Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৪

রাজশাহীতে জমজমাট লড়াই

মনোনয়ন নিশ্চিত না হলেও হেভিওয়েটরা ছুটছেন ভোটের মাঠে

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

রাজশাহীতে জমজমাট লড়াই

রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে আবারও জমজমাট লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। ফলে চারটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং দুটি আসনে নিজেদের মধ্যে লড়াই করেছে আওয়ামী লীগ। তবে এবার মনোনয়ন দৌড়ে বড় দুটি দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা।

মনোনয়ন নিশ্চিত না হলেও হেভিওয়েটরা ছুটছেন ভোটের মাঠে। এলাকায় এখনো প্রচারণায় ব্যস্ত তাদের পক্ষের নেতা-কর্মীরা। তবে দলগুলোর শীর্ষ সূত্র থেকে যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে রাজশাহীর ছয়টি আসনে জমজমাট লড়াই হবে প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে। কারণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী অংশ নিতে পারেননি। এবার তারা প্রার্থী হচ্ছেন।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনটিতে গত দুইবারের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। তার আগে ওই আসনটিতে এমপি ছিলেন সাবেক ডাকমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমিনুল হক পলাতক থাকায় অংশ নিতে পারেননি। আর ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। কোনো চমক না থাকলে এবার এই আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। ফলে আগামী নির্বাচনে লড়াইটা হবে ফারুক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মধ্যে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদল করলে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে রাজশাহী-২ আসন। গত দুই নির্বাচনে এ আসনটি জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির জন্য ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এবারও আসনটিতে জোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। আর বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু। এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ফজলে হোসেন বাদশার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আবার মিনুর বিরুদ্ধে আছেন বুলবুল অনুসারীরা। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বর্তমান এমপি আয়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মাঠে নেমেছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একঝাঁক নেতা। এ আসনটিতে বর্তমান এমপি আয়েন উদ্দিন ছাড়াও মনোনয়ন চান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। বিএনপির এক ডজন নেতা মনোনয়ন চাইলেও সেখানে অনেকটা নিশ্চিত নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। ফলে ওই আসনটিতে আসাদ-মিলন, নাকি আয়েন-মিলন লড়াই তা নির্ভর করছে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষে।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনটিতে দুইবারের এমপি এনামুল হক। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় বিএনপির দুইবারের এমপি আবু হেনা ২০০৮ সালে মনোনয়ন পাননি। তবে আবার দলে ফিরেছেন তিনি। ফলে এ আসনটিতে আগামীতে লড়াই হবে এনামুল হক ও আবু হেনার মধ্যে। এ আসনটিতে আগে থেকেই মাঠে আছেন বর্তমান এমপি এনামুল হক। তবে দীর্ঘদিন বাইরে থাকায় নতুন করে মাঠ গোছাতে বেগ পেতে হচ্ছে আবু হেনাকে। তবে আবু হেনার দাবি, মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর কর্মীরা একজোট হয়ে মাঠে নেমে পড়বে। কোনো সমস্যা হবে না।

রাজশাহী-৫ আসনটি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ছিল বিএনপির কব্জায়। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি উদ্ধার করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০১৪ সালেও আসনটি ধরে রাখে দলটি।  আগামী নির্বাচনে আসনটি থেকে এবার আরও পাঁচ নেতা মনোনয়ন চান। আর এখানে বিএনপির মনোনয়ন চান সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা। তবে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক এমপি তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

রাজশাহী-৬ আসনটিতে বর্তমান এমপি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। দলের আরও তিন নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী। এবার এ আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেতে পারেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ অথবা বজলুর রহমান। বিএনপির এই দুই নেতার যে কোনো একজন মনোনয়ন পেলে শাহরিয়ারকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর