শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০৬

প্রস্তুত চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাসপাতাল

করোনায় প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইন

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

প্রস্তুত চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাসপাতাল

মহামারী করোনাভাইরাসের নানাবিধ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে চট্টগ্রামের সিআরবির রেলওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে বর্তমানে কোনো রোগী নেই। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত এ হাসপাতালটি। অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালটি প্রস্তুত রাখতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বশীল মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবরে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যবিভাগ। এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যবিভাগকে রেলওয়ের স্বাস্থ্যবিভাগ একটি চাহিদাপত্রও দিয়েছে। এখনো দেওয়া হয়নি পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ কোনো ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী। তবে প্রয়োজন হলেই রেলওয়ের হাসপাতালটি ব্যবহার করা হবে, সে ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটি হোম কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত আছে বলে জানান চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যবিভাগ ও রেলওয়ে স্বাস্থ্যবিভাগ নিশ্চিত করেছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে প্রাথমিকভাবে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইনের জন্য সিআরবির রেলওয়ে হাসপাতালটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রেলওয়ে হাসপাতাল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। করোনা বিষয়ে চট্টগ্রামের অবস্থা এখনো ভালো। তাই এ মুহূর্তে আশা করছি এসবের প্রয়োজন নেই, তবুও প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। যদি হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার মতো পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে ত্রাণ ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় খাবারসামগ্রীও সরবরাহ করবে। তা ছাড়া কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবার জরুরি দরকার হলে তখন দ্রুত রেলওয়ের চাহিদা মোতাবেক জিনিসপত্র সরবরাহ করা হবে। এর আগে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক বরাবরে হাসপাতালটি প্রস্তুত রাখতে চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) ডা. সামশুল আলম মো. ইমতিয়াজ বলেন, করোনা প্রতিরোধের জন্য রোগীদের সেবায় প্রস্তুতি রয়েছে চট্টগ্রামেও। চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবাও চলছে। রেলের হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে কিছুটা প্রস্তুতি রয়েছে। এতে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যবিভাগের পরিচালক বরাবর প্রায় ১০ দিন আগে ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসাসামগ্রী চেয়ে একটি চাহিদাপত্রও দেওয়া হয়েছে। এসব রোগীর জন্য বিশেষ চিকিৎসাসামগ্রী আগেই প্রস্তুত রাখতে হবে। তবে প্রয়োজন হলেই স্বাস্থ্যবিভাগ এসব জিনিসপত্র দ্রুত দেবেন এবং সংকটের মধ্যে করণীয় সম্পর্কে ঠিক করে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ও রেলওয়ে স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সম্ভাব্য করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিরোধকল্পে চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালের ৫০ শয্যাসংবলিত আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।

 স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকেই দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিশে^ করোনাভাইরাস ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশও এ রোগের ঝুঁকিতে আছে। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও প্রতিরোধের জন্য সিআরবির রেলওয়ে হাসপাতালের ৫০ শয্যা সংবলিত আইসোলেশন ওয়ার্ড (অবশ্যই সংযুক্ত বাথরুম ব্যবস্থা রাখাসহ) প্রস্তুতপূর্বক চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসাসামগ্রী এবং মাস্ক-পিপিইসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুদ রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে করোনাভাইরাসের সব ধরনের প্রয়োজনীয় লোকবলসহ জিনিসপত্র চেয়ে আরেকটি চিঠি রেলওয়ে থেকে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যবিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে পায় ১০ দিন আগেই। কিন্তু চিঠি পেলেও এখন পর্যন্ত তেমন গুরুতর সমস্যা না হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তবে প্রয়োজন হলেই দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের ১১ জেলায় এক হাজার ৪০০ আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। তবে স্বাস্থ্যবিভাগের নির্দেশনায় ঢাকা রেলওয়ে হাসপাতালে ১০০ বেডের আইসোলেশন প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের সিআরবির রেলওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল চিকিৎসক ও নার্স সংকটে বেকাদায়। এখানে মঞ্জুরিকৃত পদ অনুযায়ী নেই নার্স। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে নার্সের সংখ্যা পাঁচজন। তবে ক্লিনার আছে সাতজন। এখানে করোনার জীবাণু প্রতিরোধক পোশাক তো নেই, নেই হ্যান্ড গ্লাবস-মাস্কও। আছে শুধুই কাগজ-কলমে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর