শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২১ ২২:১৪

বিশ্বের প্রাচীন যত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

সাইফ ইমন

বিশ্বের প্রাচীন যত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

সবচেয়ে প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান কঙ্গো গুমি কোম্পানি লি.

বয়স : ১৪৪৩ বছর

৫৭৮ খ্রিস্টাব্দ, শিগেমিৎসু কঙ্গো নামের এক কোরিয়ান অভিবাসী জাপানে পাড়ি জমান। তখন দেশটিতে বৌদ্ধ ধর্মের উত্থান ঘটে। শিতেনো-জি বৌদ্ধমন্দির নির্মাণের জন্য রাজকুমার শোটোকুর কাছ থেকে দায়িত্ব পান এই অভিবাসী। তার হাত ধরে ওসাকার বুকে নির্মিত হয় জাপানের প্রথম ও প্রাচীনতম বৌদ্ধমন্দির। মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি এই কাজকে পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত করার কথা ভাবলেন শিগেমিৎসু। তখন প্রতিষ্ঠিত হলো ‘কঙ্গো গুমি কোম্পানি লিমিটেড’। যা জাপানের ইতিহাসে কনস্ট্রাকশন বা ভবন নির্মাণকারী প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। এরপর ঘটে গেছে নানা ঘটনা। কিন্তু থামেনি প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি ২০০৪ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় ৬০ মিলিয়ন ডলায় ছাড়িয়েছিল। তবে ২০০৬ সালে দেনায় পড়ে এটি তাকামাতসু কনস্ট্রাকশন গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। সংকটের আগে এর শতাধিক কর্মী ছিল ও বার্ষিক বাজেট ছিল প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার।  প্রতিষ্ঠানটি আজও জাপানে নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করে আসছে।

 

প্রাচীনতম হোটেল নিশহিয়ামা অনসেন কেইউনকান

বয়স : ১৩১৬ বছর

ধারাবাহিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১১ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড বুক রেকর্ড গড়ে জাপানের প্রাচীনতম হোটেল নিশহিয়ামা অনসেন কেইউনকান। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হোটেলটি জাপানের হায়াকাওয়া শহরে অবস্থিত একটি হট স্প্রিং হোটেল। একই পরিবারের ৫২ প্রজন্ম ১৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে। জানা গেছে, আমেরিকান সংবিধান স্বাক্ষর হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৮৩ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছে। এখানকার বিখ্যাত অতিথিদের মধ্যে সামুরাইদের পাশাপাশি টোকুগাওয়া আইয়াসু, ক্রমবর্ধমান সূর্য ভূমি প্রথম শোগুন এবং ৪৬তম সম্রাট কৌকেনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

হোটেলটির কক্ষ সংখ্যা ৩৭টি এবং এখানে প্রাকৃতিকভাবে গরম পানির ৬টি ঝরনা রয়েছে। হোটেলটি আকাইশি পর্বতমালার গা ঘেঁষে অবস্থিত এবং এর গরম পানির উৎস পার্শ্ববর্তী হাকুহো স্প্রিংস।  তাই এর পানি প্রাকৃতিকভাবেই গরম।

 

স্বপ্নে দেবতারা এসে বলেছিল বিখ্যাত কোমানের কথা

বয়স : ১৩১৩ বছর

জাপানে হোটেলটি ‘সেনেন ন ইয়ো কোমান’ নামে পরিচিত। এটি বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান এবং জাপানের ঐতিহ্যবাহী হোটেল। ৭০৭ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি জাপানের হায়োগো প্রদেশের বিখ্যাত রিসোর্ট শহর কিনোসাকি ওনসেনে অবস্থিত। জাপানের জনপ্রিয় হট স্প্রিং হোটেলগুলোর একটি এই ‘সেনেন ন ইয়ো কোমান’ এবং এর প্রতিষ্ঠাতা গনোকামি হিউক। স্থাপনাটি সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি। ২০১৩ সালে হোটেলটি ১৩০০ বছর পূর্ণ করেছে। হোটেল তৈরির পেছনে রয়েছে এক আধ্যাত্মিক ঘটনা। জনশ্রুতি আছে, গনোকামি চার দেবতাকে স্বপ্ন দেখে হোটেল ব্যবসায় শুরুর অনুপ্রেরণা পান। একেকবার একেকজন দেবতা এসে তাকে স্বপে দেখা দেয়। যুবক বয়স থেকেই গনোকামি ছিলেন চিন্তাশীল। এক সময় তিনি আধ্যাত্মিক চর্চায় জড়িয়ে পড়েন। স্বপ্নে দেবতারা নাকি বলেছিলেন, পরিবারকে বংশপরম্পরায় রক্ষার জন্য তাকে অবশ্যই এই জায়গায় থাকতে হবে। গনোকামি হোটেল নির্মাণ করেন এবং হোটেলের ভিতরে রাখেন দেবতাদের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি মন্দির। বংশপরম্পরায় আজও ঐতিহাসিক হোটেলটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

 

হোশি রিওকান হোটেল

বয়স : ১৩০৩ বছর

হোশি রিওকান হলো জাপানের আরেকটি ঐতিহাসিক হোটেল, যা দেশটির ইশিকাওয়া প্রদেশের কোমাৎসু অঞ্চলের আওয়াজু অনসেনে অবস্থিত। ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি ৭১৮ খিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। ২০১৮ সালে জাপানের বিখ্যাত হোটেলটি ১৩০০ বছর পূর্ণ করেছে। এটি বিশ্বের তৃতীয় এবং প্রাচীনতম হোটেল হিসেবে আজও সগৌরবে টিকে আছে। এটি জাপানে ‘স্পা হোটেল’ হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। হোটেলটি কেবল পুরনোই নয়, এর উৎসও ঐশ্বরিক। জনশ্রুতি অনুসারে, হাকুসান পর্বতের দেবতা একজন বৌদ্ধ পুরোহিতের সঙ্গে দেখা করেন। দেবতা পুরোহিতকে কাছের কোনো গ্রামে ভূগর্ভস্থ গরম পানির ঝরনার সঙ্গে একটি বাড়ি নির্মাণ করতে বলেন। পুরোহিত সেই ঝরনার উৎস খুঁজে পেলেন এবং তার শিষ্য গ্যারিও স্যাসকিরিকে অনুরোধ করেন, সেখানে বসবাসের। আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তৈরির কথাও বলেন সেই আধাতিক গুরু। জাপানে তার পরিবার হোশি নামে পরিচিত। সেই থেকে কোমাৎসু অঞ্চলে অবস্থিত হোশি রিওকান হোটেলটি একই পরিবারের মালিকানায় ৪৬ প্রজন্ম ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।

 

গেন্ডা শিগিও পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ

বয়স : ১২৫০ বছর

বিখ্যাত প্রতিষ্ঠাটির বয়স ১২৪৭ বছর এবং এর প্রতিষ্ঠাকাল ৭৭১ খ্রিস্টাব্দ। এটি জাপানের প্রাচীনতম পেপার শিল্প (কাগজ তৈরি করা) প্রতিষ্ঠান। যার নাম গেন্ডা শিগিও পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ। এক হাজারের বেশি সময় ধরে অন্যান্য নানা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখনো চালু রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাচীন পদ্ধতিতে কাগজ উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ছিল বেশ দক্ষ। কালের বিবর্তনে তারা অনেক পরে আধুনিক পদ্ধতিতে কাগজ উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অফিস কিয়োটো ইম্পেরিয়াল প্রাসাদ এবং নিজো ক্যাসেলের মধ্যে রয়েছে। শুরুটা কাগজ উৎপাদন দিয়ে হলেও পরে প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশনা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে প্রিন্টিং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নানা ধরনের বড় বড় কাজ করে আসছে। তারা কাগজ উৎপাদনের পাশাপাশি বিয়ের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কার্ড তৈরি করে থাকে। এ ছাড়া মিজুহিকি নামক বিশেষ কাগজ দিয়ে উপহারের মোড়ক তৈরির জন্যও খ্যাত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শত শত বছর ধরে সমগ্র জাপানজুড়ে কাগজের চাহিদা পূরণ করে আসছে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান গেন্ডা শিগিও পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ। 

 

রেস্তোরাঁ ব্যবসার প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান সেন্ট পিটার

বয়স : ১২১৮ বছর

নাম সেন্ট পিটার স্টিফস্কেলার, যা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন রেস্তোরাঁ। প্রতিষ্ঠানটিকে ইউরোপের প্রাচীনতম রেস্তোরাঁ বলেও মনে করা হয়। এটি বিশ্বের ষষ্ঠতম প্রাচীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রথম প্রতিষ্ঠান, যা জাপানের বাইরে অবস্থিত। অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ শহরে স্টিফস্কেলার সেন্ট পিটার রেস্তোরাঁটি অবস্থিত। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৮০৩ খ্রিস্টাব্দে। সেই হিসাবে রেস্তোরাঁটির বয়স ১১৯৭ বছর। ঐতিহাসিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির আশপাশে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। যার সুবাদে বিশ্বের নানা জায়গা থেকে এখানে বেড়াতে আসেন পর্যটকরা। ইতিহাসখ্যাত অনেক ব্যক্তিবর্গের পায়ের ছাপ পড়েছে এই স্টিফস্কেলার সেন্ট পিটার হোটেলে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েক শতাব্দীতে এখানে ক্রিস্টোফার কলম্বাস এবং উলফগ্যাং অ্যামাদিউস মোজার্টসহ বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তি এসেছিলেন। জানা গেছে, কয়েক  শতাব্দী আগে নেপোলিয়নের আক্রমণের জন্য কর্তৃপক্ষ রেস্তোরাঁটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাই এটি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত রেস্তোরাঁ নয়।

 

জার্মানির নানা ঘটনার সাক্ষী স্টাফেল্টার হাফ ওয়াইনারি

বয়স : ১১৫৯ বছর

স্টাফেল্টার হাফ ওয়াইনারি জার্মানির ছোট্ট ক্রিভ শহরে বংশপরম্পরায় পরিচালিত গেস্ট হাউস এবং ওয়াইন শপ। যা দেশটির রাইনল্যান্ড প্যালাটিনেটের বার্নকাস্টেল-উইটলিচ প্রদেশে অবস্থিত। বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকাল ৮৬২ খ্রিস্টাব্দ। ১৯৬০ সালে বর্তমান গেস্ট হাউসটি নির্মাণ করা হয়েছিল। যেখানে আছে বিশাল ৪টি কক্ষ এবং একটি অ্যাপার্টমেন্ট। এগুলো পরিচালনা করছেন গার্ড ক্লিনের স্ত্রী এবং জেন ক্লেইনের মা হিলডেগুন্ডে ক্লেইন। গেস্ট হাউসটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটিতে এক সময় রোমান সৈন্যরা মদ কিনতে আসতেন। সেই রোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে ঠিকই, তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো টিকে আছে ছোট্ট ক্রিভ শহরে। ধারণা করা হয়, এটি মদের জন্য বিখ্যাত। সেই থেকে আজও এটি গেস্ট হাউস এবং ওয়াইন তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে স্টাফেল্টার কর্তৃপক্ষ আঙ্গুরের চাষ করে থাকে। আর তা থেকে তৈরি করা হয় ওয়াইন। হিটলারের উত্থান-পতন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই গেস্ট হাউস।

 

বছরে বিলিয়ন মুদ্রা তৈরি করে রয়্যাল মিন্ট

বয়স : ১১৩৫ বছর

যুক্তরাজ্যের ‘রয়্যাল মিন্ট’কে কে না চেনে! এটি দেশটির প্রাচীন মুদ্রা (টাকা) তৈরির কারখানা। ৮৮৬ খিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা যুক্তরাজ্যে অবস্থিত সবচেয়ে পুরনো টাঁকশাল। বর্তমানে এখান থেকে বছরে ৫ বিলিয়ন মুদ্রা তৈরি হয়ে থাকে। দেশটির প্রচলিত নোটে রয়েছে প্রাচীন সেই টাঁকশালের ছবি।

দেশটির সরকার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে মুদ্রা তৈরি করে আসছে। অসংখ্য ব্রিটিশ নাগরিকের কর্মসংস্থানের স্থান এটি। এর প্রধান কাজ- দেশের মুদ্রা ব্যবস্থার জন্য ধাতব মুদ্রা তৈরি করা। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য ভবনটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। অনেকে এটাকে জাদুঘর হিসেবেই চেনেন। এখানে গেলে মিলবে কীভাবে বছরের পর বছর পরিবর্তিত ব্রিটিশ পাউন্ড বর্তমান অবস্থানে এসেছে। জনসাধারণের জানার ব্যবস্থা রয়েছে মুদ্রা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে। হাজার বছর ধরে নানা সদর দফতরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে রয়্যাল মিন্ট। মুদ্রার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি মেডেলও তৈরি করে থাকে।

 

জাপানের নাকামুরা শাজি

বয়স : ১০৫১ বছর

জাপানে জনপ্রিয় ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাকামুরা শাজি। দেশটির ভারী স্থাপনা নির্মাণ এবং ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান এটি। ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নানা চড়াই-উতরাই পেরোনো প্রাচীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম নাকামুরা শাজি। অনেক আগে থেকেই ভবন নির্মাণের জন্য সুনাম অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যা আজও সগৌরবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সমগ্র জাপানজুড়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত বিখ্যাত সব মন্দির ও স্থাপনা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করেছে অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন বাড়িঘর। এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত বাড়িঘরগুলো তৈরি করা হয় ভূমিকম্প প্রতিরোধী ব্যবস্থায়। প্রতিষ্ঠানটির বয়স হাজার বছর পেরোলেও এটিই বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নয়। তবে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ভবন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাপানের বিখ্যাত ‘নাকামুরা শাজি’ ভবন নির্মাণ শিল্পে এখন সবচেয়ে পুরনো প্রতিষ্ঠান।

 

শুমিয়া শিনবাতসুগুতেন

বয়স : ৯৯৭ বছর

এটি জাপানের ধর্মীয় পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। যার নাম শুমিয়া শিনবাতসুগুতেন। জানা গেছে, ১০২৪ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় পণ্য তৈরিতে এর জগৎখ্যাত সুনাম আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এক হাজার বছর ধরেই প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় পণ্য তৈরি করে আসছে বলে এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং কল্যাণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত একটি প্রতিষ্ঠান। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ থেকে ৫০০ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে গৌতম বুদ্ধ জীবিত ছিলেন। সেই প্রাচীন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের ব্যবহার্য নানা পোশাক ও অন্যান্য দ্রব্য তৈরির কাজ করত প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। সেই থেকে আজ অবধি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বৌদ্ধ ধর্মীয় পোশাক, সাজসজ্জা ইত্যাদি উৎপাদন করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। হাজার বছর আগের সন্ন্যাসীরা যেসব পণ্য কিনেছিলেন ঠিক তাদের মতোই পণ্য কিনতে পারেন এখান থেকে। যেমন রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মীয় পূজার বেদি, কুঠি ও অন্যান্য ধর্মীয় সাজসজ্জা।


আপনার মন্তব্য