শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মার্চ, ২০১৯ ২৩:২২

নৌকাকে জেতাতে পাঁচ লাখ টাকা চাইলেন শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

নৌকাকে জেতাতে পাঁচ লাখ টাকা চাইলেন শিক্ষকরা

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাইকে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আর শিক্ষকরা তার ‘প্রতিদানে’ চেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। তারা এমপিকে বলেছেন, পাঁচ লাখ টাকা দিলে তারা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেবেন। গতকাল দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও মিলন (পিকনিক) উৎসবে এমপি ও শিক্ষকদের এই কথোপকথন হয়। শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমিনুর রহমান। বক্তব্য দেন গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল মজিদ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিবলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এমপিপতœী নিগার সুলতানা চৌধুরী ও গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদও উপস্থিত ছিলেন। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘তৃতীয়বারের মতো আমাকে নির্বাচিত করার কাজে সক্রিয়ভাবে আপনাদের অংশগ্রহণ করা এবং মানসিক শক্তি দেওয়ার জন্য আমি আমার পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এবং নৌকা প্রতীকের জন্য আপনাদের এই আন্তরিকতা সব সময় পদ্মা নদী দিয়ে যে রকম কোটি কোটি গ্যালন পানি প্রবাহিত হয়, সেভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আপনাদের ভালোবাসা প্রবাহিত হতে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক নৌকা এখানে সব সময় বিজয়ী হবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রীকে যত শক্তিশালী আপনারা করতে পারবেন, প্রতিটি স্টেজে বেনিফিশিয়ারি আমরা সবাই হবো।’ ফারুক চৌধুরী আরও বলেন, ‘আপনাদের কিন্তু একটা জিনিস জানা দরকার। এই পিকনিক হয়, আপনারা যে টাকা সমিতিতে জমা দেন, সেই টাকায় হয় না। আউটসাইড থেকে হয়। সুতরাং যারা জমা দেন টাকা তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। এই আমাদের মতো, মজিদ মেয়রদের মতো, রশিদ সাহেবদের আমাদের সাধারণ সম্পাদকÑ এ রকম লোকদের ঘাড় মটকিয়ে খেয়ে নেন আপনারা শিক্ষকরা।’ এ সময় সংগঠনের তহবিলে টাকা দেওয়ার জন্য শিক্ষকরা এমপির কাছে দাবি জানান। এমপি প্রশ্ন করেন, ‘এক লাখ টাকা?’ একজন শিক্ষক বলেন, ‘গতবার তিন লাখ টাকা দিতে চেয়ে এমপি ভুলে গেছেন।’ প্রতিউত্তরে এমপি বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে সেটা পারিনি। বকেয়া তিন লাখ এবার পরিশোধ করে দেব।’ তখন শিক্ষকরা তাদের তহবিলে এমপির কাছে ‘ছয় লাখ টাকা’ দাবি করেন। এ সময় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘প্রিন্সিপাল রাজু বলেছেন, তারা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যানকে (প্রার্থীকে) জিতিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা নেবেন। আপনারা কি জিতিয়ে দিতে পারবেন?’ তখন শিক্ষকরা করতালি দেন। এমপি আবার বলেন, ‘জোর দেখছি না তেমন।’ শিক্ষকরা তখন আরও জোরে করতালি দেন। এমপি আবার বলেন, ‘যাই হোক, এটা আমার প্রস্তাব না কিন্তু। আমি প্রস্তাব দেইনি। এটা প্রিন্সিপালদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে। সুতরাং আমি কিছু বলতে পারব না।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠেয় গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। আর মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বদিউজ্জামান।

শিক্ষকদের টাকা দেওয়ার বিষয়ে বিদ্রোহী বদিউজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষকরা নির্বাচনে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই পরিকল্পিতভাবে সমিতির নামে শিক্ষকদের নিয়ে পিকনিক-সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১০ তারিখের নির্বাচনকে প্রভাবিত ও কারচুপি করার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি শিক্ষকদের এলাকার বাইরে ডেকে তাদের সঙ্গে আঁতাত করতে চাইছেন। তাদের উৎকোচ দিয়ে উপজেলা নির্বাচনকে কলুষিত করতে চাইছেন।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর