শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ০৮:২১
প্রিন্ট করুন printer

সিলেটে তরমুজের বাজারে 'আগুন', নেই তদারকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটে তরমুজের বাজারে 'আগুন', নেই তদারকি
ফাইল ছবি

তীব্র গরমে একেবারে অতিষ্ঠ মানুষ।এর মাঝে চলছে রোজা মাস। ইফতারিতে এক টুকরো তরমুজ যেন দারুণ তৃপ্তি দেয় রোজাদারদের। কিন্তু সিলেটে তরমুজ যেন এবার'বড় লোকের ফল'। মাত্র সপ্তাহ দশেক আগে সিলেটে মধ্যম সাইজের (৪-৫ কেজি ওজন)একটি তরমুজ বিক্রি হত ৮০-১০০ টাকায়, বর্তমানে ওই সাইজের একটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। এমন দামে ক্রেতারা বলছেন, সিলেটে তরমুজ এবার যেন'বড় লোকের ফল'। সোমবার সিলেট নগরীর বিভিন্ন জায়গায় এমন দামে তরমুজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।   

 
জানা গেছে, রমজান মাসের আগেও সিলেটে তরমুজের দাম তেমন বেশি ছিল না। ছোট সাইজের একটি তরমুজ ৫০-৮০, মধ্যম সাইজের ৮০-১০০ কিংবা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। আর বড় সাইজের তরমুজের দাম ছিল ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে। রোজা মাস শুরু হতে না হতেই ফল ব্যবসায়ীরা তরমুজের দাম বাড়িয়ে দেন কয়েকগুণ। বর্তমানে তরমুজের আকাশচুম্বী দামে ক্রেতারা একবারে দিশেহারা। এজন্য অনেকেই ফেসবুকে শুরু করেছেন তরমুজের দাম নিয়ে সমালোচনা। এমন সমালোচনা শুরু হলেও সোমবার পর্যন্ত সিলেটে প্রশাসনের কোন অভিযান কিংবা তদারকি করতে দেখা যায়নি।

সোমবার সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, আম্বরখানা, উপশহর, মেন্দিবাগ পয়েন্ট, শিবগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের দাম আকাশচুম্বী। নগরীর উপশহরের মেইন রোডের একটি চেইন শপের সামনে বেশ কয়েকজন ফল ব্যবসায়ী তরমুজ বিক্রি করতে বসে আছেন। ৪-৫ কেজি ওজনের একটি তরমুজের দাম হাকেন সাড়ে ৫০০ টাকা। এর চেয়ে বড় সাইজের একটি তরমুজের দাম জিজ্ঞেস করলে ৬০০ টাকা চান। 

ফল বিক্রেতা ইন্তাজ আলী বলেন, আড়ত থেকেই আমরা বেশি দাম দিয়ে কিনে এনেছি। তাই দাম বেশি চাচ্ছি। সোমবার দুপুরে বন্দরবাজারের হাসান মার্কেটের ফলের দোকানে তরমুজ কিনতে আসেন মিরবাজারের গোলাম রব্বানী। কিন্তু তরমুজের অস্বাভাবিক দাম শুনে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। তিনি বলেন, ইফতারিতে এক টকুরো তরমুজ অনেকটা তৃপ্তি দেয়। কিন্তু দামের কারণে সেই তৃপ্তি আর মেঠানো গেল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

তরমুজের দাম বেশি সম্পর্কে সিলেট কদমতলির ফলের আড়ৎদার মখললিছ মিয়া বলেন, মূলত তরমুজ ক্ষেত হয় খুলনা, বাগেরহাট ও ভোলা জেলায়। কয়েকদিন আগে বৃষ্টির বেশি পানিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ জন্য দাম এবার বেশি। আজ সোমবার বড় সাইজের তরমুজ প্রতি পিস সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা ও মধ্যম সাইজের তরমুজ ২৫০ টাকায় পাইকারি দামে তিনি বিক্রি করেছেন বলে জানান।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কৃষি বিপণন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, ফলের ক্ষেত্রে কেজিতে ১০ টাকা লাভ করতে পারবেন, এমন বিধান রয়েছে। তবে তরমুজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা আছে। কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকার বেশি লাভ করতে পারবেন না। আর কেজি বা পিস যেভাবে কিনবে সেভাবেই বেচতে হবে। কিন্তু সিলেটের ফল ব্যবসায়ীরা এমন নিয়ম মানছেন না বলে রয়েছে অভিযোগ।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিলেটভিউকে বলেন, আমরা ভোক্তা অধিকারের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে মনিটরিং রাখতে বলেছি। বাজারের সার্বিক বিষয়টি তদারকি করতে একটি টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।   

উল্লেখ্য, তরমুজের দাম নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার পর আজ সোমবার কুষ্টিয়ায় তরমুজের আড়তে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে চার তরমুজ ব্যবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।   

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত