শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৩০ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মে, ২০২১ ২৩:৩১

বিশ্বের বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্ট

আ ব দু ল কা দে র

বিশ্বের বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্ট
Google News

প্রয়োজনে বা অবসর কাটাতে বিশ্বের নানা প্রান্তে বিত্তশালীদের জন্য রয়েছে বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্ট। এসব হোটেল ও রিসোর্টের মধ্যে কোনো কোনো স্যুট সেবার মান বা ভাড়ার দিক দিয়ে টেক্কা দিয়েছে অন্যদের। প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও সাবেকিয়ানার ছোঁয়ায় বিলাসবহুল স্যুটগুলো নজর কাড়ে বিত্তশালীর। বিলাসবহুল, একই সঙ্গে ব্যয়বহুল হোটেলগুলো সেবার মাধ্যমে অতিথিকে দিতে পারে স্বপ্নপুরীর অনুভূতি।  বিলাসবহুল এসব হোটেল ও রিসোর্ট নিয়েই এ আয়োজন।

 

বুর্জ আল আরব, দুবাই

বর্তমান পৃথিবীর বিলাসবহুল হোটেলের মধ্যে অন্যতম বুর্জ আল আরব। স্থলভাগ থেকে ২৮০ মিটার দূরে এর অবস্থান। বিশ্বের একমাত্র সেভেন স্টার বিলাসবহুল হোটেল দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব। দুবাইয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি ছোট্ট কৃত্রিম দ্বীপের ওপর নির্মিত বুর্জ আল আরব। আরবের পুরনো পালতোলা জাহাজের কাঠামোর অনুকরণে বানানো বিলাসবহুল এই হোটেল ভবনটি। এর বাইরের সাজসজ্জা অত্যাধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন সেখানে এর অভ্যন্তরের অতিথিরা বিলাসবহুল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিশেলে গড়া রাজকীয় অন্দরসজ্জা উপভোগ করেন। হোটেলটির ভিতের পা রাখলেই চোখ ধাঁধিয়ে যায় সোনার ছটায়। অন্দরসজ্জা, ঝাড়বাতি থেকে আসবাবপত্র- সব কিছুতেই খাঁটি সোনার উপস্থিতি। হোটেলের সাজসজ্জার মধ্যে ২২ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গাজুড়ে সোনার হাজিরা। আয়নার ফ্র্রেম থেকে টেলিভিশনের বর্ডার- সবকিছুর মুখ ঢেকেছে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপে। এ ছাড়া হোটেলটিতে ফ্লোরগুলো ৩০ ধরনের পাথর ও মার্বেলে ঢাকা। হোটেলের রয়্যাল স্যুটগুলো তৈরি হয়েছে পুরো ফ্লোরজুড়ে। এ রকম একটি স্যুটের আয়তন প্রায় ৮ হাজার ৪০০ বর্গফুট। সব থেকে ছোট স্যুটের আয়তনও ১ হাজার ৮৩০ বর্গফুট। একটা স্যুট সম্পূর্ণ ঘুরে দেখতেও সময় লাগে অন্তত ৩০ মিনিট। হোটেলের ১৮তম তলায় আছে স্পা। পারস্য উপসাগরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে সেখানে বুঁদ হয়ে থাকা যায় স্পা-এর আরামে। পাশাপাশি হোটেলে আছে একাধিক ইন্ডোর ও আউটডোর সুইমিংপুল। মহিলা ও শিশুদের জন্য আছে আলাদা ব্যবস্থা। যুগলদের জন্য নির্দিষ্ট ইন্ডোর সুইমিং পুলে আছে চাঁদের আলোয় সাঁতার কাটার ব্যবস্থা। যদি এতেও মন না ভরে, রয়েছে হোটেলের ব্যক্তিগত সৈকত। ৬৮৯ ফুট উচ্চতার এই হোটেলের ছাদের কাছে আছে নিজস্ব হেলিপ্যাড। দুবাই বিমানবন্দর থেকে অতিথিদের হেলিকপ্টারে উড়িয়ে আনেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। যদি কেউ সড়কপথে আসতে চায়, তা হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রোলস রয়েস। বিলাসবহুল হোটেলে অবকাশ যাপনের জন্য একরাতে গুনতে হবে ২৩ হাজার ডলার বা  সাড়ে ১৯ লাখ টাকা।

