শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩২

কাদের মির্জাকে শান্ত থাকতে বলেছেন ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেছেন তার ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা। গতকাল বিকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওবায়দুল কাদের তার ভাই কাদের মির্জাকে শান্ত থাকতে বলেছেন। সাক্ষাতের পর আবদুল কাদের মির্জা এ কথা জানান। সাক্ষাতের পর কাদের মির্জার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমার নির্বাচনের পর দেখা হয়নি তাই দেখা করতে এসেছিলাম। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা কিছু কমিটি পুনর্গঠন করেছি সেগুলো ওনাকে (সাধারণ সম্পাদক) জানিয়েছি। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ওই নির্বাচনও যাতে সুষ্ঠু হয় সে বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা যেসব কর্মসূচি নিয়েছিলাম, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে সেগুলো স্থগিত করেছি। নোয়াখালীর অপরাজনীতি যদি বন্ধ না হয়, টেন্ডারবাজি, চাকরিবাণিজ্য, প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে যে অপরাজনীতি চলছে- এটা যদি বন্ধ না হয়, অস্ত্রবাজি হয়- তাহলে এক মাস পর আমরা আবার কর্মসূচি দেব।’

মির্জা কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নোয়াখালীর অপরাজনীতির বিষয়ে অভিযোগ আছে। তিনি যাচাই-বাছাই করে সহসাই পদক্ষেপ নেবেন। আমরা এক মাস পরে আবার বিষয়টা আপনাদের জানাব। কাদের মির্জা আরও বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশে এটা (বিভিন্ন কর্মসূচি) প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

‘নির্বাচনের আগের বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের কিছু বলেছেন কি-না’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, কী জন্য বলবে। আমি গঠনতন্ত্র অনুসারে কথা বলেছি। ঘোষণাপত্রে আছে যে, বাকস্বাধীনতা আমার আছে। আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আমি এই জন্য কথাগুলো বলেছি। আমি সাহস করে সত্য কথা বলব। অন্যায়, অবিচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই প্রতিবাদ করব। আমি চাই পরবর্তী নির্বাচনগুলো বাংলাদেশে যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যার উদারণ আমাদের বসুরহাট পৌরসভা।’

‘আগের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ মনে করেন?’- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বলেন, ‘এর আগে কিছু কিছু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। সব নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ এটা ঠিক না। বাংলাদেশে ভোট চুরির রাজনীতি এটা শুরু করেছে জিয়াউর রহমান। হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে। ১৯৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যে নির্বাচন হয়েছে তা নিরপেক্ষ হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। আর মাগুরার নির্বাচনসহ যত নির্বাচন বাংলাদেশে হয়েছে একটা নির্বাচনও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আমলে নিরপেক্ষ হয়নি। আওয়ামী লীগের আমলে অনেক দৃষ্টান্ত আছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন, সেই নির্বাচনগুলোতে বিএনপি বলছে যে, ১২টার পর ভোট কারচুপি হয়েছে? কিন্তু দিনের শেষে দেখা গেল সেখানে বিএনপি জয়লাভ করেছে। আজকে চৌমুহনীর ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। আমি মিথ্যা কথা বলতে পারব না, হাতিয়াতে সুষ্ঠু হয়নি। আমি গতকালকে স্পষ্ট বলেছি, চৌমুহনীতে কোনো অনিয়ম করা হলে নোয়াখালীর ডিসি-এসপিকে দায়ী থাকতে হবে। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রীর (শেখ হাসিনা) প্রতি আস্থা আছে, শতভাগ আস্থা আছে। আমাদের নেত্রী যে নির্দেশ দেবেন সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। নেত্রীর নীতি-নৈতিকতা আছে। কখনো কথা বলে তা থেকে সড়ে যাননি। বাংলাদেশে নেত্রীর যে উন্নয়ন এটা বিশ্বের রোল মডেল। ৭০ হাজার মানুষের মধ্যে ঘর বিতরণ করেছেন, এটা বিশ্বের মধ্যে নজিরবিহীন। এটা কী অস্বীকার করতে পারবেন? শেখ হাসিনা আগামী তিন বছর ক্ষমতা থাকলে বাংলাদেশে কোনো কাজ আর বাকি থাকবে না। আমরা চাই জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন থেকে পরিকল্পনা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর