শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০২১ ২২:১৯

করোনা নেই যেসব দেশ ও অঞ্চলে

আ ব দু ল কা দে র

চীনের উহানে উৎপত্তি করোনাভাইরাসের। যদিও সে সময় ভাইরাসটি আবদ্ধ ছিল চীন দেশেই। তবে কয়েক সপ্তাহ পর এটি বিশ্ব মহামারী আকার ধারণ করে। আজ বিশ্ববাসী করোনাভাইরাস সংক্রমণের রেকর্ড দেখছেন। ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়া দাপিয়ে বেড়ানো করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউয়ে আগের চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তবে বিশ্বের এমন কিছু দেশ ও অঞ্চল রয়েছে, যেখানে মহামারীর শুরু থেকে আজ অবধি নেই কোনো করোনা সংক্রমিত রোগী।  ভাইরাসের দেখা নেই, তবুও দেশগুলো নিয়েছে সর্বোচ্চ সুরক্ষা ব্যবস্থা।

 

যেসব দেশ এখনো করোনামুক্ত


বিশ্বজুড়ে দেশগুলো কভিড-১৯ সংক্রমণে রেকর্ড সংখ্যা দেখছে। ইতালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে মহামারীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ (ধাপে) আগের সময়ের চেয়ে পার করছে খারাপ সময়। তবে কিছু দেশ ও অঞ্চল আছে, যারা ২০১৯ সালে মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই রুখে দিয়েছে করোনাভাইরাস। ২০২১ সালের এপ্রিলের শেষ নাগাদও এসব দেশ বা অঞ্চলগুলোয় মেলেনি কভিড-১৯ রোগী।

জাতিসংঘের ১৩৯টি সদস্য দেশ রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বশেষ তথ্যানুসারে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪টি দেশ ও অঞ্চল রয়েছে, যেখানে কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা শূন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ইউএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। তারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে বলেছে, এশিয়া, প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরীয় ১৪টি দেশ বা অঞ্চলে এখনো কভিড-১৯ সংক্রমণ দেখা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কোনো কোনো দেশে সম্ভবত কভিড-১৯ সংক্রমণ ঘটেছে, কিন্তু তা ধরা পড়েনি বা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

করোনামুক্ত দেশ বা অঞ্চলগুলোর মধ্যে ১২টি প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র। সম্ভবত সমুদ্রবর্তী দ্বীপরাষ্ট্র হওয়ার সুবিধাই ভোগ করছে রাষ্ট্রগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলগুলোর করোনাকালীন কঠোর ভ্রমণনীতি শূন্য সংক্রমণের সাফল্যের চাবিকাঠি, যা সমুদ্রবর্তী অন্যান্য দেশ বা অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে ভালো ফলেনি।

এসব দেশ ও অঞ্চলগুলোর প্রতিবেদনে যদিও কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা শূন্য দেখিয়েছে, তবে তারা অস্বীকার করেনি যে, কিছু সংক্রমণ পরীক্ষার আড়ালে থেকে যেতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নোটের হিসাব অনুযায়ী, বিশেষ করে দুটি দেশ- উত্তর কোরিয়া ও তুর্কমেনিস্তান। দেশ দুটোর প্রকাশিত স্বাস্থ্য তথ্যের যথার্থতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংশয় তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আশঙ্কা করেছিল, সম্ভবত পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় বিশ্বের অনেক দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। যেমন- উত্তর কোরিয়া। সরকারিভাবে দেশটি দাবি করছে সংক্রমণ শূন্য। আবার এটাও সত্য, কোনো কোনো দেশ বা অঞ্চলে সম্ভবত করোনাভাইরাস পৌঁছেনি। কারণ হিসাবে দেখা হচ্ছে- রাষ্ট্রগুলো একেবারেই ক্ষুদ্র এবং দ্বীপ রাষ্ট্র। তবে বিশ্বের সবচেয়ে কম লোক যাতায়াত করে, এমন ১০টি দেশের মধ্যে সাতটিই করোনাভাইরাসমুক্ত। দেশগুলোতে করোনা না পৌঁছানোর অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হতে পারে দুর্গমতা। দ্বীপরাষ্ট্র হওয়ায় সেখানে লোকজনের যাতায়াত কম। ঘনবসতিও নেই। ফলে সেখানকার বাসিন্দারা এমনিতেই স্বেচ্ছা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করেন। তাই সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা সহজ হয় এসব দেশে। এরপরও এসব দেশের অনেকগুলোর সরকার করোনা মোকাবিলায় আগেভাগে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে করোনার উৎপত্তি হওয়ার পর এসব দ্বীপরাষ্ট্রগুলো কোয়ারেন্টাইন ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুসারে এশিয়ার উত্তর কোরিয়া ও তুর্কমেনিস্তানে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়নি। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিরিবাতি, টুভ্যালু, টোঙ্গা, টোকেলাউ, পিটকেয়ারন্স আইল্যান্ড, কুক আইল্যান্ড, নাউরু, পালাউ, নিউই, আমেরিকান সামোয়া ও মাইক্রোনেশিয়া দ্বীপরাষ্ট্রে করোনা রোগী নেই। আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের সেন্ট হেলেনায়ও এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমিত কোনো রোগী দেখা যায়নি।

২০২০ সালের মার্চ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা করোনাভাইরাসকে মহামারী ঘোষণার পর এসব দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ দেশ অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে এদের মধ্যে কিছু দেশ মহামারীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাক্কালে ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেও, ভাইরাস রুখতে গ্রহণ করেছে নানা পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কভিড-১৯ মহামারী রুখে দিতে ছোট্ট এসব দ্বীপরাষ্ট্রগুলো শুরু থেকেই যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে- তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আর এখন পর্যন্ত দেশগুলোর সবচেয়ে সেরা কাজ হবে- যত দিন তাদের অঞ্চলে কভিড-১৯ টিকা পৌঁছে না যায় তত দিন আক্রান্তের  সংখ্যা শূন্য রাখা।

 

টুভ্যালু

কভিড-১৯ টিকা : টিকা প্রদান প্রক্রিয়াধীন।

অস্ট্রেলিয়া এবং হাওয়াইয়ের মধ্যবর্তী দ্বীপরাষ্ট্র টুভ্যালু। এটি অস্ট্রেলিয়ার উপকূল থেকে ৩,৪০০ কি.মি. এবং হাওয়াই উপকূল থেকে ৪,২০০ দূরে অবিস্থত। ৮টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত টুভ্যালুর ৫টি এটল (উপহ্রদ বেষ্টনী প্রবালপ্রাচীর)। ১০ বর্গমাইলের অঞ্চলটিতে ১০ হাজার মানুষের বসবাস। স্বাধীন রাষ্ট্রটি কমনওয়েলথের সদস্য। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কভিড-১৯ প্রতিরোধে সাফল্য দেখায় দেশটির সরকার। তবে যারা কভিড-১৯ টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন,  তারা দেশটিতে ভ্রমণ করতে পারবে। আবার সে ক্ষেত্রে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। কিছু ক্ষেত্রে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা রেখেছে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদফতর।

 

তুর্কমেনিস্তান

কভিড-১৯ টিকা : মোট ৪১,৯৯৩ জন কভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেছেন।

ভৌগোলিক অবস্থানভেদে মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্র তুর্কমেনিস্তানে শূন্য সংক্রমণ বিশ্ব পরিম-লে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একটি মাত্র মহাদেশ ছাড়া সবগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত তুর্কমেনিস্তান। ৮০ ভাগ মরুভূমির দেশটিতে মাত্র ৫৮ লাখ মানুষের বসবাস। মহামারীর দেড় বছর পার হলেও, দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে কভিড-১৯ সংক্রমণের খবর প্রকাশ করেনি। দেশটির স্বাস্থ্যসেবা শুরু থেকেই অযোগ্য। সত্য গোপন করার ইতিহাস রয়েছে দেশটির। ১৯২০ সালে প্লেগের সময় তারা তথ্য গোপন করেছিল। যদিও দেশটি সব রকম বাণিজ্যিক ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা রেখেছে। মহামারীর প্রাক্কালে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ১৫১ জন দেশি-বিদেশি লোককে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। যদিও তাদের কারও মধ্যে করোনা পজিটিভ ধরা পড়েনি। দেশটির ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোয় সব ধরনের জমায়েতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি সব নাগরিককে মাস্ক পরিধানে উৎসাহিত করে আসছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

টোঙ্গা

কভিড-১৯ টিকা : মোট ৪,১৯৮ জন কভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেছেন।

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গা। প্রায় ১৭০টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গা, যার মধ্যে ৩৬টি সম্পূর্ণ জনবসতিপূর্ণ। দেশটির উত্তর-পশ্চিমের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ফিজি, উত্তরে সামোয়া এবং উত্তর-পূর্বে নিউই রাষ্ট্র। জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রাথমিক পর্যায়ে দেশটি করোনাভাইরাসের সম্মুখীন হয়েছিল। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ তীরে ভিড়ানো জাহাজগুলোকে দূরে রেখেছিল। পাশাপাশি দেশটির কর্তৃপক্ষ দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণেই দেশটিতে কভিড-১৯ প্রবেশ করতে পারেনি। ভ্রমণে ইচ্ছুক যাত্রীদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। করোনাভাইরাস রুখে দিতে দেশজুড়ে সাময়িক লকডাউনও কার্যকর করেছিল কর্তৃপক্ষ। প্রেস অ্যাসোসিয়েটেডের তথ্য মতে, দেশটিতে এখনো কোথাও কোনো কভিড-১৯ সংক্রমিত রোগী দেখা যায়নি।

 

টোকেলাউ

কভিড-১৯ টিকা : এখনো গ্রহণ করেননি

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটি তিনটি গ্রীষ্মম-লীয় প্রবাল দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। দেশটি পার্শ¦বর্তী রাষ্ট্র নিউজিল্যান্ডের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। নিউজিল্যান্ড ও টোকেলাউ সরকার, উভয়কে একটি জাতি মনে করে থাকে। ৪ বর্গমাইলের দেশটির তিনটি এটল (উপহ্রদ বেষ্টনী প্রবালপ্রাচীর) নিয়ে গঠিত। মাত্র ১৫ জনসংখ্যার টোকেলাউয়ে নেই কোনো বিমানবন্দর। দেশটিতে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জাহাজ। দেশটিতে কভিড-১৯ সংক্রমিত রোগী নেই, তবে পাশের রাষ্ট্র সামোয়ায় দুজন সংক্রমণ দেখা যায়। টোকেলাউ সরকার দেশটিতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দেয়। বহিরাগতদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পালনে উৎসাহিত করা হয়। কভিড-১৯ প্রতিরোধের দেশটির সরকার একটি পুরাতন হোটেল পুনর্নির্মাণ এবং একটি বিদ্যালয়কে কভিড-১৯ রোগীদের আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রেখেছে।

 

সেন্ট হেলেনা

কভিড-১৯ টিকা : মোট ৪,৫৭২ জন কভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেছেন।

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ব্রিটিশ অঞ্চল শাসিত রাষ্ট্র সেন্ট হেলেনা। দেশটি বিশ্বে প্রাচীনতম দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। দ্বীপরাষ্ট্রটির পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ১,২০০ মাইলের বেশি দূরে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলবর্তী অঞ্চল রিও ডি জেনিরো থেকে ২,৫০০ মাইল পূর্বে অবস্থিত। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরীয় আগ্নেয়গিরির নামে দ্বীপরাষ্ট্রটির নামকরণ করা হয়েছিল। চতুর্দিকে ১০ মাইল ও ৫ মাইল পরিবেষ্টিত দ্বীপটিতে বসবাস করে প্রায় ৪,৫০০ মানুষ। জানা গেছে, ১৫০২ সালে পর্তুগিজদের দ্বারা আবিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি জনশূন্য ছিল। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ইতিপূর্বে দুজন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যারা দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন কভিড-১৯ থেকে। এরপর থেকে কঠোর সুরক্ষা নীতি মেনে চলছে দেশটির সাধারণ মানুষ। দেশটিতে প্রবেশের জন্য প্রত্যেককে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হয়।

 

পিটকেয়ারন্স আইল্যান্ড

কভিড-১৯ টিকা : এখনো গ্রহণ করেননি

দিগন্ত বিস্তৃত প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানের এই ছোট্ট দ্বীপটির আয়তন ৫০ বর্গ কি.মি.। চারটি আগ্নেয়গিরি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দ্বীপরাষ্ট্র পিটকেয়ারন্স দ্বীপপুঞ্জ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের একমাত্র রাজ্য যার পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিটিশরা। তবে মজার ব্যাপার হলো ইংল্যান্ডের অধীনে থাকা দ্বীপটির জনসংখ্যা মাত্র ৪৭ জন। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার অঞ্চল এটি। বাসিন্দাদের সবাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, প্রাথমিকভাবে তাহিতিয়ান এবং ব্রিটিশ বিদ্রোহী সংগঠন থেকে আগত। যিনি ১৭৯০ সালে পিটকেয়ারন্স এসেছিলেন। দেশটিতে কভিড-১৯ সংক্রমণ না থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপরাষ্ট্রটিকে কভিড-১৯ সংক্রামক রোগের সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রেখেছে। পাশাপাশি ব্রিটিশদের তত্ত্বাবধানে থাকা দেশটির সবাইকে মাস্ক পরিধানে উৎসাহিত করে আসছে।

 

উত্তর কোরিয়া

কভিড-১৯ টিকা : টিকা প্রদান প্রক্রিয়াধীন।

একদিকে চীন। করোনার উৎপত্তিস্থল। অন্য দিকে দক্ষিণ কোরিয়া। করোনা আক্রান্ত দুই দেশের সীমান্ত ছুঁয়ে উত্তর কোরিয়া। এটি এশীয় দুটি দেশের একটি, যারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখায়নি। যদিও দেশটির এমন প্রতিবেদন বিশ্বপরিম-লে শুরু থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশটি বরাবরের মতোই কভিড-১৯ মুক্ত। সম্প্রতি দেশটিতে প্রায় ২৪,৫৪২ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানেও কিম জং উন সরকারের দাবি, উত্তর কোরিয়ায় কভিড-১৯ রোগী নেই। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুসারে, দেশটিতে কঠোর লকডাউন, ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা এবং দেশটির চারপাশের সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে কিম জং উন কর্তৃপক্ষ। মহামারীর শুরু থেকে কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে রয়েছে দেশটি। পূর্ব সতর্কতা ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপের কারণে দেশটিতে এমন সফলতা বলে মনে করেন উত্তর কোরিয়ার সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি অ্যান্টি-এপিডেমিকের পরিচালক। দেশটি তাদের জনসাধারণের মাঝে ২০ লাখ টিকা প্রদান করবে।

 

পালাউ

কভিড-১৯ টিকা : মোট ১৯,৩১২ জন কভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেছেন।

৩০০টিরও বেশি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দ্বীপরাষ্ট্র পালাউ। ১৮ হাজার জনসংখ্যার দেশটিতে চলমান বৈশ্বিক মহামারীতে নেই কোনো করোনা সংক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্রটিতে প্রশান্ত মহাসাগর নিজেই যেন ভাইরাস প্রতিরোধের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গুয়াম থেকে প্রায় ৮০০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ফিলিস্তিন থেকে ৫০০ মাইল পূর্বে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্রটি। দ্বীপরাষ্ট্রটি তাদের সীমানা থেকে করোনা মহামারী রুখতে শুরুতেই ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বন্ধ করা হয়েছিল সব ধরনের ফ্লাইট। পরবর্তীকালে ভ্রমণে বাধ্যতামূলক করা হয় ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন। মহামারী শুরুর দিকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এক বাসিন্দাকে করোনা পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। আর তাতেই পুরো দ্বীপরাষ্ট্রজুড়ে গ্রহণ করা হয়েছিল কঠোর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা।

 

নিউ

কভিড-১৯ টিকা : এখনো গ্রহণ করেননি

ছোট্ট তবে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ নিউ। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে দ্বীপ দেশটি করোনা সংক্রমণ রোধে দেখিয়েছে সফলতা। ১,৫০০ মাইল উত্তর-পূর্বে নিউজিল্যান্ড অবস্থিত। কুক দ্বীপপুঞ্জের টোঙ্গা, সামোয়া দক্ষিণে পূর্ব ও পশ্চিম উত্তর-পূর্ব। নিউ ২৬১ বর্গ কি.মি. এলাকা নিয়ে গঠিত রাষ্ট্র। এর জনসংখ্যার পুরোটাই মূলত পলিনেশিয়ান। ১,৬০০ জনের দেশটিতে নেই কোনো করোনা সংক্রমণ। শুরু থেকে নিউজিল্যান্ডে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত দেশটি। কভিড-১৯ লড়াইয়ের জন্য দেশটি নিউজিল্যান্ডের সমর্থন পেয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মতো কঠোর বিধি-নিষেধ পালনের পাশাপাশি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশজুড়ে সাময়িক লকডাউনও দেওয়া হয়েছিল।

 

নাউরু

কভিড-১৯ টিকা : মোট ২,৩৮৮ জন কভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বের দেশ নাউরু। প্রতিবেশী দেশ কিরিবাতি। মাত্র ৮ বর্গ মাইলের দেশটি বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র। মাত্র ১০ হাজার জনসংখ্যার দেশটি করোনা মহামারী রুখে দিয়েছে সফলভাবে। যদিও দেশটিতে নেই একটি হাসপাতালও। নেই কোনো ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা। ডাক্তার-নার্সেরও রয়েছে ব্যাপক সংকট। এমতাবস্থায় দেশটি কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতেই নারাজ। মার্চের মাঝামাঝি নাউরু পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ফিজি, কিরিবাতি এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোয় ভ্রমণ বিধি-নিষেধের মাধ্যমে করোনাভাইরাসকে আটকে দিয়েছে। ফ্লাইটে আগতদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, প্রতিদিন তাদের পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। কারও কারও স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিলে তাকে দ্রুতই আলাদা করে ফেলা হয়।

 

কিরিবাতি

কভিড-১৯ টিকা : এখনো গ্রহণ করেননি

৩২টি বলয়াকৃতি দ্বীপ নিয়ে দেশটি গঠিত। যেখানে অসংখ্য প্রবাল প্রাচীর এবং একটি চুনাপাথর দ্বীপ রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত দ্বীপরাজ্যটি। দেশটি হাওয়াই থেকে ২০০০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর চারটি গোলার্ধের মধ্যে অবস্থিত একমাত্র দেশ। জনসংখ্যাও মাত্র এক লাখ ১৬ হাজার। সরাসরি ফ্লাইট চলে এ রকম সবচেয়ে কাছের বড় শহরটি হলো- অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন। দেশটির পাশে দেশগুলো করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এমন পরিস্থিতিতেও দেশটিতে নেই কোনো করোনা সংক্রমণ। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপপুঞ্জ ইতিমধ্যে প্রতিরোধমূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আঞ্চলিক সরকার দেশটিতে জারি করেছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। কভিড-১৯ এর প্রথম দিকে যুদ্ধের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রবর্তন করে দেশটির সরকার। মুষ্টিমেয় কিছু এয়ারলাইনস দুর্গম দেশটিতে ভ্রমণ করতে পারত তাও ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন মানা সাপেক্ষে।

