Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:১৭
উড়োজাহাজ কাহিনী
তানভীর আহমেদ
উড়োজাহাজ কাহিনী
২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো করা হয় তিনতলা উড়োজাহাজের নকশা। ৭৫৫ যাত্রী একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে এটিতে। হাইড্রোজেন ফুয়েল ব্যবহার করা হবে এটিতে। প্রযুক্তিবিদদের চোখে এটি হতে যাচ্ছে নিকট ভবিষ্যতের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিমান

আকাশ জয়ের গল্প অনেকেরই জানা। দুই রাইট ভাইয়ের হাত ধরে আধুনিক উড়োজাহাজের দেখা পেয়েছে পৃথিবীবাসী। তারপর প্রযুক্তির উৎকর্ষে বহু আধুনিকায়ন হয়েছে আকাশ যোগাযোগে। গতি, নিরাপত্তা ও নকশায় এসেছে পরিবর্তন। এ পথে হাঁটতে গিয়ে বহু চ্যালেঞ্জ এসেছে নকশাবিদদের সামনে। বিজ্ঞানী ও গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় সমস্যার সমাধান মিলেছে। এখন আকাশপথে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন বেড়েছে। উড়োজাহাজের বিবর্তনের দিকে তাকালে বিস্মিত হতে হয়। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নকে কীভাবে বাস্তবে নামিয়ে এনেছে মানুষ তাতে বিস্ময় জাগাটাই স্বাভাবিক। তবে এখানেই থামা নয়। ভবিষ্যতের বিমান নিয়ে বিজ্ঞানী দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। উড়োজাহাজের বিবর্তন ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে আজকের রকমারি—

 

কত রকম বিমান!

আকাশের দানব—

আকাশের দানব বলেই মানছেন সবাই। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিমানের নাম ‘এয়ারল্যান্ডার-১০’। সম্প্রতি এ বিমান আকাশে উড়ে উড়োজাহাজের ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রায় ৮৫ বছরের সাধনার পর উড়োজাহাজ ইঞ্জিনিয়ারদের মুখে হাসি ফোটায় এয়ারল্যান্ডার-১০। ৯২ মিটার দীর্ঘ এয়ারল্যান্ডার-১০ তৈরি করে হাইব্রিড এয়ার ভেহিক্যালস (এইচএভি) কর্তৃপক্ষ। ১৩ লাখ ঘনফুট হিলিয়ামে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারবে এটি। যাত্রী ছাড়া দুই সপ্তাহ এবং যাত্রীসহ পাঁচ দিন আকাশে উড়তে পারবে এ যান। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যাবে এয়ারল্যান্ডার-১০। মানবিক ত্রাণ বিতরণ, যোগাযোগ ও নজরদারির জন্যও ব্যবহার করা যাবে এটি।

 

৩০০ ফুট দীর্ঘ বিমান—

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান তৈরির চ্যালেঞ্জ নিয়ে যাত্রা শুরু করে হাইব্রিড এয়ার ভেহিক্যালস লিমিটেড (এইচএভি)। এয়ারবাস এ-৩৮০ কে পেছনে ফেলে যাত্রীবাহী বিমানের রাজত্ব নিজের করে নিতেই এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া। বিমানটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি তার জ্বালানি ট্যাংক একবার ফুল বা পরিপূর্ণ করার পরে একটানা তিন সপ্তাহ ধরে আকাশে উড়তে সক্ষম। আর ঠিক এই কারণে সবাই বেশ উৎসাহিত কারণ এখনো এমন অনেক বিমান আছে যেগুলোর শুধু ফুয়েল ট্যাংক লোড দেওয়ার জন্য যাত্রাবিরতি দিতে হতো। এ বিমানটি তৈরি করতে খরচ হবে প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড। শুরুর দিকে পরিকল্পনা রয়েছে এটি মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে। উড়োজাহাজটি তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণ করবে, একবার জ্বালানি নিয়েই কয়েক দিন উড়তে পারবে এবং সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, এটি বিমানবন্দর ছাড়াই যেখানে প্রয়োজন সেখানেই হেলিকপ্টারের মতো অবতরণ করতে পারবে। এটি আকাশে সেরা প্রযুক্তির উদাহরণ হতে পারে।

 

অ্যান্টোনভ নিজেই এক বিস্ময়—

ধারণক্ষমতার দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানটির নাম অ্যান্টোনভ এএন-২২৫।

১৯৮৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অ্যান্টোনভ এএন-২২৫ বিমানটি যাত্রা শুরু করে। এ বিমানটির ডানার দৈর্ঘ্য ৮৮ মিটার বা ২৯০ ফুট। এ ছাড়া এর প্রস্থ ৮৪ মিটার বা ২৭৫ ফুট। বিমানটি ওড়ানোর জন্য কমপক্ষে ছয় ক্রু প্রয়োজন হয়। শুরুর দিকে বিমানটি নির্মিত হয়েছিল বুরান স্পেস শাটল ও তার রকেট বুস্টার পরিবহনের জন্য। পরবর্তীতে অ্যান্টোনভ এয়ারলাইন্স এটি বিশেষ মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহার করছে। অ্যান্টোনভ এএন-২২৫ বিমানটিতে রয়েছে ৩২টি চাকা। এ চাকাগুলো টেক অফের সময় সর্বোচ্চ ৬৪০ টন ওজন নিতে পারে। তবে বিমানটিতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ওজন নেওয়া হয়েছে ১৯০ টন। যা একটি বিশ্বরেকর্ডও বটে। বিমানটি স্পেস শাটল পরিবহনের কাজেও ব্যবহৃত হয়েছে।

 

কাচের বিমান—

এবার প্রথম এমন একটি বিমান আকাশে উড়তে চলেছে যার কোনো জানালা নেই। সেখানে রয়েছে বিশাল বিশাল পর্দা। সহজ ভাষায় বললে, এই বিমানের জানালাগুলোর জায়গায় যাত্রীদের চোখে পড়বে টিভি পর্দায় ভেসে ওঠা প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি। আর তাতে যাত্রীদের মনে হবে বিমানের জানালা দিয়ে বাইরের নীল আকাশ, মেঘ দেখা যাচ্ছে। এখানে কিন্তু একটু ফাঁকি রয়েছে। এই মেঘ ও আকাশ বাস্তবের নয়। পুরোটাই জানালার পরিবর্তে বিমানের পর্দায় ফুটে ওঠা আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিও ও ছবি। বিমানটি কোন জায়গার উপর দিয়ে উড়ছে সেই তথ্যও ফুটে উঠবে ওই স্ক্রিনেই। যাত্রীরা চাইলে আঙুল দিয়ে স্পর্শ করতে পারবে সে পর্দা। তবে এই ফাঁকি সহজেই চোখে ধরা দেবে না। মনে হবে এটি কাচের বিমান।

 

কেমন হবে ভবিষ্যতের উড়োজাহাজ

১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর। আমেরিকার বাসিন্দা তারা দুই ভাই। অরভিল রাইট ও উইলবার রাইট। বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়েছিলেন তারা দুজন। মানুষের সফলভাবে আকাশে উড়ার যাত্রা শুরু। এরপর বছরের পর বছর ধরে উড়োজাহাজের আধুনিকীকরণ চলেছে। আধুনিক উড়োজাহাজগুলো অনেক গতিশীল ও নিরাপদ। এখন গতি ছাড়াও জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশি কাজ করছেন। দ্রুত এবং নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ভবিষ্যতের বিমান তৈরির কাজ করে থাকে নাসা। এ বিষয়টা মাথায় রেখেই নাসা ভবিষ্যতের জন্য দারুণ কিছু উড়োজাহাজ তৈরি করতে যাচ্ছে। এগুলো আকাশে ডানা মেলতে শুরু করবে ২০২৫ সালের দিকে। শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির বিমানে চড়ার আগ্রহী যাত্রী আছেন অনেক। সেই চাহিদা মেটাতে নাসা এবার এমন বিমান তৈরি করতে চায় যেটা দ্রুতগতিতে যাওয়ার পাশাপাশি শব্দ করবে কনকর্ডের চেয়ে অনেক কম। বিমানটি দেখতে কেমন হবে, শিল্পীর চোখ দিয়ে তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছে নাসা। তবে আসল বিমানের নকশা কে করবে তা ঠিক করতে নির্মাতাদের কাছ থেকে নকশা চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে লকহিড মার্টিনকে বেছে নিয়েছে নাসা। কোয়াইট সুপারসনিক টেকনোলজি বা কিউএসএসটি বিমানের নকশা তৈরির জন্য আগামী ১৭ মাসে নাসার কাছ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পাবে লকহিড। নাসা আশা করছে, প্রয়োজনীয় অর্থ পেলে ২০২০ সালের মধ্যে এই বিমান পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে উড়তে পারে।এই বিমানের নাম ‘সুপারসনিক গ্রিন মেশিন’। ওড়ার সময় যেন শব্দ (সনিক বুম) কম হয় সেই জন্য প্লেনের পেছনের পাখায় ‘উলটো ভি’এর মতো যে জিনিসটি দেখা যাচ্ছে সেখানে সুপার সনিক জেট ইঞ্জিন বসিয়েছে লকহিড। নাসার কমিটির সামনে ২০১০ সালে এই নকশা পেশ করেছিল লকহিড। সে সময় তারা জানিয়েছিলেন, ২০৩০-৩৫ সালের দিকে বিমানটি আকাশে উড়তে পারে। আগামী দিনের আকাশে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সাশ্রয়ী বিমানের রাজত্ব তৈরি করতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। সোলার চালিত বিমানের উন্নয়ন নিয়ে কাজ চলছে বছরের পর বছর ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে বড় সাফল্যের দেখা মিলল। প্র্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিল সৌরচালিত বিমান। বিশ্বের প্রথম সৌরচালিত বিমান সোলার ইমপালস হাওয়াই থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার অংশ হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেয়। তিন দিনের ফ্লাইট শেষ করে বিমানটি ক্যালিফোর্নিয়ায় অবতরণ করে। জাপান থেকে একটি ফ্লাইট শুরুর পর বিমানের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়। পরে আট মাস ধরে সংস্কার কাজের জন্য উড্ডয়ন বিরতির পর বিমানটি হাওয়াই থেকে উড্ডয়ন করে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবতরণের জন্য বিমানটি স্যান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেইট ব্রিজের উপর দিয়ে উড়ে যায়। বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে এটি বিমানটির নবম ফ্লাইট।

 

যেভাবে আকাশ জয়

আমেরিকান অরভিল রাইট এবং উইলবার রাইট। দুই ভাই। বহু আগে থেকে মানুষ আকাশ জয়ের কথা ভাবলেও রাইট ভ্রাতৃদ্বয়কে উড়োজাহাজের আবিষ্কারক হিসেবে গণ্য করা হয়। বাস্তবমুখী সাফল্য তাদের হাতেই ধরা দিয়েছে। উড়োজাহাজ তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু হয় ১৮৯৬ সাল থেকে। একজন র্জামান ইঞ্জিনিয়ার অটো লিলিয়েনথাল কয়েক বছর ধরে উড়ন্ত যান নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ১৮৯৬ সালে লিলিয়েনথালের আকস্মিক মৃত্যুর পর রাইট ভাইয়েরা লিলিয়েনথালের তৈরি উড়ন্ত যানের নকশা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এর ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করেন।  শুরুর দিকে শুধু ব্যর্থতাই মিলেছে তাদের। শেষ পর্যন্ত দুই ভাই দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় তৈরি হলো এক বিশাল গ্লাইডার বা উড়ন্ত যান। এই গ্লাইডার বাতাসে ভারসাম্য রেখে সহজেই উড়তে সক্ষম হয়। গ্লাইডারের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দুই ভাই তৈরি করলেন দুই পাখাবিশিষ্ট ছোট বিমান। এ বিমানের সামনে ও পেছনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটা ছোট যন্ত্র সংযোজন করা হলো। পরবর্তীতে তাদের উদ্ভাবিত বিমানের কলাকৌশলে কিছু পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয়। কয়েক মাসের চেষ্টায় তৈরি হয় বিমানে ব্যবহারের উপযুক্ত ইঞ্জিন। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯০৩ সালের এক শীতের সকালে উড়ল তাদের বিমান। প্রথম বিমান উড়ল বাতাসে।

 

দ্বিতল বিমান

এয়ারবাস এ-৩৮০। এটি একটি দ্বিতল বিমান। দোতলা বিমান এক সময় মানুষকে চমকে দেওয়া বিমানের প্রতিচ্ছবি ছিল। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করে।

২০০৪ সালের দিকে এটি মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয় তার অতিকায় রূপ নিয়ে। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের উদ্দেশে ব্যবহৃত এই বিমান আকাশে মানুষের রাজত্বের নতুন মাত্রা যোগ করে। ১০ বছরের ব্যবধানে আকাশে আরও বড়, দানবাকৃতির উড়োজাহাজ জায়গা করে নিলেও এই এয়ারবাসের গুরুত্ব একেবারেই ভিন্নমাত্রায় রয়েছে। ৩০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করে তৈরি এই বিমানটিতে রয়েছে চারটি ইঞ্জিন। ইঞ্জিন তৈরির দিক দিয়েও এই এয়ারবাসটি অনন্য। যে সময় এটি আকাশে পাখা মেলবে বলে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তখন এর ইঞ্জিন নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা বলা হয়। এই অতিকায় যাত্রীবাহী বিমানটির নির্মাতা ইউরোপীয় ইএডিএসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। এটি বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী বিমান। আকাশে মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় সর্বাধুনিক সংযোজনের পাশাপাশি অল্প সময়ে, অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিমানটির নকশা প্রণয়ন করা হয়েছিল। বিমানটি বাস্তবে রূপ নিতে ব্যবসায়িকভাবেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল অন্যতম জনপ্রিয় যাত্রীবাহী বিমান বোয়িংকে। বোয়িংয়ের ওপর আকাশে যাত্রীর আস্থা বাড়াতে বিমান দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা ও আরামের ব্যবস্থা আরও আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

এয়ারবাস এ-৩৮০ সেটাই করে দেখিয়েছে। এ-৩৮০ প্রথমবারের মতো আকাশে ওড়ে ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ২০০৭ সালে প্রথম বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। এ-৩৮০ এর ওপরতলা বিমানের মূল কাঠামোর সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য বরাবর বিস্তৃত। প্রস্থেও একটি বড় বিমানের সমান। এর ফলে একটি এ-৩৮০-৮০০ বিমানের কেবিনের মেঝের আয়তন ৪৭৮ বর্গমিটার। একটি এ-৩৮০ বিমানে তিন শ্রেণির আসন ব্যবস্থায় ৫২৫ জনের বসার ব্যবস্থা করা যায়। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার।

 

উড়োজাহাজের বিবর্তন

এই পাতার আরো খবর
up-arrow