১৭ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:৩৮

ঢাবির রোকেয়া হলে দুই শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাবির রোকেয়া হলে দুই শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রথম বর্ষের দুজন শিক্ষার্থীকে রাতভর 'র‌্যাগিং' করার অভিযোগ উঠেছে একই হলের তৃতীয় বর্ষের পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের অশ্লীল গানের সাথে নাচতে বাধ্য করেছেন ওই পাঁচ জেষ্ঠ্য শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার রাতে হলের অপরাজিতা বিল্ডিংয়ের Ex-4 কক্ষে এই ঘটনা ঘটেছে। 

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- ক্রিমিনোলজি বিভাগের নাসরিন জাহান খুশি ও জুলি মারমা, মার্কেটিং বিভাগের রিনাকি চাকমা, জান্নাত নিপু, দর্শন বিভাগের পূজা দাস।

বুধবার ভুক্তভোগীদের একজন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের আয়শা আক্তার রিজু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে আয়শা আক্তার রিজু বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় পাশের রুমের নাসরিন জাহান খুশি, জুলি মারমা ও রিনাকি চাকমা আমার রুমে আসে। তারা তাদের মতো কথা বলছিল। আমিও তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এক পর্যায়ে জুলি মারমাকে জিজ্ঞেস করি ‘আপু আমি ভাত খাই'-এইটা তোমাদের ভাষায় কিভাবে বলে?’ প্রতিউত্তরে তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘তুই আমাকে জিজ্ঞেস করিস? তোর সাহস তো কম না, তোকে র‌্যাগ দিতে হবে।’

অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, নাসরিন জাহান খুশিও সরাসরি আমাকে বলছিল, ‘তোকে র‌্যাগ দিতে হবে।’ এরপর আমি বুঝতে পারি যে তারা আগে থেকেই প্ল্যান করে এসেছিলেন। তারা আমার সহপাঠীকেও নিয়ে আসে। সে রুমে ঢোকার পর রাগান্বিত হয়ে তারা বলেন, ‘রুমে আসার আগে সালাম দিতে হয় জানো না?’ রিজু আরও বলেন, ‘তারা আমাদের বাজে একটা গানে নাচতে বাধ্য করে। কোনও উপায় না পেয়ে তাদের কথা মানতে বাধ্য হই৷ এধরনের মানসিক নিপীড়ন চলে রাত ১১টা পর্যন্ত।' এমন ঘটনার দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী আয়শা আক্তার রিজু।  

অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থী নাসির জাহান খুশি, পূজা দাস ও জান্নাত নিপুর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমরা তিন নম্বর রুমে থাকি আর তারা (রিজুরা) চার নম্বর রুমে থাকে। আমরা প্রায়ই ওদের রুমে যাই, নাচানাচি করি। তারই অংশ হিসেবে কালকে গিয়েছিলাম। রাত দশটা পর্যন্ত নেচেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগকারীকে হল প্রাধ্যাক্ষের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছি। এবং অভিযোগপত্র হল প্রভোস্টের কাছে পাঠিয়েছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন।’

বুধবার সন্ধ্যায় হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। এখন ওদের সাথে বসেছি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর