শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ মে, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মে, ২০১৬ ২৩:২৮

বরিশালের সাত কিলোমিটার মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ

বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি

রাহাত খান, বরিশাল

বরিশালের সাত কিলোমিটার মহাসড়ক এখন মৃত্যুফাঁদ

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নগরীর অভ্যন্তরের ৭ কিলোমিটার সড়ক ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। ভারী যানবাহনের চাপায় প্রতিনিয়ত রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে এ মহাসড়ক। বাড়ছে স্বজনহারাদের আহাজারি। এ অবস্থায় ৭ লাখ বাসিন্দা অধ্যুষিত বরিশাল নগরবাসীর নিরাপদ চলাচলের জন্য নগরীর পাশ দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগে ১৫ বছর আগের ২২ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর পাশ দিয়ে সোয়া ১১ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রকল্পটি ফাইলবন্দী অবস্থায় রয়েছে। গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় নগরীর খান সড়কের সামনে ট্রাকচাপায় কিশোর মজলিশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌসী সীমা নিহত হন। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে দুর্ঘটনাস্থলে গতিরোধক নির্মাণ করে সড়ক বিভাগ। ওই গতিরোধকে স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে নগরীর নর্দান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা মেরী বেগম মারা যান। এর কয়েক দিন আগে নগরীর চৌমাথায় ট্রাকের ধাক্কায় এক ব্যক্তি আহত হওয়ার জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এভাবে নগরীর অভ্যন্তরে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ট্রাক-বাসের চাপায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কেউ হয়েছে পঙ্গু। তাই ১৫ বছর আগে সড়ক বিভাগের নেওয়া বাইপাস প্রকল্পটি জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে নগরবাসী।

সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরের ৭ কিলোমিটার মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের বিকল্প হিসেবে বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক বিভাগ। প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কটি বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের ৩ কিলোমিটার অংশে নগরীর রূপাতলী সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের দক্ষিণ পাশ থেকে শুরু হবে। শহরের পাশ দিয়ে এভাবে ১১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে নগরীর সীমান্তবর্তী গড়িয়ারপাড়ের দক্ষিণ দিকে সড়কটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২২ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রকল্পটি ১৯৯৯ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর থেকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও ‘বরিশাল বাইপাস সড়ক’ প্রকল্প ফাইলবন্দী অবস্থায় পড়ে আছে। বরিশাল সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ শাহেদ জানান, সরকার বাইপাস সড়কের কাজ বন্ধ রেখেছে। তবে সড়ক চওড়া করে সিগন্যাল মার্কিং বসিয়ে দুর্ঘটনা রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর