শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:৪৩

যুক্তরাষ্ট্রেও হয় সরকারি ধর্মঘট

যুক্তরাষ্ট্রেও হয় সরকারি ধর্মঘট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত রাষ্ট্রেও হয় সরকারি ধর্মঘট। সে দেশের ইতিহাসে চলমান ধর্মঘট রেকর্ড গড়েছে। এই অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং। এই পরিস্থিতিতে পড়ে দেশের সরকারি চাকরিজীবী থেকে যেকোনো পেশাজীবীর মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রেসিডেন্টকে নানাভাবে সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে। আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী উত্থাপিত কোনো বিল অনুমোদনের পক্ষে সিনেটের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষের সিংহভাগের সমর্থন দরকার হয়। কিন্তু এই অনুমোদনে সবার সম্মতি না থাকায় বেঁকে বসেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের উত্থাপিত বিল অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত দেশের অচলবস্থা জারি করেছেন। আমেরিকার ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র অচল করার এমন ঘটনা আরও রয়েছে। বিগত বছরে আমেরিকায় সৃষ্টি হওয়া নানা মেয়াদের অচলাবস্থা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন - তানিয়া তুষ্টি

 

ট্যাক্স বাড়ানোর দাবি

মেয়াদকাল : ২ দিন,

সময়কাল : ৬-৮ অক্টোবর ১৯৯০ সাল

প্রেসিডেন্ট :  জর্জ ডব্লুউ বুশ

১৯৯০ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার দুদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। এটি ৬ অক্টোবর সপ্তাহের শেষের দিন শনিবার কলম্বাস ডে’তে জারি করা হয়, চলে অক্টোবরের ৮ তারিখ পর্যন্ত। শাটডাউনটি করার কারণ ছিল ট্যাক্স বাড়ানো কেন্দ্র করে। ১৯৯১ সালের আগত বাজেটে তিনি ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়াতে চেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট বুশ চেয়েছিলেন ঘাটতি বাজেট পূরণে ট্যাক্ট বাড়াতে। কিন্তু এই ট্যাক্স বাড়ানোর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন হয়। স্লোগান ছিল ‘রিড মাই লিপস: নো নিউ ট্যাক্স’। হাউসের সংখ্যালঘু হুইপ নিউট গিংরিচের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল। ক্যাম্পেইনের কারণে মূলত প্রেসিসেন্টর এই দাবি প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পায় না। সপ্তাহের শেষ দিনে জারি করা শাটডাউনটি ভোগায় ২৮০০ জন শ্রমিককে। এতে রাজস্ব ক্ষতি ও কর্মীদের বেতন হারিয়েছিল ২.৫৭ মিলিয়ন ডলার।

 

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার দাবিতে দেশ অচল

ইস্যু : মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল

শুরু : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮

শেষ : চলমান

ক্ষতির আশংকা : ৬০০ কোটি ডলার।

প্রেসিডেন্ট :  ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়েমির জেরে সে দেশের সরকার ব্যবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা বা শাটডাউন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়ালের বরাদ্দ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছেন। অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে চলমান শাটডাউন ২৫ দিনে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে। অচলাবস্থার কারণে সরকারের এক-চতুর্থাংশ বিভাগ ও সংস্থার আট লাখের বেশি কর্মী বেতন পাচ্ছেন না। এর মধ্যে বহু কর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে দীর্ঘ অচলাবস্থা ছিল ১৯৯৫-৯৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে। সেবার সর্বোচ্চ ২১ দিন অচল ছিল যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ মাইল। দীর্ঘ এই দেয়ালের খরচ কত হবে আর তা কোথা থেকে আসবেÑ এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন, অল্প খরচেই তিনি বিশাল দেয়াল নির্মাণ করবেন। তিনি দাবি করেন, এই দেয়াল তৈরিতে ব্যয় হবে ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। কিন্তু এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা মনে করছেন, এই খরচ ট্রাম্পের হিসাবকে কয়েকগুণ ছাড়িয়ে যাবে। কেননা, মেক্সিকোর সঙ্গে ৬৫০ মাইলজুড়ে থাকা দুর্বল বেড়ার সীমান্ত নির্মাণেই খরচ হয়েছে ৭০০ কোটি ডলারের বেশি। দেয়ালের জন্য বাজেটের অনুমোদন করতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সদস্যদের নিয়ে ট্রাম্প মিটিংয়ে বসেন। তার প্রস্তাবে উভয় পক্ষ একমত হতে না পারায় তিনি অচলাবস্থার ঘোষণা দেন। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের ৬২ শতাংশেরই সীমান্ত দেয়াল প্রশ্নে এই অচলাবস্থার প্রতি সমর্থন নেই। বিপরীতে সমর্থন রয়েছে মাত্র ৩৪ শতাংশ ভোটারের। একই অবস্থা তৈরি হয়েছে সিনেটেও। ট্রাম্প যেমনটি আশঙ্কা করছেন, ঠিক সেভাবেই নিজ দলের অনেক সিনেটর এরই মধ্যে এই অচলাবস্থা নিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। তারা সীমান্ত দেয়াল প্রশ্ন অমীমাংসিত রেখেই সরকার চালুর পক্ষে অবস্থান করছেন। অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হলে রিপাবলিকান সিনেটররা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে বরাদ্দ না পেয়ে গো ধরে বসেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বরাদ্দ ছাড়া কোনো অর্থবাজেটে স্বাক্ষর করবেন না। অন্যদিকে বিরোধী ডেমোক্রেটিক নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভের নেতারা ‘জনগণের করের টাকায়’ ট্রাম্পকে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না দেওয়ার ‘প্রতিজ্ঞা’ করেছেন।

ডিসেম্বরের শেষ দিকে যখন এই অবচলাবস্থার শুরু হয় তখন প্রতিনিধি পরিষদ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন নিম্নকক্ষে ট্রাম্পের দাবি মেনে নিয়ে একটি অর্থবাজেট অনুমোদন পেয়েছিল, যা উচ্চকক্ষ সিনেটে গিয়ে আটকে যায়। এখন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে চলে যাওয়ায় আবার বিপাকে পড়েছেন ট্রাম্প।

কারারক্ষী, বিমানবন্দরকর্মী এবং এফবিআই এজেন্টসহ আরও অনেকগুলো সরকারি সংস্থার কর্মীরা নতুন বছরের প্রথম বেতন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা দাবি জানাচ্ছেন, দেয়াল নয়, আমাদের বেতন চাই। এদিন অনেক সরকারি কর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের খালি ‘পে স্লিপ’র ছবি পোস্ট করেছেন। ব্যস্ততম মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি পুরো টার্মিনাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটি প্রধান লিন্ডসে গ্রাহাম অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও ট্রাম্পকে শাটডাউন তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের গ্রাহাম জানিয়েছেন, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হয়ে থাকলে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হতে হবে। তবে, সব রিপাবলিকান সদস্যের কাছে এই কৌশল পছন্দনীয় নয়।’

দীর্ঘদিনের শাটডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিমানবন্দরের কর্মী, এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রক, এফবিআই কর্মীরাও। এই শাটডাউন চলমান থাকলে জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলমান শাটডাউনের কারণে ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, শাটডাউনের কারণে মার্কিন জিওলোজিক্যাল সার্ভের আট হাজার কর্মীর মধ্যে মাত্র ৭৫ জন এখন কাজ করতে পারছেন। এছাড়া আশঙ্কা করা হচ্ছে এই শাটডাউন মানবিক সহায়তা এবং বৈদেশিক সাহায্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় শঙ্কার বিষয় হলো এটি চলা অব্যাহত থাকলে অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব হবে ভয়াবহ। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তহবিলের সমর্থন অব্যাহত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ভিসা ও পাসপোর্ট ইস্যু অব্যাহত রাখবে। তবে শাটডাউনের প্রভাব শুরু হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত লাখ লাখ কর্মীও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এমনকি বন্দরে কন্টেইনারগুলো অসহায় পড়ে থাকলে রফতানিকারক বা ব্যবসায়ীরা এই শাটডাউনের প্রভাব টের পেতে শুরু করবেন।

 

দ্য ওবামাকেয়ার শাটডাউন

মেয়াদকাল : ১৬ দিন

শুরু : ১ অক্টোবর ২০১৩

শেষ : ১৭ অক্টোবর ২০১৩

প্রেসিডেন্ট : বারাক ওবামা

 

এখনো অনেকের স্পষ্ট মনে আছে ২০১৩ সালে ওবামাকেয়ার শাটডাউনের কথা। এর সূচনা হয়েছিল রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউস থেকে। জনস্বাস্থ্য সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত ‘প্যাসেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ বা ওবামাকেয়ারের জন্য সরকারের কাছে একটি তফসিল প্রস্তাব করেন বারাক ওবামা। কিন্তু সিনেট বিলটি প্রত্যাখ্যান করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বারাক ওবামা শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নেন। এই শাটডাউন ১৬ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে, শাটডাউনের আগেই ৮৫ ভাগ তহবিল বাধ্যতামূলক বাজেটের অংশ হিসাবে ওবামাকেয়ারে যোগ হয়ে গিয়েছিল।

 

ক্লিনটন ভার্সেস গিংরিচ

সময়কাল : ২১ দিন,

শুরু : ১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৫ সাল, শেষ : ৬ জানুয়ারি ১৯৯৬ সাল

প্রেসিডেন্ট : বিল ক্লিনটন, শাটডাউন করেন নিউট গিংরিচ।

 

আমেরিকায় শুধু প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে কয়েকবার দেশে অচলাবস্থা সৃষ্টির ঘটনা আছে। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে ঘটেছিল ভিন্ন ঘটনা। এই সময় হাউসের সংখ্যালঘু হুইপ নিউট গিংরিচের নেতৃত্বে দেশে টানা ২১ দিন অচলাবস্থা চলে। প্রেসিডেন্টকে মেডিকেয়ার, মেডিকেডসহ অন্যান্য সেবাদানমূলক প্রোগ্রামে অনুমোদন দেয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় গিংরিচ সরকারকে বন্ধ করে দেবেন। শেষমেষ ঘটেও তাই। তিনি কেন সরকারকে অচল করার সিদ্ধান্ত নিলেন- এমন প্রশ্নের ব্যাখ্যায় গিংরিস বলেছিলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইয়েতজাক রবিনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বিমান বাহিনীর এক সফরে ক্লিনটন তার সঙ্গে কথা বলেননি। তাকে বিমানের পিছনে থেকে প্রস্থান করার জন্য বাধ্য করা হয়। তারপর যখন গিংরিচ এই বিল উত্থাপন করে তখন ক্লিনটন ভেটো দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গিংরিচ অচলাবস্থার সৃষ্টি করেন। পরে তা আমেরিকার ইতিহাসে দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার রেকর্ড গড়ে।

 

কার্টারের আমলেই চারবার অচল

আমেরিকার প্রথম অচলাবস্থা

প্রথম অচলাবস্থা : ১৯৮০ সাল

ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীর সংখ্যা : ১৬০০

আর্থিক ক্ষতি : ৭ লাখ মার্কিন ডলার

১৯৮০ সালের ১ মে ফেডারেল ট্রেড কমিশন ১ দিনের জন্য অচলাবস্থা জারি করেছিল। এর পেছনে কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছিল কংগ্রেস এজেন্সির জন্য একটি অনুমোদন বিল পাস করতে না পারা। ২৫ এপ্রিল সিভাইলটির মতামত প্রকাশের মাত্র কয়েকদির পরই এটি ঘটেছিল। বাজেট বিতর্ক নিয়ে এটিই আমেরিকার জন্য প্রথম অচলাবস্থা। শাটডাউন কার্যকর করার জন্য ফেডারেল মার্শালকে কিছু বাড়তি সুবিধা দেয়া হয়। এ সময় ১ হাজার ৬০০ কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হন। একদিনের শাটডাউন কার্যকর করতে ৭ লাখ ডলার খরচ হয়।

 

কার্টার ভার্সেস কংগ্রেস

সময়কাল : ১৮ দিন

শুরু : ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮

শেষ : ১৮ অক্টোবর ১৯৭৮

প্রেসিডেন্ট : জিমি কার্টার

১৯৭৮ সালে কংগ্রেস একটি পারমাণুচালিত বিমানের জন্য তহবিলসহ একটি প্রতিরক্ষা বিল পাস করে। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার সেই বিলকে ফেডারেল তহবিলের অপচয় হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তিনি বিলটি ভেটো করে দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে জনসাধারণের প্রকল্প অনুমোদন বিলের সঙ্গেও বিলগুেেলাও হতাশাব্যঞ্জক বলে বিবেচনা করেছিলেন। এছাড়া গর্ভপাতের জন্য ঘোষিত তহবিলও সে সময় সৃষ্টি হওয়া আরেকটি বিতর্কের কারণ ছিল। প্রেসিডেন্ট এই খরচকে অপ্রয়োজনীয় হিসেবে দেখেছিলেন। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ১৯৭৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অচলাবস্থা সৃষ্টি করেন। তার দাবি ছিল, এটি নতুন প্রতিরক্ষা বিলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

 

দ্য অ্যাবরসন শাটডাউন

সময়কাল : ১২ দিন

শুরু : ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭

শেষ : ১৩ অক্টোবর, ১৯৭৭

প্রেসিডেন্ট : জিমি কার্টার

যদিও সে সময় সিনেট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ছিল ডেমোক্র্যাটদের। তবুও ১২ দিনের সরকার অচল মেনে নিতে হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর ১৯৭৭ পর্যন্ত চলে এই অচলাবস্থা।  মাদকাসক্ত ব্যতীত, গর্ভপাতের জন্য মেডিকেড ডলার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হাউস জোর দিয়েছিল। অপরদিকে সিনেট ধর্ষণ ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে ভাতা বরাদ্দ করতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত, হাউস জিতে যায় এবং মেডিকেড নিষেধাজ্ঞা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত রাখে। পরবর্তী মেডিকেডের মাধ্যমে গর্ভপাতের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিষয়ে হাউস এবং সিনেটের মধ্যে এই চুক্তি হয়। অবশেষে, ৯ ডিসেম্বরে একটি চুক্তি প্রবর্তিত হয়েছিল, যেখানে মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে ধর্ষণ ও অনাচারের বিষয়ে মায়েরা জীবন বিপন্ন হয়ে ওঠার জন্য মেডিকেডকে অর্থ প্রদানের অনুমতি দেয়।

 

কংগ্রেসের উচ্চ বেতন দাবি ও গর্ভপাত কমানো

সময়কাল : ১১ দিন

শুরু : ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৯

শেষ : ১২ অক্টোবর ১৯৭৯

প্রেসিডেন্ট : জিমি কার্টার

রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টারের সময়ে গর্ভপাতের তহবিলের ওপর একটি আইন উত্থাপন করা হয়। এই আইনে দেশে গর্ভপাতের জন্য রাখা বরাদ্দ কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়। তবে যেখানে মায়েদের জীবন বিপন্ন ও অসহায় নারীর ক্ষেত্রে আগের মতোই সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা রাখার কথা সেই আইনে ছিল। এছাড়া কংগ্রেসিয়াল এবং সিনিয়র সিভিল সার্ভিস হোল্ডারদের বেতন বাড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সিনেট এই দুই প্রস্তাবেরই বিরোধিতা করে। ফলে জিমি কার্টার অচলাবস্থার সৃষ্টি করেন। এটি ১৯৭৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অবশেষে হাউস তার বেতন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল কিন্তু আপসের ক্ষেত্র ধর্ষণ এবং বর্বর ক্ষেত্রে গর্ভপাত তহবিল রাখতে হয় আগের মতোই।

 

আমেরিকায় একদিনের যত অচলাবস্থা

আমেরিকায় একদিনের অচলাবস্থা হয় মোট ৪টি। জিমি কার্টারের আমলে ১৯৮০ সালে ১ বার। রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে ১৯৮১, ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে তিনটি একদিনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

সাবেক যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময়ে বেশ কয়েকবার সরকারি ধর্মঘটের জন্য অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এই ধর্মঘটের সময়সীমা দীর্ঘ হওয়ার রেকর্ড না গড়লেও তার সময়েই বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বারবার ধর্মঘট হওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল। দেশে বিভিন্ন সময়ে রোনাল্ড রিগ্যানের বিল পাস করা নিয়ে এই সংকট দেখা দেয়। জনগণের পক্ষে আনীত বিলের পক্ষে প্রেসিডেন্টের অবস্থান থাকলেও সিনেট তাতে সায় দিচ্ছিল না। এতে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

১৯৮১, ১৯৮৪ এবং ১৯৮৬ সালে কয়েক হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই ধর্মঘটের ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে প্রথম অচলাবস্থা দেখা দেয় ১৯৮১ সালের ২৩ নভেম্বর। প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার সরকারি কর্মকর্তা ধর্মঘটের ডাক দেন। সরকারি অর্থছাড় বিলে রিগ্যানের সই করা এবং না করা নিয়ে সংকটের দেখা দেয়। রিগ্যান চাচ্ছিলেন, ব্যয় বিলে কাটছাঁট করতে। কিন্তু তা জনগণের পক্ষে মেনে নেয়া হচ্ছিল না। তখন প্রেসিডেন্ট নিজের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করতে সচেষ্ট হন। এতে দেশে অসন্তোষের দেখা দেয়। এই বিলের প্রতি প্রেসিডেন্টের সম্মতি অর্জনে সে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মঘট করেন। ধর্মঘটে ৮০ থেকে ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ এবং অন্যান্য খরচ বাবদ এই বিলে হাত দিতে হয়। যদিও সরকারি বহু প্রতিষ্ঠান এ সময় খোলা ছিল।

দ্বিতীয় ধর্মঘট দেখা দেয় ১৯৮৪ সালের ৪ অক্টোবর। একবেলা কাজ বন্ধ রাখেন প্রায় ৫ লাখ সরকারি কর্মকর্ত ও কর্মচারী। এবারের বিলটি ছিল নাগরিক অধিকার এবং কয়েকটি পানি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে। রিগ্যান এই বিলগুলো নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখোমুখি সংকটে জড়িয়ে পড়েন। এই সংকট কাটাতে পরিশোধ করতে হয়েছিল প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তৃতীয় ধর্মঘটের দেখা দেয় ১৯৮৬ সালের ১৭ অক্টোবর। এবারও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একবেলা কাজ বন্ধ রাখেন। ৫ লাখ কর্মচারী এই ধর্মঘটে নেমেছিলেন। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছিল প্রায় ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া জিমি কার্টারের আমলে ১৯৮০ সালের ১ মে একদিনের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়।


আপনার মন্তব্য