায় খুঁজতে থাকেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পরের মৌসুমেই ৩ ইঞ্চি উচ্চতা বেড়ে যায় জর্ডানের। নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয় দলে সুযোগও পেয়ে যান। প্রথম বছরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন। মাইকেল জর্ডানের উচ্চতা বেড়ে হয়ে যায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। পরবর্তীতে তার উচ্চতা আরও ৪ ইঞ্চি বেড়ে দাঁড়ায় ৬ ফুট ৬-এ।

১৯৮৪ সালে এনবিএর দল শিকাগো বুলসে সুযোগ পেয়ে যান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি জর্ডানকে। বুলসে প্রথম বছরেই সেরা খেলোয়াড় হয়ে যান। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জর্ডানকে পেয়ে তো অভিভূত। দর্শকরা জর্ডানের খেলা দেখে অভিভূত। এম জের ভক্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যায়। সে বছর যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে অলিম্পিকে সোনা জেতেন।

শিকাগো বুলসের হয়ে তিনি প্রথম শিরোপা জেতেন ১৯৯১ সালে। এরপর আরও পাঁচটি শিরোপা জেতেন একই ক্লাবের জার্সিতে। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে এম জে এনবিএর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দেন প্রতি ম্যাচে ৩২.৫ পয়েন্ট স্কোর করে।

১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আবারও অলিম্পিকে অংশ নেন। সেবার আমেরিকার দলটি ছিল সর্বকালের সেরা। যে দলটিকে বলা হতো ‘ড্রিম টিম’! খুব সহজেই অলিম্পিক সোনাও জেতে জর্ডানের দল।

১৯৯৩ সাল ছিল জর্ডানের জন্য খুবই ভয়ঙ্কর সময়। ডাকাতরা তার বাবাকে খুন করে। বাবাই ছিলেন জর্ডানের মেন্টর। তাই বাবাকে হারিয়ে বাস্কেটবলই ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করেন তিনি। অবশ্য খুব কম সময়ের মধ্যে হতাশা কাটিয়ে আবার বাস্কেটবলে মনোনিবেশ করেন। এর পরই যেন আসল ম্যাজিক দেখাতে থাকেন জর্ডান। একের পর এক রেকর্ড ভাঙতে থাকেন। ৪০ বছর পর্যন্ত তিনি বাস্কেটবল খেলেছেন। অবসরে যাওয়ার আগে ১ হাজার ৭২ ম্যাচে ৩০.১ গড়ে তার পয়েন্ট ছিল ৩২,২৯২। ২০০৬ সালে এনবিএর দল শার্লট ববক্যাটসই কিনে নেন জর্ডান। ২০১০ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের ২০ জন ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় ছিল মাইকেল জর্ডানের নাম।


আপনার মন্তব্য