শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০ ০০:০০ টা

এলো মধুমাস জ্যৈষ্ঠ

নজরুল মৃধা, রংপুর

এলো মধুমাস জ্যৈষ্ঠ

বাঙালির প্রিয় মধুমাস জ্যৈষ্ঠ এলো এই করোনাকালে। ষড়ঋতুর পথ পরিক্রমায় এখন চলছে গ্রীষ্মকাল। বৈশাখ-জৈষ্ঠ এ দুই মাস গ্রীষ্মের বার্তা বহন করে। এ চক্র পরিক্রমায় আজ মধুমাস জ্যৈষ্ঠের যাত্রা হলো। মধুমাসে বাজারে পাওয়া যাবে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, জামরুল, আনারস, কলা ছাড়াও মিলবে লটকন, পেয়ারা, বাঙ্গি, তরমুজ ইত্যাদি। তরমুজ, বাঙ্গি, কিছু কিছু আম ও লিচু এরই মধ্যে রংপুরের বাজারে চলে এসেছে। কিছুদিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে পাকা কাঁঠাল।

এটি আমাদের জাতীয় ফল। জাম, জামরুল, পেয়ারা, আনারসও সীমিতভাবে পাওয়া যাচ্ছে। কলার ফলনও এ সময় বেশি হয়। তবে এখানেই শেষ নয়, মাসের শেষ দিকে পাওয়া যাবে কামরাঙা, সফেদা, গাব, আমড়া ইত্যাদি। কিন্তু করোনার কারণে ফলে এবার তেমন আগ্রহ নেই ক্রেতার।

কাঁঠাল-জাতীয় ফল হলেও এ সময় আমের গুরুত্ব কম নয়। নানা জাতের আম এ দেশে পাওয়া যায়। দেশি আম হয় টক-মিষ্টি স্বাদের। রংপুরের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা, আম্রপলি, গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া, রানীভোগ, ফজলিসহ নানা জাতের মিষ্টি স্বাদের আমের রসে সিক্ত হয় মুখ। আম এ মাসের ফল হলেও ভাদ্র ও আশ্বিনেও পাওয়া যায়। কিন্তু লিচু খুব স্বল্পসময়ের ফল। বাজারে এর স্থায়িত্ব থাকে তিন থেকে চার সপ্তাহ। দেশে সাধারণত চার প্রকার লিচু পাওয়া যায়। যেমন দেশি, বোম্বাই, চায়না ও বেদানা জাতের। বেদানা জাতের লিচুর দাম সবচেয়ে বেশি। এ লিচু দিনাজপুরে বেশি জন্মে। জামও স্বল্পসময়ের ফল। জাম কয়েক প্রকার বড়, ছোট ও খুদে। ছোট জাতের জাম ভাদ্র-আশ্বিনেও পাওয়া যায়।

কাঁঠাল এমন একটি ফল যা কাঁচা ও পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়। কাঁচা কাঁঠালকে ইঁচড় বলা হয়। এ কাঁঠালে তরকারি হয়। কাঁঠালের বিচি অনেকেরই কাছে প্রিয় খাবার। এর বাইরের ছাল গরু, ছাগলের প্রিয় খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা ফল এখন বাজারে পাওয়া খুবই দুরূহ। ফল আমাদের স্বাস্থ্যের সহায়ক ও রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করলেও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে বাজারে ফল বিক্রি করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তাই ফল কেনার আগে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনকে অসাধু ফল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এ মধুমাস একসময় বেদনার মাস হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এই রকম আরও টপিক