শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ জুন, ২০২১ ১৯:৫৫
প্রিন্ট করুন printer

টিকিটের টাকা ফেরত দিতে পারছে না পশ্চিমাঞ্চল রেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

টিকিটের টাকা ফেরত দিতে পারছে না পশ্চিমাঞ্চল রেল
ফাইল ছবি
Google News
করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় হঠাৎ করে ১০ জুন রাতে রাজশাহী মহানগর এলাকাতে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। লকডাউন ঘোষণায় পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষ রাজশাহী থেকে সব যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপরই ১১ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত বিক্রি করা ট্রেনের আগাম টিকিটের টাকা ফেরত নিতে ভিড় করেন যাত্রীরা। কিন্তু অর্থ বিভাগের অর্থছাড়ে অপারগতায় সেই টাকা ফেরত দিতে পারছে না রাজশাহী রেল কর্তৃপক্ষ। 
 
এই চলমান লকডাউনের ভিতরও যাত্রীরা টিকিট ফেরত দিতে এসে স্টেশনের কাউন্টার থেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। অপরদিকে প্রতিদিনই যাত্রীদের নানা প্রশ্ন ও বাক্যবাণে পড়তে হচ্ছে রাজশাহী রেল স্টেশনে দায়িত্বে থাকা বুকিং সহকারী, স্টেশন মাস্টার ও অনুসন্ধানে কর্মরত কর্মচারীরা। তবে গত ১৪ জুন থেকে স্টেশনে মাইকিং করা হচ্ছে লকডাউনের পর যাত্রা বাতিলের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে যাত্রীদের।
 
রাজশাহী স্টেশনের ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন, ‘১০ জুন প্রায় ছয় লাখ টাকা ক্যাশ হাতে থাকায় তা ১১ জুন ভোর থেকে যাত্রীদের দেওয়া হয়েছিল। কাউন্টারের টিকিট বিক্রির টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাকি টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, তিতুমীর ট্রেনের সব যাত্রীকেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বনলতা, পদ্ম, টুঙ্গিপাড়া, বরেন্দ্র ও ঢালারচর এক্সপ্রেসের কিছু যাত্রীর টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ যাত্রীর টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখনও প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো ফেরত দিতে হবে যাত্রীদের। 
 
স্টেশনে টিকিটের টাকা ফেরত নিতে আসা যাত্রী ইসমাইল হোসেন জানান, এই লকডাউনেও স্টেশনে এসেছিলাম টিকিটের টাকা ফেরত নিতে। কিন্তু তা পেলাম না। স্টেশন থেকে বলা হচ্ছে টাকা নেই, লকডাউনের পর থেকে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তাই বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
 
পশ্চিম রেলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) আহসান আলী ভুইঁয়া বলেন, ‘১৩ জুন যাত্রীদের অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। সেজন্য রাজশাহী রেলওয়ের অর্থবিভাগে ৩০ লাখ টাকা চেয়ে আবেদনও করা হয়েছিল। এতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম), ডিভিশনাল কমার্শিয়াল অফিসার (ডিসিও), স্টেশন ম্যানেজার তাতে সুপারিশ করি। কিন্তু আইনগত জটিলতা ও অর্থ বিভাগের বাধ্যবাধকতায় কারণ দেখিয়ে সেই আবেদন নাকচ করেন প্রধান অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান।’
 
পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, অর্থ ছাড়ে আইনি জটিলতা থাকায় আবেদন করা অর্থ ছাড় দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ আবেদন করা ৩০ লাখ টাকার দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে। 
 
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণেও আমরা টাকা তুলে ফেরত দিতে পারিনি। তাই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক টাকাও ফেরত দিতে ব্যর্থ হই। যাত্রীদের টিকিটের টাকা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর