শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:১৩

বীরের বেশে আসছেন মহানায়করা

বর্ণিল সাজে মিরপুর স্টেডিয়াম

আসিফ ইকবাল

বীরের বেশে আসছেন মহানায়করা

অপেক্ষায় গোটা দেশ। রাজকীয় বরণের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। আকবর আলী, মাহামুদুল হাসান, রাকিবুল হাসান, তানজিদ ইমন, শরীফুল ইসলামরা সবাই বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার। বয়স ১৯-এর ঘরে। বিশ্বজয়ী এসব ক্রিকেটার বাংলাদেশের ক্রিকেটের মহানায়ক। দেশের লাখো তরুণের স্বপ্নের ক্রিকেটার। আকবরের নেতৃত্বে টাইগার যুবারা লাল-সবুজ পতাকার বিশ্বজয়ের ইতিহাস লিখেছে নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায়। প্রতিবেশী ভারতকে হারিয়ে আকবর বাহিনী এখন বিশ্বসেরা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ক্রিকেটের মহানায়করা আজ বিকালে দেশে ফিরছেন। তাদের বরণ করতে জনতার ঢল নামবে বিমানবন্দরে। ২৩ বছর আগে ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফিজয়ী আকরাম খানরা যখন দেশে ফিরেছিলেন, তখন যেমন জনতা হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল ইতিহাস রচয়িতা ক্রিকেটারদের দেখতে। আজও ক্রিকেটেপ্রেমীরা হুমড়ি খেয়ে পড়বেন বিশ্বজয়ী ক্রিকেটারদের একনজর দেখতে।

১৯৯৭ সালে আকরামের হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট পথ চলতে শুরু করে। গত ২৩ বছরে পথটি কখনই মসৃণ ছিল না। বন্ধুর পথে টাইগাররা হেঁটেছেন সাফল্য ও ব্যর্থতাকে সঙ্গী করে। ২০২০ সালে আকবরের নেতৃত্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন করে পথ চলার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিশ্ব শাসনের। যুব বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটের মহানায়কদের বরণ করতে আজ বিকালে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও বিসিবি পরিচালকরা উপস্থিত হবেন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে। সেখানে ছোট খাটো একটি সংবর্ধনা দিবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন যুব দলকে। এরপর সেখান থেকে ফুলের সজ্জিত বাসে করে ক্রিকেটাররা আসবেন মিরপুর স্টেডিয়ামে। সেখানে সন্ধ্যায় বিশ্বজয়ী ক্রিকেটাররা কথা বলবেন মিডিয়ায়। ক্লান্তি এড়াতে ক্রিকেটাররা রাতে একাডেমি ভবনে অবস্থান করবেন এবং পরের দিন ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবেন। ক্রিকেটারদের বহনকারী বিমানটিকে ওয়ার্টার স্যালুট  জানানো হবে। এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবি সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন।

যুব বিশ্বকাপ শুরুর সময় ফেবারিটের তালিকায় ছিল না বাংলাদেশ। ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডদের সঙ্গে সমোচ্চারিত ছিল না আকবরদের নাম। কিন্তু আসর শুরুর পর থেকেই দুর্দমনীয় গতিতে ছুটতে থাকেন আকবররা। প্রথম ম্যাচেই টাইগার যুবারা ৯ উইকেটে উড়িয়ে দেয় আফ্রিকান প্রতিনিধি জিম্বাবুয়েকে। দ্বিতীয় ম্যাচে আইসিসি সহযোগী স্কটল্যান্ডকেও পাত্তা দেয়নি। ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় ২০০ বল হাতে রেখে। পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি ভেসে যায় বৃষ্টিতে। কোয়ার্টার ফাইনালে দাঁড়াতেই দেয়নি স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকান যুবাদের। সেমিফাইনালে জায়গা নেওয়ার পর পরই ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বাজি ধরতে শুরু করেন আকবরদের উপর। সেমিতে টাইগার যুবারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় নিউজিল্যান্ডকে। প্রতিপক্ষ ব্ল্যাক ক্যাপস হওয়ার পর ক্রিকেটপ্রেমীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার। কিউই যুবাদের বিপক্ষে কয়েক মাস আগে সিরিজ জিতেছিল তাদের মাঠে। সেই আত্মবিশ্বাসে চাঙ্গা হয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ পাত্তাই দেয়নি নিউজিল্যান্ড যুবাদের। মাহামুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে প্রথমবারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করে। এরপর বাকি সব ইতিহাস। ফাইনালে ফেবারিট ভারতীয় যুবাদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১৭৭ রানের গুটিয়ে দেয়। এরপর ইমনের ৪৭ ও আকবরের ম্যাচসেরা ৪৩ রানে ভর করে ম্যাচ জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।


আপনার মন্তব্য