শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুন, ২০২১ ২৩:০৭

করোনা চিকিৎসায় বিচিত্র প্রয়াস

মেজর নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ (অব.) পিএইচডি

করোনা চিকিৎসায় বিচিত্র প্রয়াস
Google News

শুরুর কথা

বিভিন্ন দিক বিবেচনায় মোটামুটি ভালোভাবেই শেষ হতে চলেছিল ২০১৯ সাল। বছর শেষে ডিসেম্বর মাসে প্রথমে চীনের উহান প্রদেশের পরবর্তীতে সারা বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে মানবদেহে এক নতুন ধরনের জীবাণুর অস্তিত্ব। কারও মতে এক ধরনের বাদুড় থেকে আবার কারও মতে উহানের একটি সামুদ্রিক মাছের পাইকারি বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে এই অজানা ভাইরাস। এটি প্রাকৃতিক না গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম এ নিয়েও তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। বহুমুখী গবেষণার পর ভাইরাসের শ্রেণি বিন্যাসে নিয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অন টেক্সনমি অব ভাইরাস’ এই নতুন জীবাণুকে চিহ্নিত করেছে ‘সিভিয়ার একুইট রেসপাইরেটরি সিনড্রেম করোনা ভাইরাস-২’ হিসেবে যা সংক্ষেপে সার্স কভি-২ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করা হয় ‘করোনা ভাইরাস ডিজিজ-২০১৯’ বা সংক্ষেপে কভিড-১৯ হিসেবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গেল ২০২০ সালের ১১ মার্চ করোনা বিস্তারকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা দেয়। বিশ্বের সব উন্নত দেশ ও গবেষণা সংস্থা এই রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারের নতুন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাশাপাশি বরাবরের মতোই অপ্রচলিত নিয়মে চিকিৎসা প্রদান ও সেই চিকিৎসায় সাফল্যের দাবি উঠতে থাকে।  তবে করোনা চিকিৎসায় কিছু বিচিত্র প্রয়াস নজর কাড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমের।

 

গরুর খামারে করোনা চিকিৎসা

ভারতের গুজরাট রাজ্যের বনাস জেলার নিভৃত গ্রাম তেতোদা। এই গ্রামে স্থানীয় ‘রাজারাম গোশালা আশ্রম’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্ট ৫ হাজার গরু লালন-পালনের জন্য গড়ে তোলে একটি বিশাল গরুর খামার বা কাউশেড। বর্তমানে এই গোশালায় গরু পালনের পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত রোগীদের পৃথকভাবে আইসোলেশনে রাখা এবং চিকিৎসার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা কেন্দ্র, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভেদালাকশানা পঞ্চগাভিয়া আয়ুর্বেদিক কভিড আইসোলেশন সেন্টার।’ ৪০ শয্যাবিশিষ্ট এই আইসোলেশন সেন্টার ও  চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয় চলতি বছরের ৮ মে। স্থানীয় পত্রিকা মতে, করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা যখন বিশেষায়িত হাসপাতাল, আইসিইউ, অক্সিজেন প্রভৃতির জন্য ছোটাছুটিতে ব্যস্ত তখন এই চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসকরা আস্থা রেখেছেন গরুর গোবর ও গোমূত্রের ওপর। হিন্দু অধ্যুষিত গুজরাটে গরুকে মাতাতুল্য এবং পবিত্র বলে গণ্য করা হয়।  তাই করোনার চিকিৎসা হিসেবে রোগীর গায়ে গোবরের প্রলেপ দেওয়া হয় এবং গোমূত্র পান করানো হয়; গরম পানির ভাপ নিঃশ্বাসের সঙ্গে নেওয়া করোনা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচ্য। তবে এই কেন্দ্রে গরম পানিতে গোবর, গোমূত্র ও ঘি মেশানো হয় এবং তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিতে বলা হয়। এখানে ভর্তি রোগীদের এমন বাগান বা খেত্রের ফলমূল ও শাক-সবজি খাওয়ানো হয়; যা কৃত্রিম বা রাসায়নিক সারের স্থলে গরুর গোবর ও গোমূত্র দ্বারা উৎপাদিত। বিশাল কাউশেডের একাংশে অবস্থিত বিধায় রোগীরা গোমাতা দর্শন, গোমূত্র ও গোবরের গন্ধমিশ্রিত বায়ু সেবন ইত্যাদিরও সুযোগ লাভ করেন (সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ১৫ মার্চ, ২০২০)।

 

প্রতিষেধক হিসেবে গোমূত্র

ভারতের দিল্লিতে করোনা মহামারী আকার ধারণ করার শুরুতে (১৪ মার্চ ২০২০) ভারতের প্রভাবশালী হিন্দু সংগঠন ‘অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা’র সভাপতি স্বামী ছাকরাপানি একটি প্রার্থনাসভার আয়োজন করেন। সভার শুরুতে গোমাতার (গরু) প্রতি প্রার্থনা করা হয়। স্বামী ছাকরাপানির মতে, কভিড-১৯ বা করোনা মূলত ‘নরসিং’ নামের একজন হিন্দু দেবতা, যিনি পশু হত্যাকারী এবং পশু ভক্ষণকারীদের সাজা দিতে পৃথিবীতে এসেছেন। তাই এই দেবতার বন্দনা করা হয় ওই সভায়। তারপর দেবতাকে শান্তিপূর্ণভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া এবং আর কোনো প্রাণ কেড়ে না নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। সভার নেপথ্যে থাকা বিশাল ব্যানারে করোনারূপী ‘নরসিং’ দেবতার একটি ছবিও স্থান পায়। সব পশু হত্যাকারী ও পশু ভক্ষণকারীর পক্ষে স্বামী ছাকরাপানি দেবতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর শুরু হয় প্রসাদ ও প্রতিষেধক হিসেবে গোমূত্র বিতরণ, যাকে ‘মিরাকল লিকুইড’ বা ‘কুদরতি তরল পানীয়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি বিশ্বনেতাদের কেবল ভারত থেকে গোমূত্র আমদানির আহ্‌বান জানান। তার মতে, ভগবান কোনো বিদেশি জাতের গরুতে বিরাজ করেন না, কেবল ভারতীয় গরুতে বিরাজ করেন। তার দাবি, ভারতীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে গোমূত্র পান করেন। বিশেষত অসুখের সময় তারা গোমূত্র পান করেন তবে কদাচিৎ নয়, নিয়মিত সেবনেই গোমূত্রের সুফল মিলবে বলে তিনি মনে করেন। এ সময় মাটির ছোট ছোট গ্লসে কেতলি থেকে গোমূত্র ঢেলে দেওয়া হয়, যা ভক্তিসহকারে পান করেন তার শিষ্যরা। তবে বিশ্ব সম্প্রদায় এমনকি স্বয়ং ভারতের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য কিংবা বিজ্ঞানসম্মত নয় বলে রায় দেন এবং গোমূত্র পানে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে বলে সবাইকে সতর্ক করেন। (সূত্র দি হিন্দু : ১৫ মার্চ, ২০২০)

 

নিম ও তুলসীপাতার মাস্ক

ভারতীয় পুলিশ অফিসার রুপিন শর্মা এ বছর মে মাসের শেষাংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড করেন, যা ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ঠাঁই করে নেয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় মধ্যপ্রদেশে গেরুয়া পোশাকের এক সাধু নিম ও তুলসীপাতা দিয়ে তৈরি একটি মাস্ক ব্যবহার করছেন, যা তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। ৭২ বছর বয়সী এই প্রবীণ সাধু বাবাজি বলেন, যুগ যুগ ধরে নিম ও তুলসীপাতার ঔষধিগুণ বিশেষত এই দুটি পাতার রোগনিরোধ ক্ষমতা সর্বজনবিদিত। তাই নিম ও তুলসীপাতার মাস্ক কাপড় বা সার্জিক্যাল মাস্কের চেয়ে অনেক বেশি জীবাণুনাশক ও জীবাণু প্রতিবন্ধক। (সূত্র আনন্দবাজার পত্রিকা-অনলাইন : ২৩ মে, ২০২১ সাল)

 

হ্যান্ড স্যানিটাইজার পানে মৃত্যু

করোনার বিস্তার রোধে চিকিৎসক, গবেষক, বিজ্ঞানী ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এই তরল জীবাণুনাশকে রয়েছে ‘মিথানল’ নামের এক ধরনের তরল রাসায়নিক যা মদ (অ্যালকোহল) জাতীয়, তবে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, করোনা ঠেকাতে দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ তথা লকডাউন থাকায় মদপ্রিয় মানুষের কাছে মদের জোগান বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে বাজারে সহজলভ্য হয় মিথানলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ভুল, কৌত‚হল কিংবা নেশার টানে সেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার পানের ফলে মৃত্যুবরণ কিংবা অন্ধত্বের মতো করুণ পরিণতি নেমে আসে অনেকের জীবনে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে ২০২০ সালের মে ও জুন মাসে অন্তত ১৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার পানজনিত অসুস্থতা ও জটিলতা নিয়ে। এদের মধ্যে চারজন মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনজন দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে চিরতরে অন্ধ হয়ে যান। কিডনি বিকল হওয়ায় ডায়ালাইসিসনির্ভর জীবন মেনে নিতে হয় তাদের অনেককে (সূত্র : ফোর্বস ৫ আগস্ট ২০২০)।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন র‌্যানটিভি এবং ইংরেজি দৈনিক দি মস্কো টাইমের অনুসন্ধান জানা যায়, রাশিয়ার প্রত্যন্ত শাখা অঞ্চলে একদল বন্ধু মদ বা অ্যালকোহলের সরবরাহ না থাকায় নেশার জন্য স্থানীয় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে পাঁচ লিটারের একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার কৌটা ক্রয় করেন এবং একটি ডিনার পার্টিতে নেশা জমাতে তা পান করতে থাকেন। কিন্তু তীব্র বিষক্রিয়ায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিন বন্ধু। অন্যদের অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আরও ৪ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। (সূত্র : দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ; ২৫ নভেম্বর, ২০২০)।

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের প্রকাশম জেলার কাড়িচেদু গ্রামের একটি মন্দির মিডিয়ার শিরোনাম হয় ২০২০ সালের মাঝে এসে। প্রচলিত মদ বা অ্যালকোহলের সংকট দেখা দিলে এই মন্দিরের পেছনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পান শুরু করেন মদে আসক্ত স্থানীয় একদল দরিদ্র গ্রামবাসী। তাদেরই একজন ২৯ জুলাই ২০২০ (বুধবার) রাতে পেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মন্দিরের পেছনে দল বেঁধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পানের ঘটনা প্রকাশিত হয়। স্থানীয় পুলিশের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকার দরিদ্র শ্রমিক ও ভিক্ষুকের দল পানি কিংবা কোমল পানীয়তে হ্যান্ড স্যানিটাইজার মিশিয়ে নেশা করা শুরু করেন। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে স্থানীয়দের ঘরে ঘরে বিপুল হ্যান্ড স্যানিটাইজারের খালি ও নতুন বোতল জব্ধ করে। অসুস্থরা ঝামেলা এড়াতে দূরে চলে যাওয়ায় কিংবা আত্মগোপনে থাকায় অন্ধ্র প্রদেশে প্রকৃত অসুস্থ কিংবা মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা জানা যায়নি। তবে পুলিশ এখানে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে। (দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস; ৩১ জুলাই, ২০২০)।

 

ধুতরার করাল গ্রাস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে করোনাভাইরাসের বর্ণিল চিত্রের সঙ্গে কমবেশি পরিচিতি ঘটেছে প্রায় সবার। ভারতীয় উপমহাদেশে বহুল পরিচিত ধুতরা ফলের (বিচির) রং বিচিত্র না হলেও আকৃতি বা অবয়বের দিক থেকে করোনাভাইরাসের সঙ্গে ধুতরার বেশ সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়। এই সূত্র ধরেই ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বাইরেড্ডিপাল্লি তালুকের আল্লাকত্তুর গ্রামের মানুষের ‘বিশ্বাস জন্মায় যে, ধুতরা খেয়ে করোনা থেকে মুক্তিলাভ সম্ভব। সেই বিশ্বাস থেকে গ্রামবাসী গাছ থেকে ধুতরা সংগ্রহ করে এবং ধুতরার বীজ গুঁড়ো করে পানিতে মেশায়। সেই ধুতরা মিশ্রিত পানি ৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখ থেকে সকালে খালি পেটে পান করতে থাকেন গ্রামবাসী। অনেকে অন্য কবিরাজি ওষুধের কাজে ব্যবহৃত এক ধরনের ভোজ্যতেলের সঙ্গে ধুতরা বীজের গুঁড়া মিশিয়ে বিভিন্ন কায়দায় খেতে থাকেন। দুপুর নাগাদ ধুতরার বিষক্রিযা শুরু হলে মাথা ঘোরা, বমি ও দুর্বলতার কারণে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী। প্রথমে স্থানীয় বাইরেড্ডিপাল্লি ও থিরথাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয় ১২ অসুস্থ গ্রামবাসীকে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পল্লী চিকিৎসক তাদের পালামানির নামক স্থানের সরকারি হাসপাতালে পাঠান। ভুক্তভোগীরা জানান, সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া একটি ভিডিও দেখে তারা ধুতরা বীজ সেবন করেন। পরে ওই গ্রামে ভিড় করেন সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ এবং এনজিওকর্মীরা। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ভুল ভাঙে গ্রামবাসীর। (সূত্র : দি হিন্দু, ৭ এপ্রিল, ২০২০)

 

ধর্মীয় চিকিৎসার নামে উটের মূত্র পান

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের মেহেদি সাবিলি নামে পরিচিত স্বঘোষিত ইসলামী ওষুধ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ দাবি করেন উটের মূত্রপানে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সাবিলি ইরানের একজন জনপ্রিয় ব্লগার, যার ইনস্টাগ্রামে ৬ লক্ষাধিক অনুসারী ফলোয়ার রয়েছেন। গেল বছর করোনা বিস্তারের শুরুতে (এপ্রিল ২০২০) নিজ ইনস্টাগ্রামে তিনি নিজ হাতে এক গ্লাস উটের মূত্র পান করার ভিডিও প্রকাশ করেন। এই ভিডিওতে তিনি তার অনুসারী বা ফলোয়ারদের করোনা প্রতিরোধ বা করোনা চিকিৎসায় পর পর তিন দিন এবং প্রতিদিন তিনবার করে গ্লাসভর্তি উটের মূত্র পানের আহ্‌বান জানান। শুধু করোনাই নয়, সাবিলির দাবি উটের মূত্র ফুসফুসজনিত রোগ এবং অ্যাজমা চিকিসায়ও কার্যকর। এর আগে সাবিলি ক্যান্সার চিকিৎসায় উটের মূত্র কার্যকর বলে একটি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রায় দিয়েছে মর্মে প্রচার করেন। উল্লেখ্য, ইরানে শিয়া ইমামদের হাত ধরে ইসলামী ওষুধ বা নবীজি (সা.) কর্তৃক উল্লিখিত ওষুধের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ ধরনের ওষুধের ওপর গবেষণা ও চর্চা করার জন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে ইরানে। মেহেদি সাবিলি স্বয়ং ‘প্রফেটিক মেডিসিন সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান। তবে আশার বিষয় হলো ইরানেই আধুনিক চিকিৎসকগণ ইসলামিক চিকিৎসার নামে এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থার বিপক্ষ অবস্থান নিয়েছেন। তবে এ কথা সত্য, সৌদি আরব, জর্দান ও ইরানসহ বেশ কিছু আরব দেশে অনেকেই উটের মূত্রের ঔষধিগুণ আছে বলে বিশ্বাস করেন। মেহেদী  সাবিলির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ইরানের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

(সূত্র : আরব নিউজ; ২১ এপ্রিল ২০২০ এবং ইরান ইন্টারন্যাশনাল ২১ মার্চ ২০২১ )

 

তুলা দিয়ে চিকিৎসা

চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী হিসেবে তুলার ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশেষত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কাটা-ছেঁড়ার পর রক্ত পরিষ্কার করার জন্য বিশুদ্ধ বা জীবাণুমুক্ত তুলা অত্যাবশ্যক। কিন্তু ইরানের একদল ধর্মীয় চিকিৎসক করোনা প্রতিরোধ ও করোনার চিকিৎসা হিসেবে তুলাকেই বেছে নিয়েছেন। তবে এই তুলা হতে হবে এক ধরনের বেগুনি রঙের তরল পদার্থ বা বেগুনি তেলে ভেজা। ইরানের শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ্ আব্বাস তাবরিজিয়ান বেগুনি রঙে ভেজা তুলা শরীরের নিম্নাংশের ভাঁজে রেখে দিলে করোনা হবে না বলে দাবি করেন। ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির সংবাদ মতে, আব্বাস মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নির্দেশিত উপায়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত উপদেশ দেন। আব্বাস মনে করেন, মানুষ বিপথগামী হওয়ায় মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং গজব হিসেবে কভিড-১৯ ভাইরাস পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। ইরানে আব্বাস বেশ প্রভাবশালী। তার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারই শিষ্য মরতুজা কাহান সাল কোনো প্রকার মাস্ক বা গ্লাভস ছাড়াই একটি হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে যান এবং করোনা রোগীদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সুন্নতি আতর মাখিয়ে দেন। এ কারণে ইরানি পুলিশ মরতুজাকে গ্রেফতার করে। এর আগে আব্বাস তাবরিজিয়া ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে চিকিৎসা জগতে সমাদৃত ‘হ্যারিসন্স প্রিন্সিপালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন’ নামক একটি বই প্রকাশ্যে আগুনে পুড়ে ফেলেন। তিনি সব চিকিৎসককে ধর্মীয় গ্রন্থে বর্ণিত চিকিৎসা ব্যবস্থা অনুসরণের আহ্‌বান জানান। (সূত্র : আল মনিটর; মার্চ ১০, ২০২০)

 

অন্ধ্র প্রদেশের মিরাকল ড্রাগ

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের একটি ছোট্ট গ্রাম কৃষ্ণাপাটনাম। সমুদ্র তীরবর্তী এই গ্রাম রাতারাতি মিডিয়া এবং করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন রাজ্যের রোগীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় চলতি বছরের মে মাসে। গ্রামের স্বশিক্ষিত কবিরাজ বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বনিজি আনন্দাইয়াহ এমন একটি চোখের তরল ওষুধ বা আইড্রপ তৈরির দাবি করেন, যা চোখে দেওয়া মাত্র করোনার কারণে শ্বাসকষ্টে থাকা কিংবা অক্সিজেন লেভেল নেমে যাওয়া রোগী মুহুর্তেই আরোগ্য লাভ করে। এ ছাড়াও নিম কালো গোলমরিচ, জিরা, হলুদ, মধুসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি করেন এক ধরনের কালো পেস্ট। কবিরাজ আনন্দাইয়াহর দাবি এই কালো পেস্ট একদিকে সুস্থদের দেহে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে আর অন্যদিকে করোনা আক্রান্তদের আরোগ্য দান করবে। স্থানীয়ভাবে গ্রামের প্রায় সবাই এই আই ড্রপ ও কালো পেস্ট গ্রহণ করে এবং মাস্ক কিংবা ভ্যাকসিনকে প্রত্যাখ্যান করে রাতারাতি এই তথাকথিত ওষুধ এতই জনপ্রিয় হয় যে, মিরাকল ড্রাগ বা ‘জাদুর ওষুধ’ নামে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে ঝড় তোলে। পাশের গ্রাম, জেলা ও রাজ্য থেকে হাজার হাজার রোগী, সুস্থ মানুষ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত গাড়ি এই ওষুধের জন্য কৃষ্ণাপাটনাম গ্রামের দিকে ছুটতে থাকে। একাধিক টিভি চ্যানেল সংবাদে এবং সরাসরি সম্প্রচারে দেখায়, সাদা পোশাক পরা শত শত স্বেচ্ছাসেবী বাঁশ ও দড়ি বেঁধে আগতদের সারিবদ্ধ করছে। অন্যদিকে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের মাঝে শামিয়ানা টাঙিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘মিরাকল ড্রাগ’ নামের ওষুধ। ভিডিওতে দেখা যায়, অক্সিজেনে লেভেল নেমে যাওয়া কিংবা অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করা রোগীরা চোখে আইড্রপ দেওয়া মাত্র সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের অক্সিজেন লেভেল বেড়ে যাচ্ছে। এই তথাকথিত ওষুধের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে, ওয়াই এস জগনমোহন রেড্ডির নেতৃত্বাধীন অন্ধ্র প্রদেশ সরকার তা উৎপাদনে বাধা না দিয়ে বরং ‘মিরাকল ড্রাগ’ সর্বস্তরে বণ্টনের প্রস্তাব দেন। উল্লেখ্য, শুরু থেকেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই আইড্রপ ও পেস্ট বণ্টন হচ্ছিল। পরে ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার একাধিক কমিটি করে এই ওষুধের গুণাগুণ পরীক্ষা করে এবং গ্রামবাসীসহ ওষুধ সেবনকারীদের সাক্ষাৎকার নেয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, চোখের ড্রপটি নিরাপদ নয়। কালো পেস্টে উপকার বা অপকার করার মতো তেমন কিছু নেই। তবে উপচেপড়া ভিড় এবং সামাজিক দূরত্ব ভঙ্গের কারণে অন্ধ্র প্রদেশ সরকার পুলিশ মোতায়েন করে এবং চেক পোস্ট বসিয়ে জনস্রোত বন্ধ করে। তবুও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফসলের মাঠ দিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে মানুষ ভিড় করতে থাকে কৃষ্ণাপাটনাম গ্রামে। (সূত্র : দি প্রিন্টিং, ২৮ মে, ২০২১)।

 

পানির সাহায্যে চিকিৎসা প্রস্তাব

ভারতীয় হিন্দুদের কাছে গঙ্গা নদী ও গঙ্গার পানি একটি পবিত্র ও আবেগময় নাম। গঙ্গায় অবগাহন অনেক রোগ থেকে পরিত্রাণের উপায় বলে যুগের পর যুগ বিশ্বাস করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরাট অংশ। ভারতীয় সরকারের ‘জলশক্তি মন্ত্রণালয়’-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা’ এই নদীর পবিত্র জল দিয়ে করোনার চিকিৎসার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ‘ইন্ডিয়ান মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল’ বরাবর। তবে ৭ মে ২০২১ তারিখে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। (সূত্র : স্কল.ইন, ৭ মে ২০২১)

এ বছর জানুয়ারি মাসের শেষে মালয়েশিয়ার কালান্তান রাজ্যের সংসদ সদস্য হিলমি আবদুল্লাহ পবিত্র কোরআনের আয়াত পাঠ করে ফুঁ দেওয়া পানি অর্থাৎ পড়া পানি দিয়ে গোসল করিয়ে করোনা রোগীদের সুস্থ করার প্রস্তাব দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই প্রস্তাব আলোড়ন সৃষ্টি করলেও বাস্তবে তেমন ব্যবস্থা নেয়নি মালয়েশিয়া সরকার। (সূত্র : উইয়ার্ড কাইয়া; ২৭ জানুয়ারি, ২০২১)

পড়া পানিতে বিশ্বাস করেন আধুনিক ইতালির রাজধানী রোমের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও। এই বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে গেল বছরের মার্চ মাসে রোমে সাময়িকভাবে স্থাপিত একটি করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রে পবিত্র পড়া পানি ছিটিয়েছেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক। (সূত্র : এবিসি ডট নেট ডট এইড; ১৮ মার্চ ২০২০)

করোনার জীবাণু নাক ও গলায় প্রথমে আশ্রয় নেয় এবং ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ে বলে চিকিৎসকদের মত। তাই গলা ও নাককে জীবাণুমুক্ত রাখতে হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গারগল করা ও নাক পরিষ্কার করাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরার ইউনিসার্ভি ও ‘লুথিয়ান ভাইরাল ইন্টারভেনশান স্টাডি’ একটি গবেষণায় হাত দিয়েছে। (সূত্র : বিবিসি ডট কম; ২৫ জুন ২০২০)।

গরম পানিতে গোসল করে, গরম পানিতে পা ডুবিয়ে, গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে জড়িয়ে কিংবা কেতলিতে গরম করা পানির ভাপ নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিয়ে শরীর গরম করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা যায় বলে দাবি একদল গবেষকের। গরম পানি দিয়ে গোসল করার পর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে উপকার আরও বেশি বলে মনে করেন অনেকে। (সূত্র : অ্যাসসিভিয়ার পাবলিক হেলথ ইমারজেন্সি কালেকশন; পিএমসি ৭৬৬৮১৭৪; ১৬ নভেম্বর ২০২০)

 

এমপির কাদা তত্ত্ব

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে করোনা সংকট যখন গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছিল, তখন করোনা চিকিৎসায় এক নতুন পদ্ধতির কথা জানান ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বিজেপি দলের সাংসদ সুখবীর সিং জার্ডনা পুরিয়া। তার মতে, গায়ে কাদা মেখে কিছুক্ষণ বসে থাকা এবং সঙ্খ বাজানোয় করোনা প্রতিরোধ করবে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। তিনি নিজস্ব ফেসবুক পেজে খালি গায়ে কাদা মাখা এবং হাতে সঙ্খ রাখা একটি ছবি আপলোড করেন যা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। একই সাংসদ বিশ্ব যোগব্যায়াম দিবসে বলেন, যোগব্যায়াম করা ও সঙ্খ বাজানই হতে পারে করোনার মোক্ষম চিকিৎসা। তবে দুঃখের বিষয়, পরে এই সাংসদ নিজেই করোনায় আক্রান্ত হন। (সূত্র : নিউজ ১৮ ডটকম, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০)।

 

মন্ত্রীর পাপড় তত্ত্ব

ভারতে মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় একদিকে সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় আবার অন্যদিকে ভারী শিল্প ও সরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগপৎ দায়িত্বে রয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা অর্জুন রাম মেখোয়াল। ইতোপূর্বে সরকারি গাড়ির বদলে সাইকেল চালিয়ে অফিসে আসা-যাওয়া, বিশেষত মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন সাইকেল চালিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদান এবং সাইকেল চালিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে অর্জুন রাম মেখোয়াল মানুষের দৃষ্টি কাড়েন। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। গেল বছরের মাঝামাঝি এক ভিডিওবার্তায় ‘ভাবিজি পাপড়’ নামের একটি বিশেষ ব্র্যান্ডের পাপড় খেলে করোনা বিরুদ্ধে প্রতিরোধশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই বক্তব্যেও যথারীতি ঝড় ওঠে চায়ের কাপে। নিজের টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় মন্ত্রী অর্জুন এই পাপড় কারখানার মালিক সুনীল বাংশালীকে আশীর্বাদ করছেন এবং তার উৎপাদিত পাপড় শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এর নেপথ্যে রয়েছে পাপড় তৈরিতে ব্যবহৃত হলুদ, কালো গোলমরিচ, কালোজিরা, তুলসীপাতা, মুগডাল, উরূদ লবণ, সুগন্ধি পাতা ও অন্যান্য মসলার গুণ। (সূত্র : দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস; ২৪ জুলাই, ২০২০)

 

রাষ্ট্রপতির টনিক তত্ত্ব

ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র মাদাগাস্কার। দেশটির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মালাগামি  ইনস্টিটিউট অব অ্যাপলাইড রিসার্চ’ ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক হিসেবে স্বীকৃত ‘আর্টিমিশিয়া’  উদ্ভিদ ও অন্যান্য গাছ-গাছালির নির্যাস মিশিয়ে একটি পানীয় তৈরি করে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে বেশ জাঁকজমকের সঙ্গে এই ‘হারবাল টনিক’ বাজারজাত করা হয়। আর এই হারবাল টনিকের পাশে দাঁড়ান দেশটির স্বয়ং রাষ্ট্রপতি আন্দ্রে রজেও লিনা। বিভিন্ন সভা সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি আন্দ্রে নিজ হাতে বোতল নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান এবং করোনা প্রতিরোধে তার সরকারের অন্যতম অস্ত্র হিসেবে এ টনিকের গুণাগুণ বর্ণনা করেন। স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও দরিদ্র জনগণের জন্য ত্রাণসামগ্রীর সঙ্গে এই হারবাল টনিক বিতরণ করা হয় মাদাগাস্কারজুড়ে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও বিনামূল্যে পাঠানো হয়েছে এই হারবাল টনিক। তবে হারবাল টনিক বা অন্য যে কোনো তথাকথিত ওষুধ বা প্রতিষেধক কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া বাজারজাত বা ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। (ডঐঙ)

(সূত্র : বিবিসি; ১৪ আগস্ট, ২০২০)

 

সংগীত তত্ত্ব

ভারতীয় ‘রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া-এর একাংশের নেতা এবং মোদি সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন বিষয়কমন্ত্রী রামদাস আটাওয়াল নিম্নবর্ণের বা গরিব মানুষের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করে দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিলেন। তবে এবার তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন একটি ভিডিওতে ‘গো করোনা গো’ (চলে যাও করোনা চলে যাও) বলে জপ করে বা গুনগুনিয়ে গান গেয়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায় মন্ত্রী রামদাস মুম্বাইয়ে কর্মরত কাউন্সিল জেনারেল টাং গোচাইকে সঙ্গে নিয়ে ‘গো করোনা গো’ বলে জপ করছেন। পরে নানা সুরে, নানা ঢঙে বিশেষত র‌্যাপ সংগীতে জনপ্রিয়তা পায় ‘গো করোনা গো’  কথাটি। (সূত্র দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস) ১১ মার্চ ২০২০

মহিলা শিল্পীদের নিয়ে গড়া একটি দল ভারতের রাজস্থানে ধর্মীয় রীতিতে একটি গান গেয়ে আলোচিত হন। গানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল করোনাকে ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার আকুতি। গানের কথায় রয়েছে,  ‘করোনা, ভাগি যা। ভারত থারো, কাইনা কাম রে’ অর্থাৎ ‘করোনা, ভারত থেকে ভেগে যা। ভারতে তোর কোনো কাজ নাই। ইতিমধ্যে কয়েক কোটি দর্শক ও শ্রোতা গানটির ভিডিও দেখেছেন ও শুনেছেন। একই ধারায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে ভারতীয় ভক্তিমূলক গানের শিল্পী নরেন্দ্র চঞ্চলের গাওয়া গান ‘কাইথে আয়া করোনা মাইজি’ যার অর্থ ‘কোথা থেকে এলা গো করোনা, ও মা’। লকডাউনে ঘরে বসে ভারতীয় সুরকাররা সৃষ্টি করেছেন নতুন রাগ, যার নাম ‘রাগ করোনা’। আর গৃহবন্দী ভারতীয়রা বারান্দায় এসেছেন এবং একসঙ্গে তাল মিলিয়ে গেয়েছেন ‘হাম হঙ্গে কামিয়াব’ অর্থাৎ ‘আমাদের হবে জয়’। (সূত্র দি হিন্দু; ২০ এপ্রিল, ২০২০)।