 

মাইক্রোনেশিয়া

কভিড-১৯ টিকা : মোট ৩২,২২০ জন কভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেছে।

৬০০ টিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দ্বীপরাজ্য মাইক্রোনেশিয়া। যার মধ্যে আছে ৩০০ বর্গ মাইল এলাকা বিস্তৃত চারটি প্রদেশ, আয়তন প্রায় ৩০০ বর্গমাইল। জনসংখ্যা মাত্র এক লাখ ১৩ হাজার। কিন্তু এর মধ্যেও নেই করোনা পজিটিভ রোগী। দেশটির সরকার করোনা প্রতিরোধে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। আঞ্চলিক সরকার ঘোষণা করে, যেসব লোক করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশ  থেকে আসবেন, তাদের ফেডারেটেড স্টেট অব মাইক্রোনেশিয়ায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে আজও দেশটি করোনা থাবা থেকে মুক্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার তথ্য অনুসারে, দেশটি কভিড-১৯ এর সংক্রমণ শূন্য দেখিয়েছে। মহামারীর দেড় বছর পরও এমন সফলতা একটু হলেও ভাবিয়েছে সবাইকে। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং জাপানের সমর্থন যায় দেশটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করায় এই সফলতা।

 

কুক আইল্যান্ড

কভিড-১৯ টিকা : এখনো গ্রহণ করেননি..

১৫টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশ কুক আইল্যান্ড। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় একটি দ্বীপরাষ্ট্র। নিউজিল্যান্ডের উত্তর-পূর্বের চেয়ে ২,০০০ মাইল পূর্বে অবস্থিত দেশটি। যদিও কুক আইল্যান্ড প্রায় ১৮ লাখ বর্গ কি.মি. এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। নিউজিল্যান্ডের রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ছোট্ট রাষ্ট্রটি। মাত্র ১৫ হাজার জনসংখ্যার দেশটির আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন। তবে করোনা মহামারীর জন্য সে পথ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে দেশটি। জানা গেছে, দেশটিতে প্রবেশে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে ভাইরাসটিকে দূরে রেখেছে। পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে সব ধরনের ক্রুজ ও জাহাজগুলোকে বন্দর থেকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধে সফল হয়েছে দেশটি। সরকারিভাবে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং নিউজিল্যান্ডের সহযোগিতায় দেশটি কভিড-১৯ প্রতিরোধে বিশ্বে এক অনন্য নজির দেখিয়েছে।

 

আমেরিকান সামোয়া

কভিড-১৯ টিকা : মোট ৩৭,৫৯০ জন কভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্গত একটি অবিচ্ছিন্ন দ্বীপরাষ্ট্র আমেরিকান সামোয়া। আমেরিকান সামোয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের পাঁচটি দ্বীপ এবং দুটি প্রবালপ্রাচীর দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দ্বীপগুলোয় সংক্রামক ভাইরাস কতটা ভয়াবহ, তা ভালো করেই জানেন দেশটির কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক বছরের হাম সংক্রমণ সেই অভিজ্ঞতাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই তো দেশটির কর্তৃপক্ষ ৫৫ হাজার নাগরিকদের নিয়ে ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই প্রথমেই নজর দেওয়া হয়েছে দেশটিতে প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম বিমানবন্দরে। প্রতিটি নাগরিককে থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার মাধ্যমে সংক্রমণ রুখতে পেরেছিল দেশটি। যদিও মহামারী শুরুর দিকে বাইরে থেকে আসা ২০০ লোককে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে কেউ করোনা পজিটিভ হননি। পাশাপাশি করোনা চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় দেশটির কর্তৃপক্ষ সব ব্যবস্থা রেখেছে।