 

পামস ক্যাসিনো রিসোর্ট, লাস ভেগাস

দুই বছর আগেও পামস ক্যাসিনো রিসোর্ট পৃথিবীর ব্যয়বহুল হোটেলের তালিকায় ছিল না। তবে পামস হোটেল কর্তৃপক্ষ একে নতুন করে ঢেলে সাজায়, এরপরই অতিথিদের নজর কাড়ে লাস ভেগাসের এই হোটেল স্যুটটি। গ্লাস এলিভেটরে চেপে ৯ হাজার বর্গফুটের বিশাল স্যুটে প্রবেশ করামাত্রই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে যে কোনো অতিথির। হোটেলের প্রতিটি স্যুটে কাচে মোড়ানো সুইমিং পুল, টেরেস, ম্যাসাজ এবং ফিটনেস রুমগুলো প্রয়োজন মেটায় আগত অতিথিদের। দুটি কিং সাইজের রুম, একটি সল্ট রিল্যাক্স রুম ছাড়াও হোটেল স্যুটটিতে আছে লিভিং রুম, ডাইনিং রুম এবং পাঁচটি বাথরুম। অতিথিদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা থাকছে হোটেল কর্তৃপক্ষের সার্ভিস। পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাসবহুল আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো স্যুটটি। আছে নামিদামি চিত্রকরদের নামকরা সব চিত্রকর্ম। পোকার টেবিল, দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম এবং ব্যক্তিগত সুইমিং সুবিধা স্কাই ভিলাকে নিয়ে এসেছে বিত্তশালীদের পছন্দের তালিকায়। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় লাস ভেগাসে রয়েছে পামস ক্যাসিনো রিসোর্টটি। যেখানে নামিদামি হলিউডের সেলিব্রেটি ছাড়াও রয়েছে বহু বিত্তশালীদের আনাগোনা। আর স্কাই ভিলা পামস ক্যাসিনো রিসোর্টে অতিথিদের এক রাত কাটানোর জন্য গুনতে হবে ৩৫ হাজার ডলার  বা ২৯ লাখ টাকারও বেশি।

 

গ্র্যান্ড হায়াত ক্যানস হোটেল মার্টিনেজ, ফ্রান্স

ফ্রান্সের ক্যানে অবস্থিত হোটেল মার্টিনেজ শুধু ঐতিহ্যবাহী হোটেলই নয়, ১৯২৯ সালে উদ্বোধনের পর থেকে বহু খ্যাতনামা ব্যক্তি রাত কাটিয়েছেন এখানে। হোটেল মার্টিনেজ ফ্রান্সের ক্যান উপকূল সংলগ্ন বুলেভার্ড ডি লা ক্রয়েসেটে অবস্থিত। এর সপ্তম তলায় অবস্থিত ৩০০ বর্গ ফুটের পেন্টহাউসটির চেয়ে আকারে অনেক বড় পেন্টহাউস রয়েছে ফ্রান্সে। কিন্তু এটি সেরা, কারণ এর পেন্টহাউস স্যুটে বিলাসিতার দিক থেকে কার্পণ্য করেনি মার্টিনেজ কর্তৃপক্ষ। নীল আকাশ বা হালকা হলুদ রঙের স্পর্শসহ সাদা বার্নিশের আসবাব এখানে এক মোহনীয় পরিবেশ তৈরি করে। চারটি প্রশস্ত বেডরুম, নান্দনিক লিভিং রুম, ডাইনিং রুম বা মার্বেল পাথরের বাথরুম ছাড়াও প্রতিটি স্যুটে রয়েছে বিশাল টেরেস, যেখান থেকে ক্যানের উপকূলের দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। আগত অতিথিরা দুটি ছাদ উদ্যানে অবসরযাপন করে থাকেন, উভয়ই একটি জাকুজি এবং শতাব্দী পুরাতন জলপাই গাছের সঙ্গে সজ্জিত। এ ছাড়াও ২৪ ঘণ্টা সার্ভিসও বৈচিত্র্য এনেছে হোটেল মার্টিনেজে। হোটেলটির পেন্টহাউসের দেয়ালে রয়েছে পিকাসো, ভ্যান গগ, ম্যাটিসে, ডুফি ও স্টেলের মতো বিখ্যাত চিত্রকরের চিত্রকর্মে সজ্জিত। এখানে একরাত কাটানোর জন্য অতিথিকে গুনতে হবে ৪২ হাজার ডলার বা  প্রায় ৩৫ লাখ টাকারও বেশি।

 

হোটেল রাজ প্যালেস, জয়পুর

এশিয়ার সবচেয়ে বড় হোটেল রুম বলা চলে হোটেল রাজ প্যালেসের মহারাজা প্যাভিলিয়নকে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জয়পুরে অবস্থিত। রাজপ্রাসাদ সমতুল্য হোটেলটি জয়পুরের প্রাণ। হোটেল রাজ প্যালেস মূলত আড়াই’শ বছরের পুরনো একটি রাজপ্রাসাদ। যাকে ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড হোটেলে রূপ দেওয়া হয়েছে। চারতলা বিশিষ্ট ১৬ হাজার বর্গফুটের মহারাজা প্যাভিলিয়নে আছে স্বর্ণ এবং রুপায় খচিত আসবাবপত্র, স্বর্ণের পাতা এবং কাচের তৈরি বাহারি দেয়াল, জাকুজি এবং দৃষ্টিনন্দন সুইমিং পুল। হোটেলের রাজকীয় স্যুটের নকশা আর দেয়ালের কারুকার্য বরাবরই দর্শনার্থীদের মোহিত করে। আর অভ্যর্থনা কক্ষের সুউচ্চ ছাদ এবং ঝাড়বাতির আলোকছটা সহজেই মন কাড়ে আগত অতিথির। বলাবাহুল্য, হোটেলটির দেয়ালের নান্দনিক শিল্পকর্ম বিস্মিত করে আগত দর্শনার্থীদের। ছয়টি শয়নকক্ষ ছাড়াও অতিথিরা একটি লাইব্রেরি, প্রাইভেট থিয়েটার, জ্যোতিষশালা এবং ব্যক্তিগত রন্ধনশিল্পীর রান্না উপভোগ করতে পারবেন। এমনকি স্যুটে একটি ব্যক্তিগত জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হোটেলটিতে ‘মিউজিয়াম স্যুট’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা বিশ্বের যে কোনো হোটেলের ক্ষেত্রে অনন্য নজির। হোটেলটি ভারত সরকার দ্বারা ‘ভারতের সেরা ঐতিহ্যবাহী হোটেল’ এবং ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ড পায় পরপর সাতবার। এমনকি এটি ‘বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ঐতিহ্যবাহী হোটেল’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। আর এখানে এক রাত কাটানোর জন্য জন্য গুনতে হবে ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার বা  ৫৫ লাখ টাকা।

 

ফোর সিজন হোটেল, নিউইয়র্ক

নিউইয়র্ক শহরকে চারদিক থেকেই দেখতে চাইলে যেতে হবে সেখানকার ফোর সিজনস হোটেলে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিলাসী এবং ব্যয়বহুল হোটেল। এর টাই ওয়ার্নার পেন্টহাউসটি নিউইয়র্ক তো বটেই বিশ্বের ব্যয়বহুল হোটেল স্যুটের একটি। ৪০০ বর্গমিটারের এই হোটেল স্যুটটির নামকরণ করা হয়েছে এর অধিপতি ধনকুবের টাই ওয়ার্নারের নামেই। ৫২তলার হোটেলটির চূড়ায় অবস্থিত পেন্টহাউসটির বিশেষত্ব হলো- এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে নির্মিত ঝুল বারান্দা। এর কল্যাণে এই পেন্টহাউস থেকে পাওয়া যাবে নিউইয়র্ক শহরের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউয়ের দৃশ্য। এখানে উপভোগ করা যাবে ম্যানহাটনের প্যানারোমিক ভিউ। এক বেডরুমের পেন্টহাউস হলেও চাইলে স্পা রুমটিকে দ্বিতীয় রুম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে সহজেই। এতে আছে ব্যক্তিগত স্পাসহ একটিমাত্র শয়নকক্ষ, চারটি কাচের ঝুল বারান্দা, সুবিশাল বাথরুম, একটি ব্যক্তিগত এলিভেটর। আছে প্রায় মিলিয়ন ডলার মূল্যের ওয়ার্ডোব, যা খুব সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ওয়ার্ডোব! ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একজন সোফারসহ একটি রোলস রয়্যালস গাড়ি থাকবে সব সময় প্রস্তুত। এ ছাড়া অতিথির সহযোগিতার জন্য থাকবে একজন গেস্ট রিলেশন ম্যানেজার। টাই ওয়ার্নার পেন্টহাউসে একরাত কাটাতে খরচ করতে হবে ৫০ হাজার ডলার বা ৪২ লাখ টাকা।

 

হোটেল প্রেসিডেন্ট উইলসন রয়্যাল পেন্টহাউস, জেনেভা

নিঃসন্দেহে এটি বিশ্বের বিলাসবহুল হোটেল স্যুট হিসেবে পরিচিত। স্ইুজারল্যান্ডের লেক জেনেভার কোলঘেঁষে নির্মিত হোটেল প্রেসিডেন্ট উইলসনের রয়্যাল পেন্টহাউসটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্যুট। হোটেলটির আটতলার পুরো অংশজুড়ে তৈরি করা রয়েছে এই পেন্টহাউস। ১৮ হাজার বর্গফুটের বিলাসবহুল পেন্টহাউসটির মধ্যে রয়েছে ১২টি বেডরুম। প্রতিটি স্যুটে আছে দুটি বিশালকার বেডরুম। আছে দামি মার্বেলে বাঁধাই করা বাথরুম, ফিটনেস রুম, লাইব্রেরি, বার এবং বিশাল ডাইনিং রুম। জেনেভা লেকমুখী রয়েছে প্রতিটি বাথরুম। যেখানে আছে জাকুজি টব, দৃষ্টিনন্দন ঝরনা, স্টিম এবং ইন-মিরর টেলিভিশন। রয়্যাল পেন্টহাউস থেকে শুধু লেক জেনেভা নয়, আল্পস পর্বতমালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করা যায়। সঙ্গে মেঘাচ্ছন্ন রাতের আকাশে দূর-দূরান্তে চোখ মেলার জন্য টেলিস্কোপ তো আছেই। পেন্টহাউসটির নিরাপত্তার জন্য আছে বুলেটপ্রুফ কাচের জানালা, প্রাইভেট লিফটসহ সর্বাধুনিক ব্যবস্থা। ব্যক্তিগত রাঁধুনী ও সিকিউরিটি টিমসহ অনেক কর্মী আছে আগত অতিথির সার্বক্ষণিক প্রয়োজনে। পেন্টহাউসে বিলিয়ার্ড গেম ও পিয়ানো রয়েছে অতিথিদের সময়গুলো রঙিন করার জন্য। বিখ্যাত হলিউড তারকাসহ বিশ্বের অসংখ্য ধনকুবের রাত কাটিয়েছেন এই পেন্টহাউসে। মনোমুগ্ধকর ও নিরাপদ এমন স্থানে বসে লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে অতিথিকে একরাতে খরচ করতে হবে ৮০ হাজার ডলার বা  ৬৭ লাখ টাকার বেশি।

 

দ্য হিলটপ ভিলা ফিজি

ফিজি দ্বীপপুঞ্জে ছবির মতো সুন্দর রিসোর্ট দ্য হিলটপ ভিলা। ফিজির পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত প্রায় দুই ডজন ভিলার মধ্যে এটিকে ক্রাউন ভিলা বলা হয়ে থাকে। এক টুকরো প্রাকৃতিক স্বর্গরাজ্য বলা চলে ফিজির এই দ্বীপকে। রিসোর্টটি এমনভাবে তৈরি যেন চতুর্দিক থেকে প্রকৃতি এবং সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। ১ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের বেডরুম, ২৪ ঘণ্টা রন্ধন সুবিধাসহ রয়েছে একটি ব্যক্তিগত এয়ার সার্ভিস। সেই সঙ্গে অতিথিদের গলফ খেলা, ঘোড় সওয়ার, সমুদ্র¯œানসহ রয়েছে নানা আয়োজন। রয়েছে স্পা-এর সুব্যবস্থাও। এ ছাড়াও চার একর ভূমির ওপর তৈরি এই বিশাল ভিলায় একটি পেন্টহাউসের পাশাপাশি রয়েছে সাধারণ হোটেলকক্ষও। পরিবার নিয়ে বেড়ানোর উপযোগী করে তৈরি পেন্টহাউসটি আদতে তিনটি পৃথক পেন্টহাউসের সমন্বয়। ডেলেনা, দুয়া এবং রুয়া নামক তিনটি পেন্টহাউসকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে পুরোটাই একটি একক কমপ্লেক্সের ভিতরে একটি পেন্টহাউস মনে হবে। দুটি শয়নকক্ষ, একটি লাইব্রেরি, বেশ বড় একটি সুইমিং পুল, ঝরনা ও বারান্দাসহ ডেলেনা হলো সবচেয়ে বড় পেন্টহাউস। এই ভিলায় এক রাত কাটানোর জন্য অতিথিকে গুনতে হবে ৪৫ হাজার ডলার বা ৩৮ লাখ টাকা।

 

হোটেল প্লাজা অ্যাথনি, প্যারিস

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্যটক পরিদর্শনকারী স্থান হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্সের প্যারিস। সেই প্যারিসের অভিজাত হোটেলের একটি দ্য রয়্যাল স্যুট ‘হোটেল প্লাজা অ্যাথনি’। যার প্রতিটি স্যুটে রয়েছে ফরাসি বনেদি আসবাব, চোখ ধাঁধানো দামি জিনিস বা সিল্কের আধিক্য। হোটেল প্লাজা অ্যাথনির সাজানো সবকিছুই আপনাকে মনে করিয়ে দেবে ঐতিহাসিক শহরটির আভিজাত্যের কথা। ১৮ শতকের ইউরোপীয় নকশায় নির্মিত হোটেল স্যুটটির পঞ্চমতলায় রয়েছে ফরাসি আতিথেয় শিল্পের বৃহত্তম স্যুট। প্যারিসের এভিনিউ মন্টাইনে রয়েছে অভিজাত হোটেলটি, যেখান থেকে দেখা যাবে শহরটির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বিখ্যাত হোটেলটির প্রতিটি স্যুটে রয়েছে চারটি বেডরুম সঙ্গে যুক্ত চারটি বাথরুম, ড্রয়িংরুম, ডাইনিং, কিচেন ও স্টিমরুম, যা যে কোনো একটি পরিবারের থাকার জন্য আদর্শ। হোটেলের সুউচ্চ সিলিংয়ের দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি নজর কাড়বে যে কোনো অতিথির। হোটেল থেকে স্টেশনে যাতায়াতের ব্যবস্থাসহ পৃথিবীর দামি সব শেম্প্যান থাকছে অভিজাত হোটেলটির অতিথি সেবার তালিকায়। আর বারান্দা থেকে দেখা যাবে ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ারও। তবে এত কিছুর জন্য আগত অতিথিকে একরাতে গুনতে হবে ২৭ হাজার ডলার বা প্রায় ২৩ লাখ টাকা।