প্রকাশ : বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৬

রংপুরে বিবাহ বিচ্ছেদে এগিয়ে নারীরা

নজরুল মৃধা, রংপুর

Google News

রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনাকালীন এক বছরে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় ৯০০টি। এর মধ্যে ৬০০ জনের বেশি বিচ্ছেদের আবেদনকারী নারী। প্রতিমাসে গড়ে ৭০টিরও বেশি বিবাহ বিচ্ছেদ অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে দুটির অধিক তালাক হয়েছে। পুরুষের চেয়ে নারীরাই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে বেশি। গত দেড় বছরে আপোস হয়েছে মাত্র একটি। এ ছাড়া সবগুলোই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতিমাসে ৬৫ থেকে ৭০টি বিচ্ছেদ হয়েছে। সূত্র জানায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতের বনিবনা না হওয়া, স্বামীর মাদকাসক্ত, যৌতুক, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে নারীরা স্বামীকে তালাক দিচ্ছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি সংখ্যক রয়েছে শিক্ষিত ও ধনী পরিবারের। যৌতুক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং স্বামীর পরনারীতে আসক্তি ইত্যাদি কারণে নারীদের মাঝে বিচ্ছেদের  প্রবণতা প্রতিদিনই বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিচ্ছেদ হওয়া এক নারী জানান, স্বামী আমাকে পরকীয়ায় সন্দেহ করতেন এবং স্বামীর অন্য নারীর প্রতি আশক্তি থাকায় সংসারে প্রায় অশান্তি লেগে থাকতো। তাই বাধ্য হয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিচ্ছেদ হওয়া এক পুরুষ জানায়, সংসারে আয় কমে যাওয়ায় প্রতিদিন হিটমিট লেগে থাকে। কিছু বললে যৌতুন নির্যাতনের মামলার ভয় দেখাতো স্ত্রী। এছাড়া আরো নানান কারণে অশান্তি লেগেই ছিল। তাই তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রংপুর জজকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এ্যাড আব্দুল জলিল বলেন, তালাক হচ্ছে একমাত্র আইনগত পদ্ধতি যার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তালাকের জন্য প্রথমে নোটিশ প্রদান করতে হয়। এর পর সালিস এর উদ্যোগ  গ্রহণ করার প্রয়োজন পড়ে। সব শেষ ৯০ দিন অতিবাহিত হবার পরে তালাক এর  সার্টিফিকেট একজন রেজিস্টার্ড নিকাহ রেজিস্টারের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়।

রংপুর সিটি করপোরেশনের সাধারণ শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাইম ইল হক জানান, প্রতি মাসেই ৬৫ থেকে ৭০টি তালাক কার্যকর হচ্ছে। কোনো পক্ষই আপোস করছে না। তিনি বলেন গত দেড় বছরে সিটি করপোরেশনে একটি মাত্র তালাকের আবেদন আপোস হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর