Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ২২:৪৮
বায়তুল মোকাররমের খুতবা
জাকাত ইসলামে অন্যতম স্তম্ভ
মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান সিনিয়র পেশ ইমাম বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ।

জাকাত ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি। এটি ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম উপাদান।

কোরআন কারিমের ৩০টি আয়াতে জাকাতের কথা উল্লিখিত হয়েছে। তন্মধ্যে ২৮টি আয়াতে নামাজের সঙ্গে সঙ্গে এবং দুটি আয়াতে স্বতন্ত্রভাবে।

জাকাত শব্দটির অর্থ পবিত্রকরণ, পরিশুদ্ধকরণ, ক্রমবৃদ্ধি, আধিক্য ইত্যাদি। আর ইসলামী পরিভাষায় জাকাত হলো ধনীদের ধনমালে আল্লাহর নির্ধারিত অবশ্য দেয় অংশকে জাকাত বলে। বস্তুত জাকাত হচ্ছে সম্পদশালীদের সম্পদে আল্লাহর নির্ধারিত সেই ফরজ অংশ, যা সম্পদ ও আত্মাকে পবিত্রতা অর্জন, সম্পদের ক্রমবৃদ্ধি সাধন এবং সর্বোপরি আল্লাহর রহমত লাভের আশায় নির্ধারিত খাতে ব্যয় বণ্টন করার জন্য দেওয়া হয়। জাকাত একদিকে জাকাতদাতার ধন সম্পদকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে। এর প্রবৃদ্ধি সাধন করে অন্যদিকে দরিদ্রদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। জাকাত শুধু সম্পদকেই পরিশুদ্ধ করে না বরং জাকাতদাতার মন-মানসিকতা ও ধ্যান-ধারণাও পরিশুদ্ধ এবং উন্নত করে। পূর্ববর্তী উম্মতের প্রতিও জাকাতের বিধান দেওয়া হয়েছিল।

যেমন কোরআন কারিমে হজরত ইবরাহিম (আ.), হজরত ইসহাক (আ.) ও হজরত ইয়াকুব (আ.) সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে : আর তাদের বানিয়েছিলাম নেতা, তারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথপ্রদর্শন করত। তাদের প্রত্যাদেশ করেছিলাম সৎকাজ করতে, নামাজ কায়েম করতে এবং জাকাত দিতে। আর তারা আমারই ইবাদত করত। (সূরা আম্বিয়া : ৭৩)

হজরত ঈসা (আ.) দোলনায় থাকাকালেই বলেছিলেন, তিনি (আল্লাহ) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন ততদিন নামাজ ও জাকাত আদায় করতে যতদিন আমি জীবিত থাকি। (সূরা মারাইয়াম : ৩১) উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর জাকাত ফরজ করা হয় দ্বিতীয় হিজরি সালে।

জাকাতের ফজিলত : জাকাত ও সাদকা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। এর দ্বারা যে সম্পদ ও জাকাতদাতা পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয় এ সম্পর্কে কোরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে, তাদের সম্পদ থেকে সাদকা (জাকাত) গ্রহণ করুন, এর দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন। (সূরা তাওবা : ১০৩)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, জনৈক বেদুঈন ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, আমাকে একটি আমল বাতলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে দাখিল হতে পারব। নবী করিম (সা.) বললেন, তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুর শরিক করবে না। ফরজ সালাত আদায় করবে। ফরজ জাকাত প্রদান করবে এবং রমজানের সাওম পালন করবে। তিনি বললেন যার হাতে আমার প্রাণ, সে সত্তার কসম, আমি এ থেকে কিছু বৃদ্ধিও করব না এবং কমও করব না। তখন ওই ব্যক্তি ফিরে যাওয়ার সময় নবী করিম (সা.) বললেন, জান্নাতি কোনো ব্যক্তিকে দেখে কেউ যদি আনন্দিত হতে চায় তবে সে যেন এই ব্যক্তিকে দেখে নেয়। (বুখারি শরিফ ১ খ. ১৮৭ পৃ.)।

অপরদিকে জাকাত ফরজ হওয়ার পরও যদি কেউ তা প্রদান না করে তার ব্যাপারে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন কারিমে ইরশাদ হয়েছে : ‘যারা সোনা বা রূপা পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপাল, পার্শ্বদেশ এবং পিঠে দাগ দেওয়া হবে, সেদিন বলা হবে এটাই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য পুঞ্জীভূত করতে। সুতরাং তোমরা যা পুঞ্জীভূত করেছিলে তা আস্বাদন কর (সূরা তাওবা : ৩৪-৩৫)। উল্লেখ্য, তাফসিরবিদদের সর্বসম্মত মতে এ আয়াতে জাকাতের কথা বলা হয়েছে। আর জাকাত না দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেন, যেসব লোক জাকাত দিতে অস্বীকার করবে, আল্লাহ তাদের কঠিন ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত করবেন। (বায়হাকি) সূত্র মিশকাত শরিফ পৃ. ১৫৭)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে আছে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ যাকে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, সে যদি তার জাকাত আদায় না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তা একটি বিষধর অজগরের রূপ ধারণ করবে, যার দু চোখের ওপর দুটি কালো চিহ্ন থাকবে। কিয়ামতের দিন তা তার গলায় জড়িয়ে দেওয়া হবে।   সাপটি তার মুখের দুই পাশে কামড়াতে থাকবে এবং বলবে, ‘আমিই তোমার সম্পদ, আমিই তোমার পুঞ্জীভূত ধন’ (বুখারি শরিফ)।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow