শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মার্চ, ২০২১ ২৩:২২

বনসাইয়ের পরিচর্যা

বনসাইয়ের পরিচর্যা

ঘরে আভিজাত্য আনে বনসাই। মাত্র চার ঘণ্টা সূর্যের আলো এদের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট। যে কোনো ঘরে দিব্যি মানিয়ে যায়। জেনে নিন ঘর সাজাতে বনসাইয়ের বিস্তারিত-

চীনা শব্দ ‘পেনজাই’ থেকে জাপানি ‘বনসাই’ শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ বামন। বৃক্ষটি জাপানের ঐতিহ্য। ঘর সাজাতে বনসাইয়ের জন্য বেছে নিতে পারেন অর্জুন, চন্দন, বট, অশ্বত্থ, রাধাচূড়া, পেয়ারা, পাকুড় জাতীয় গাছ। এ ছাড়া হতে পারে কমলা, সফেদা, কতবেল, জবা, গন্ধরাজ, বকুল, কামিনী, তেঁতুল, করমচার মতো ফুল ও ফলের গাছ। বিদেশি গাছের মধ্যে হতে পারে ব্ল্যাকপাইন, বক্সউড, ক্যামেলিয়া, রাইডিয়া ইত্যাদি। তবে সে ক্ষেত্রে আবহাওয়ার সঙ্গে যেন তা মানিয়ে নিতে পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

 

দো-আঁশ বা পলিমাটি বনসাইয়ের জন্য সেরা। এর পরিপুষ্টিতে প্রয়োজন জৈবসার। মাটি বদলানোর পর ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সার না দেওয়াই ভালো এবং সারপ্রয়োগ করতে হবে সন্ধ্যার সময়। এতে গাছটি সার শোষণে সময় পাবে। পানি নিষ্কাশন ও গাছের বৃদ্ধি রোধে বিশেষভাবে তৈরি টবেই বনসাই করতে হবে। এই টবের নিচের দিকে পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটি ছিদ্র থাকে, যা গাছের বৃদ্ধি কমিয়ে রাখে। এর জীবনকাল বাড়াতে সূর্যের আলো আসে এমন একটি স্থান বেছে নিতে হবে। এই গাছ অন্য যে কোনো গাছের তুলনায় ভিন্ন হয়, তাই কোনোভাবেই বেশি বেশি পানি দেওয়া যাবে না। বনসাই গাছের মাটি কিছুটা শুকিয়ে গেলেই তবে পানি দিতে হবে। সকালে বা সন্ধ্যায় পানি দেওয়া সব থেকে ভালো। তবে কড়া রোদে পানি দেওয়া যাবে না। আর গাছটি কিছুটা বড় হলে নির্দিষ্ট আকৃতি নির্ধারণ করে তার পেঁচিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে গাছের ডালপালা ও নতুন কুঁড়ি ছেঁটে রাখতে হবে।

 

অন্যান্য গাছ থেকে আলাদা হওয়ায় এর বিশেষ যত্ন দরকার হয়। তাই প্রয়োজন কালো মাটি, বালু বা ইটের চূর্ণ, সরিষা বা ডিমের খোসা ইত্যাদি। নিয়মিত বনসাইয়ের পরিচর্যায় এগুলো ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত পানি বা রোদ এরা সহ্য করতে পারে না। পরিষ্কার রাখতে গাছে নিয়মিত পানি স্প্রে করতে হবে।

লেখা : উম্মে কুলসুম রাহি


আপনার মন্তব্য