শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২১ ২৩:৪৪

মার্টিনেজ মাতালেন-কাঁদালেন

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। যেখানে সবার ভাবনা ছিল নায়ক হবেন মেসি। সেখানে হলেন মার্টিনেজ। বিশ্ব চেয়ে দেখেছে এ তরুণ গোলরক্ষকের ম্যাজিক। পোস্ট বা বাইরে নয়। কলম্বিয়ার ২, ৩ ও ৫ নম্বর শর্ট দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে

মার্টিনেজ মাতালেন-কাঁদালেন
Google News

সকালে (কাল) আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ার ম্যাচ দেখে আমার ক্যারিয়ারে অনেক পুরনো স্মৃতি মনে পড়ছিল। গোলরক্ষক ছিলাম বলেই আমার সেরা পারফরম্যান্সগুলো বিশেষভাবে চোখে ভাসছিল। গোলরক্ষক যতই দৃঢ়তার পরিচয় দিক না কেন ম্যাচ জিতলে তাকে ঘিরে খুব একটা আলোচনা হয় না। অথচ হারলে গোলরক্ষককে ঠিকই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। যে গোল করেন তিনি হয়ে যান নায়ক। ১৯৯২ সালে ফেডারেশন কাপে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচ। আমি সেবার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা মোহামেডানের অধিনায়ক। সেমিফাইনালের ম্যাচ। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়।

টাইব্রেকারে টস করার আগে কোচ, ম্যানেজার এমনকি সতীর্থরা বল ঠেকাতে অনেক পরামর্শ দিলেন। কিন্তু আমি তা মাথায় নিচ্ছিলাম না। টেনশনের সময় মাথায় কিছু আসে না। পোস্টে দাঁড়ানোর আগে গোলরক্ষকরা নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন ডান না বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। আমি প্রতিপক্ষের প্রতিটি শর্টের সময় সিদ্ধান্ত নিলাম কোনদিকে বল সেভ করার চেষ্টা করব। পাঁচ শর্টের মধ্যে দুটি বল ঠেকিয়ে মোহামেডানকে ফাইনালে নিয়ে যাই। একবার ডানে আরেকবার বাঁয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। কোচের সব নির্দেশই মানা যায়। কিন্তু টাইব্রেকারের বেলায় তা অচল। এখানে সব সিদ্ধান্তের মালিক গোলরক্ষক।

কোপা আমেরিকায় সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল বড় ব্যবধানে না হলেও নির্ধারিত সময়ে ফাইনালে পৌঁছে যাবেন মেসিরা। কিন্তু গোল দেওয়ার পরই কোপা আমেরিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপাধারী দলটি কেমন যেন বেসামাল হয়ে পড়ে। কলম্বিয়া খুব যে চাপিয়ে খেলছিল তাও নয়। তবু এমন ছন্দ পতনে সমর্থকরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যে ফুটবলার দলের প্রাণ ভোমরা সেই মেসির নিষ্ক্রিয়তা দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরে কলম্বিয়া। এরপর আর্জেন্টিনা জ্বলে উঠলেও নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় গোল করতে পারেনি। কলম্বিয়া তখন রক্ষণভাগ সামলাতে ব্যস্ত।

দেখেন কে কোন দলের সমর্থক সেটা বড় কথা নয়। ফুটবলপ্রেমীরা চাচ্ছিলেন অনেকদিন পর আর্জেন্টিনা ব্রাজিল ফাইনাল হোক। সত্যি বলতে কী আমিও এর বাইরে ছিলাম না। কিন্তু ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ানোয় শঙ্কিত হয়ে পড়ি আর্জেন্টিনার ফাইনাল নিয়ে। কেননা টাইব্রেকারে শক্ত বা দুর্বল বলে কোনো কথা নেই। তারপর ভয়টা ছিল প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক যে ডেভিড। পেনাল্টিতে গোল ঠেকাতে তার জুড়ি নেই। কিন্তু এমিলিয়ানো মার্টিনেজ যে সার্জিও গয়াকোচিয়ার রূপ ধারণ করবে কে জানতো! ১৯৯০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ২টি দুর্দান্ত শর্ট দারুণ সেভ করে ম্যারাডোনাদের সেমিফাইনালে নিয়ে যান গয়াকোচিয়া।

গয়াকোচিয়ার পর আর্জেন্টিনার মহনায়ক আরেক গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। যেখানে সবার ভাবনা ছিল নায়ক হবেন মেসি। সেখানে হলেন মার্টিনেজ। বিশ্ব চেয়ে দেখেছে এ তরুণ গোলরক্ষকের ম্যাজিক। পোস্ট বা বাইরে নয়। কলম্বিয়ার ২, ৩ ও ৫ নম্বর শর্ট দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেলেন ফাইনালে। তার এ বীরোচিত নৈপুণ্য আর্জেন্টিনা যেমন জিতেছে তেমনি আবেগে খেলোয়াড়সহ কোটি কোটি সমর্থক কেঁদেছেন। এখন অপেক্ষা শুধু শিরোপা।

 

* কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া লড়াই তৃতীয়বারের মতো টাইব্রেকারে শেষ হলো। তিনবারই জিতল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেবারও আর্জেন্টিনা জিতেছিল টাইব্রেকারে।

* লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা চারবার মুখোমুখি হয়েছে কলম্বিয়ার। এখনো পর্যন্ত কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি (টাইব্রেকারে জয় বাদ দিয়ে)। চার ম্যাচের তিনটিতেই ড্র করেছে। ১টিতে হেরেছে আর্জেন্টিনা।

* আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ম্যাচে ৪৭টি ফাউল হয়েছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা করেছে ২০টি। কলম্বিয়ান ফুটবলাররা ফাউল করেছে ২৭টি। চলমান কোপা আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ফাউলের ম্যাচ ছিল এটি। কলম্বিয়া-ইকুয়েডর ম্যাচে ফাউল ছিল ৩৫টি।

* লিওনেল মেসি আবারও এসিস্ট করলেন গোলে। চলমান কোপা আমেরিকায় ৪টি গোল করার পাশাপাশি ৫টি গোলে এসিস্ট করেছেন এ আর্জেন্টাইন তারকা।