৫ জুলাই, ২০২২ ০৮:৫৮

কোরবানির পশুতে পূর্ণ হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির পশুতে পূর্ণ হাট

ফাইল ছবি

নিয়ম ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানী ঢাকার অস্থায়ী হাটগুলোতে আনা হয়েছে কোরবানির পশু। নিয়ম অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে হাট শুরুর কথা থাকলেও এরই মধ্যে কোরবানি পশু এসে গেছে নগরীর অস্থায়ী হাটগুলোতে। 

নির্ধারিত জায়গা পেরিয়ে মানুষের বাসাবাড়ির সামনের দরজা থেকে শুরু করে অলিগলিতে ছড়িয়ে গেছে হাট। গতকাল নগরীর বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দুই সিটির ইজারা শর্ত অনুযায়ী ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন কোরবানির অস্থায়ী হাট চালু থাকবে। আর হাট বসার দুই দিন আগে ইজারাদার হাটের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করতে পারবেন। এছাড়া প্রতি ৭ ফুট বাই ১০ ফুট তথা ৭০ বর্গফুটে একটি করে গরু রাখতে হবে। কিন্তু এসবের কিছুই দেখা যাচ্ছে না হাটগুলোতে। 

আগামী ১০ জুলাই দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। সে হিসাবে ৬ জুলাই থেকে নগরে হাট বসার কথা আর সোমবার (গতকাল) থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা। তবে এসব শর্তের তোয়াক্কা না করে আরও অন্তত তিন-চার দিন আগে থেকেই হাটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাটগুলোতে রাখা হয়েছে কোরবানির পশু। সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেরাদিয়া হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের মূল এলাকা পেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ির দরজা ও অলিগলিতে ইজারাদারের দেওয়া বাঁশের খুঁটিতে পশু রাখা হয়েছে। গলির মাঝ অংশে শামিয়ানা টানিয়ে পশুর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেসব গলিতে চলাচল করা যাচ্ছে না। হাটগুলোতে যেভাবে আয়োজন করা হয়েছে, তাতে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। ফলে আশপাশের বাসাবাড়ির মানুষ করোনা ঝুঁকির পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। 

বনশ্রীর ৩ নম্বর গলির বাসিন্দা মো. আসিফ বলেন, ‘কোরবানি হাট নিয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কঠোর স্বাস্থ্যবিধির কথা শুনে আসছি। কিন্তু কোথায় স্বাস্থ্যবিধি! যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে সেটা তো অন্যান্য বছরের চেয়েও খারাপ।’ এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার আওরঙ্গজেব টিটু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু নিয়ে চলে এলে আমাদের কী করার থাকে। 

সিটি কর্পোরেশন থেকে যেসব শর্ত দিয়েছে সেগুলো পালন করেই কাজ করছি। আমাদের দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে। দুই দিনে একটা হাট প্রস্তুত করা যায় না।’ একই অবস্থা দেখা গেছে আফতাবনগর হাটেও। এই হাটের প্রস্তুতি শেষ। সেখানে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে পশু। হাটে আগত অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। নেই সিটি করপোরেশনের কোনো তদারকিও। 

তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠ হাটেও দেখা গেছে একই অবস্থা। মাঠ ছাড়াও আশপাশের সড়কের দুই পাশে এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বাঁশের খুঁটি লাগিয়ে হাট প্রস্তুত করেছেন ইজারাদাররা। কোথাও কোথাও গরু বেঁধে রাখতে দেখা গেছে।

ইজারাদার ও পশু ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোরবানি উপলক্ষে রাজধানীর হাটগুলোতে পশু ওঠানোর সব প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু পশু এসে গেছে। আসার প্রক্রিয়ায় আছে অনেক পশু। বাকি পশু আগামী ৫-৬ তারিখের মধ্যে উঠে যাবে। তাদের মতে, এবারের কোরবানির হাটে প্রায় ১০০ শতাংশ থাকবে দেশি গরু। 

রাজধানীর অস্থায়ী কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে জানা গেছে, পশু দেখতে নগরবাসী এলেও বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। সম্ভাব্য দাম কেমন হবে এসব জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত সময়ের আগেই পশু নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে আফতাবনগর হাটের ইসমাইল নামে এক গরুর ব্যাপারি বলেন, ‘আগে হাটে এলে ভালো জায়গায় পশু রাখা যায়। সঙ্গে নিজেদের থাকার জন্যও ভালো জায়গা পাওয়া যায়। এছাড়া ট্রাকে করে পশু আনার ফলে অনেক পশুর স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে একটু বিশ্রামেরও প্রয়োজন। তাই আগেই আনা হয়েছে।’

তবে এবার পদ্মা সেতু হওয়ায় ঢাকায় পশু আনতে কষ্ট কম হয়েছে বলে জানান ব্যাপারিরা। সেই সঙ্গে পশু আনার খরচও মোটামুটি কম হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় পশু খুব একটা অসুস্থ হয়নি।

একই হাটে কথা হয় ফরিদপুর থেকে আসা মিয়াচান শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গরু আনতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এবারের সময়টাতে বর্ষা। তাই বাজারের উঁচু স্থানে পশু রাখার জন্য আগেই চলে এসেছি। হা?টে ১৪টি গরু এনেছি। আরও বেশ কয়েকটি গরু আসবে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘শর্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আগামী মঙ্গলবার থেকে হাট বসানোর কথা। এর আগে হাটে পশু তোলার সুযোগ নেই। আমরা সব ইজারাদারকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করার জন্য বলেছি। হাট পরিচালনার ক্ষেত্রে কেউ যদি স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে না পারেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলমকে মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর