২৪ নভেম্বর, ২০২২ ১৪:১৩

টিস্যুকালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত প্লান্টলেট দিয়ে মিনিটিউবার বীজ আলু উৎপাদন

আবদুল বারী, নীলফামারী

টিস্যুকালচারের মাধ্যমে উৎপাদিত প্লান্টলেট দিয়ে মিনিটিউবার বীজ আলু উৎপাদন

নীলফামারীর ডোমারে ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে চলতি মৌসুমে ৩৭৫ একর জমিতে আলু চাষ করার প্রস্তুতি চলছে। বিশাল আকারের খামারটিতে এখন শুধুই চলছে বিভিন্ন শ্রেণির আলু রোপণের কাজ। চলতি মৌসুমে মানসম্পন্ন, ভাইরাসমুক্ত গুণগত মানের বীজ আলু সরবরাহের লক্ষ্যে প্রথম ধাপ হিসেবে খামারের দুইটি ও বিএডিসির অন্য তিনটিসহ মোট ৫টি টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরিতে টিস্যুকালচারের মাধ্যমে ১৮টি জাতের প্রায় ১৪,০০,০০০টি প্লান্টলেট উৎপাদন করে পরবর্তীতে হার্ডেনিং মাধ্যমে মিনিটিউবার উৎপাদনের লক্ষ্যে নেটহাউজে সম্পুন্ন নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রায় ১৭ একর জমিতে রোপণ কাজ চলছে। রোপণের পূর্বে জমিতে চুন প্রয়োগ, তৈরী কৃত কম্পোস্ট (গোবর, ছাই, সরিষার খৈল, ট্রাইকোডার্মা পাউডার) প্রয়োগ, স্ট্যাবল ব্লিচিং, ফরমালিন দ্বারা মাটি শোধন করে মূল জমিতে প্লান্টলেট রোপণ করা হয়। রোপণ পরবর্তীতে শেড প্রদান, মালচিং, আর্দিংআপ, টপড্রেসিং, সেচ, বালাই নাশক স্প্রে এর মাধ্যমে পরিচর্যা করে ৭৫থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফসল উত্তোলন করা যায়। 

এই প্লান্টলেট উৎপাদনের জন্য সাধারণত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে খামারে জার্মপ্লাজম সেন্টার হতে জেনেটিক্যালি বিশুদ্ধ, ভাইরাস, phenotypic character এর ভিত্তিতে আমদানিকৃত আলুর মাতৃগাছ হতে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে মেরিস্টেম সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে লেমিনার এয়ারফ্লো অথবা ক্লিন বেঞ্জ এ সম্পুন্ন জীবানু মুক্ত পরিবেশে MS Media ইনোকুলেশন করে গ্রোথ চেম্বারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে(২০-২৪ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ৪০০০-৫০০০Lux আলোক তীব্রতায়)৪৫-৬০ দিন রেখে দিলে তা হতে প্লান্টলেটের শিকড় ও পাতা সৃষ্টি হবে। পরবতীতে ১৫-২০ দিন পর পর সাবকালচার (নোড কাটিং)এর মাধ্যমে জ্যামিতিক হারে প্লান্টলেটের বৃদ্ধি তরান্বিত হয়।

এভাবে পুন:পুন সাবকালচার করে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে প্লান্টলেটে রোপণের উপযুক্ত আবহাওয়া ল্যাবরেটরি হতে প্লান্টলেট সরবরাহ করে প্রথমে ব্যাকটেরিওসাইউ (Streptomycin Sulphate) এবং কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাক নাশক দিয়ে শোধন করে হার্ডেনিং(Acclematization) করে মূল জমিতে (নেট হাউজে) রোপণ করা হবে। রোপণ পরবর্তীতে মালচিং, আর্দিংআপ, টপড্রেসিং, সেচ, বালাই নাশক স্প্রে এর মাধ্যমে পরিচর্যা চলছে। এ বছর এ খামারটিতে প্রায় ১৭ একর জমিতে ১৪,০০,০০০টি  ১৮টি জাতের প্লান্টলেট রোপণের কাজ চলছে। সাধারণত প্লান্টলেট রোপণে ৭৫-৮০ দিন পর হামপুলিং ওকিউরিং করে কাঙ্খিত মিনিটিউবার সংগ্রহ করা যাবে।
উৎপাদিত মিনিটিউবার দিয়ে আগামী উৎপাদনমৌসুমে প্রায় ১৫০ একর জমিতে প্রাকভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই প্রাকভিত্তি বীজ আলু বিএডিসির অন্যান্য খামারে ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে। পরবর্তীতে ভিত্তি বীজ আলু চুক্তিবদ্ধ চাষীর মাধ্যমে প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজ হিসেবে নিয়োজিত বিএডিসি বীজ ডিলারদের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে। যা দেশের মুল উৎপাদনে ভুমিকা রাখবে।
ডোমার ভিত্তিবীজ আলু উৎপাদন খামারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো আবু তালেব মিয়া বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন করা সম্ভব হবে চলতি মৌসুমে। এর আগে প্রায় ২৪০ একর জমিতে আউশ ধানবীজ চাষ করা হয়। যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩০৮টন। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৭২টন ধানবীজ বেশী উৎপাদন হয়েছে।

২০০৬ সাল থেকে এই খামারে প্লান্টলেট হতে মিনিটিউবার উৎপাদন করা শুরু হয়।খামারে দুইটি এবং বিএডিসির জন্য তিনটিসহ মোট ৫টি ল্যাবে টিস্যুকালচারের মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ প্লান্টলেটের (আলুরঅনুচারা)উৎপাদন চলমান রয়েছে। এখানে ডায়মন্ট, কার্ডিনাল, সানশাইন, এস্টারিক্সসহ ১৮ জাতের আলু  প্লান্টলেটের মাধ্যমে মিনিটিউবার উৎপাদন করা হবে। জমি তৈরীর পর নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে এ চারা গুলো মাঠে রোপন করা শুরু হয়েছে।

আলুর বিভিন্ন জাত গুলো বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সাধারণত খামারের সংরক্ষিত জার্মপ্লাজম সেন্টার হতে জেনেটিক্যালি বিশুদ্ধ,ভাইরাস মুক্ত, আমদানিকৃত আলুর মাতৃগাছ হতে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে phenotypic character এর ভিত্তিতে আমদানিকৃত আলুর মাতৃগাছ হতে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে মেরিস্টেম সংগ্রহ টিস্যুকালচারের মাধ্যমে প্লান্টলেট উৎপাদন করার জন্য প্রাপ্ত প্লান্টলেট গুলো ভাইরাস মুক্ত থাকে। তাই পরবর্তীতে সরবরাহ কৃত বীজ আলু ভাইরাস মুক্ত ও গুনগত মানসম্পন্ন হয়। প্লান্টলেটসহ ৩৭৫ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করার লক্ষ্যে পুরোদমে কাজ চলছে।এর মধ্যে নেট হাউজের মাধ্যমে ১৪০একর বীজ আলু চাষ করা হবে খামারটিতে। এর পাশাপাশি আবহাওয়া পরির্বতন, বৈদেশিক রপ্তানী, জার্মপ্লাজম সংরক্ষন প্যারেন্টাল লাইন সংরক্ষনসহ বিভিন্ন গবেষণামূলক কার্যক্রম যেমন আগাম আলুর জাত পরীক্ষা ,শিল্পে ব্যবহার ও রপ্তানীযোগ্য জাতের উপযোগিতা যাচাই, পিএইচভি পরীক্ষা, পটেটো মিউজিয়াম স্থাপনের কাযক্রম চলমান রয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর