শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ মে, ২০১৯ ১৭:২২

রিকশাচালক রাজু হত্যায় ৭ কিশোরসহ গ্রেফতার ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

রিকশাচালক রাজু হত্যায় ৭ কিশোরসহ গ্রেফতার ৮

চট্টগ্রামের রিকশাচালক মো. রাজু হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি মাদকাসক্ত কিশোর গ্রুপের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত কিশোরসহ এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শিমুল দাশ (২০), তানভির হোসেন প্রকাশ সিফাত (১৮), মো. সুজন প্রকাশ মধু (১৮), মো. রাকিব হোসেন প্রকাশ শাহ রাকিব (১৮), মো. নুর নবী (১৮), মেহেদী হাসান রুবেল (১৮), ওসমান হায়দার কিরণ (১৮) ও সেলিনা আক্তার শেলী (৪৫)।

পুলিশ কর্মকর্তা আমেনা বেগম জানান, গত ২৭ এপ্রিল ইয়াবা ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান মাদক ব্যবসায়ী ছগির হোসেন। তার এই গ্রেফতারের পেছনে সহযোগী মফিজকে সন্দেহ করেন ছগির। গ্রেফতার হওয়ার ৫ দিন পর ছগিরের স্ত্রী ছেলে কিরণসহ কয়েকজন কারাগারে দেখা করতে যান। তখন মফিজকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন ছগির হোসেন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছগিরের ছেলে কিরণের মাদকাসক্ত বন্ধুদের কাজে লাগান ছগির ও তার স্ত্রী শেলী। পরে ১৪ মে ভোরে ফজরের নামাজের পর মফিজের রুম মনে করে রিকশাচালক রাজুর রুমে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় রাজুকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে খুনিরা পালিয়ে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডবলমুরিং থানার উপ-পরিদর্শক অর্ণব বড়ুয়া জানান, ছগিরের স্ত্রী সেলিনা আক্তার শেলী (৪৫) ও শিমুল দাশের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ডবলমুরিং থানায় মামলা রয়েছে। শিমুল, সিফাত, সুজন, রাকিব, নুর নবী, রুবেলসহ একটি কিশোর গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ করে ছগির হোসেন। তাদেরকে ছগির সেবন করার জন্য ইয়াবা সরবরাহ করেন বলে তারা সবাই ছগিরের অনুগত।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ মে ভোরে ডবলমুরিং থানাধীন হাজীপাড়া এলাকায় রিকশাচালক মো. রাজুকে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজু। এ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামি গ্রেফতার ও হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে ডবলমুরিং থানা পুলিশ।  


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য