Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪২
শিশু আইন আছে, বিধিমালা নেই
অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম সরকার

শিশু অধিকার হচ্ছে সেই ভিত্তি যার ওপর ভর করে গড়ে ওঠে উন্নততর সমাজ, আর শিশু আইনে এসব অধিকারের বিস্তারিত বিবরণ বিধৃত হয়েছে। তবে আইনটি সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হলে দরকার একটি বিধিমালা। বাংলাদেশে বিধিমালাটি এখন প্রথম সার্বজনীন আইনে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত। এখানে যুক্তির অবতারণা দিয়ে বলা যেতে পারে, প্রতিরোধযোগ্য রোগ-ব্যাধিতে কোনো শিশুকে যেমন আমরা মৃত্যুবরণ করতে দিতে পারি না, ঠিক তেমনি কোনো শিশুর প্রতি অন্যায়, অবিচার, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর দুর্দশা আমরা মেনেও নিতে পারি না। বাংলাদেশে শিশু আইন রয়েছে কিন্তু বিধিমালা না থাকার কারণে আইনটির প্রায়োগিক সমস্যা হচ্ছে। গরু থাকলেই যেমন কৃষক জমি চাষ করতে পারে না। চাষ করার জন্য গরুর সঙ্গে একটি লাঙল দরকার হয়। ঠিক একইভাবে শিশু আইন ২০১৩ এর মাধ্যমে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ সমুন্নত রাখা সম্ভব নয়। শিশুর জন্য উপযোগী বাংলাদেশ এবং শিশুর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তার জন্য দরকার শিশু অধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি বিধিমালা। আমরা জানি বিভিন্ন মহলের দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ শিশু আইন, ১৯৭৪ রহিত করে ২০১৩ সালে নতুন শিশু আইন প্রণয়ন করা হয়। তবে আইন প্রণয়নের পর গত তিন বছরেও বিধিমালা তৈরি হয়নি। তাই আইনটি বহুলাংশেই বাস্তবায়ন অযোগ্য থেকে যায়। এ জন্য সংশ্লিষ্টরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেই দায়ী করছেন। দেশে প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতনের ঘটনা  বাড়ছে, এমন সময়ে এ ধরনের ঢিলেমি দুঃখজনক। আজকাল বাংলাদেশে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন শিশুর প্রতি সহিংস আচরণের খবর পত্রিকায় আসে না। নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু, স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা ইত্যাদি এ দেশে নৈমিত্তিক ঘটনা। প্রতি বছর বাংলাদেশে শিশু হত্যার অনেক ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমের খবর ও বেসরকারি জরিপ মতে, ধর্ষণ, হত্যার মতো শিশু নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা তুলে ধরা সম্ভব না হলেও এটা স্পষ্ট করেই বলা যায়, সমগ্র দেশে লাখ লাখ শিশু নির্যাতন ও অবিচারের শিকার হচ্ছে। দরিদ্র ছেলেমেয়েরা শোষণ ও অবিচারের শিকার হয় বলেই তারা বিপদের মুখোমুখি হয়। তাই প্রত্যাশিত ছিল, সরকার দ্রুত বিধিমালা চূড়ান্ত করবে। শিশু আইন-২০১৩ এর পর এখন বিধিমালা প্রণয়ন করা সময়ের দাবি। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ-১৯৮৯ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিশু আইন-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। শিশু অধিকার সনদ-১৯৮৯ একটি আন্তজার্তিক চুক্তি যেটি বাংলাদেশ ১৯৯০ সালের ৩ আগস্ট অনুসমর্থন করেছে। এতে রয়েছে শিশুদের জন্য বিভিন্ন অধিকারসমূহ যার মধ্যে অন্যতম সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার। এ ছাড়াও, আরও অনেক ধরনের আন্তজার্তিক চুক্তি রয়েছে যা ঘোষণা, রেজুলেশন, গাইডলাইন নামে পরিচিত। এসব চুক্তি আন্তজার্তিক চুক্তিমালাসমূহ বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবে কাজ করে যা শিশু আইন-২০১৩ বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

লেখক : আইনবিষয়ক ছোট কাগজ ‘পঞ্চায়েত’-এর সম্পাদক।

ই-মেইল: advsagar29@gmail.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow