৩ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৪১

ছেলেকে বলি, 'বাবা, হাসপাতালে আমার ১০ দিনের ডিউটি আছে'

অনলাইন ডেস্ক

ছেলেকে বলি, 'বাবা, হাসপাতালে আমার ১০ দিনের ডিউটি আছে'

করোনা জয় করে কাজে ফিরেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনোয়ারুল ইসলাম। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবার-পরিজন ছেড়ে থেকেছেন হাসপাতালে। মনে সাহস রেখে ১৮ দিনের মাথায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পিপিই, চশমা, হ্যান্ডগ্লাভস, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সব ব্যবহার করেছি। এদিকে অফিস থেকে দেয়া হোমিওপ্যাথি ও অ্যালোপ্যাথি ঔষধ নিয়মিত খেয়েছি। কিন্তু ঠিকই করোনায় আক্রান্ত হই।

তিনি বলেন, গত ২৫ জুন রাত ২টার দিকে হঠাৎ শরীরে জ্বর আসে। সাথে সাথে আমি স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে যে ঘরে ছিলাম তা ত্যাগ করে আলাদা ঘরে চলে যাই। ২৭ জুন সকাল ১০টা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিই। পরের দিন বিকেলে হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানায় আমার করোনা পজিটিভ এসেছে।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ১ জুলাই আমার জ্বর, শরীর ব্যথা, গলায় ব্যথা বেশি শুরু হয়। কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা হাসপাতালে ভর্তির জন্য আমার বাসায় একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো ব্যবস্থা করেন। প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে রওনা দেয়ার আগে ছেলেকে বলি, ‘বাবা, আমার ১০ দিনের ডিউটি আছে। আমি ১০ দিন হাসপাতালে থাকব।’ ছেলে বলে, ‘বাবা তুমি ডিউটি করলে হাসপাতালে কেন, ওইখানে তো রোগীরা থাকে?’ আমি বলি, ‘এবার আমাকে হাসপাতালে ডিউটি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, জীবনে প্রথম রোগী হয়ে অ্যাম্বুলেন্স উঠি। পেছনে ফেলে যাচ্ছি স্ত্রী আর সন্তানকে। মনে ভয়ভীতি কাজ করছে। ডেমরা থেকে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার দিয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ খুব একটা সময় লাগে না। কিন্তু সময়টা বিশাল মনে হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছানো মাত্র আমাকে তেজগাঁও ইমপালস হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমাকে ওষুধ দেয়া হলো। সেগুলো নিয়মিত সেবন করেছি। সকালে ফজরের নামাজের পরই গরম পানিতে লবণ দিয়ে গার্গল। এটা দিনে ৪/৫ বার চলতো। পানিতে লং, এলাচ, গোলমরিচ, দারুচিনি, তেজপাতা ও আদা দিয়ে গরম করে ধোঁয়া নিতাম ৪/৫ বার। কখনো এই মসলা মিশ্রণ গরম পানি লেবু দিয়ে খেতাম। মাঝে মাঝে গ্রিন টি খেতাম। লেবু, মাল্টা, লটকন, আম, আপেল, আমলকি খেয়েছি নিয়মিত। স্বাভাবিক ভাত, মাছ ঠিম, দুধ, ডাল খেয়েছি। গত ৬ জুলাই ইমপালস হাসপাতালে থেকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল আমাদের আনা হয়। এখানেও ওই ওষুধের সঙ্গে গরম পানি চলছিল। আক্রান্ত হওয়ার ১১তম দিন থেকে আস্তে আস্তে খাবারের গন্ধ পেতে শুরু করি। ১৩ জুলাই সকালে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিই। সন্ধার দিকে নেগেটিভ রেজাল্ট আসে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

সর্বশেষ খবর