শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জুন, ২০২১ ২৩:১৮

রংপুরের শতরঞ্জি, যাচ্ছে ৭১টি দেশে

নজরুল মৃধা, রংপুর

রংপুরের শতরঞ্জি, যাচ্ছে ৭১টি দেশে
Google News

৭০০ বছর আগের ঐতিহ্য রংপুরের শতরঞ্জি জিআই সনদ লাভ করায় খুশি এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় সুধীমহল। শতরঞ্জিসহ ছয় পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে সনদপত্র পেয়েছে। ফলে নতুন করে প্রাণের স্পন্দন ফিরে পেয়েছে গৌরবময়  প্রাচীন এ শতরঞ্জি শিল্পে। বেসকারি প্রতিষ্ঠান কারুপণের শতরঞ্জি এখন বিশ্বের ৭১টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। জানা গেছে, ত্রয়োদশ শতাব্দীতেও রংপুরে শতরঞ্জি বুননের প্রচলন ছিল। এখানকার তৈরি শতরঞ্জি মোঘল সম্রাট আকবরের দরবারে ব্যবহার করা হতো। আভিজাত্যের প্রতীক ছিল। ব্রিটিশ আমলে এখানকার শতরঞ্জি সমগ্রভারতবর্ষ ছাড়া মালয়েশিয়া, বার্মা, সিংহল, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। রংপুর নগরীর উপকণ্ঠে  নিসবেতগঞ্জ নামে একটি  গ্রাম রয়েছে। এ গ্রামটির আগের নাম ছিল পীরপুর।  আঠারো শতকে  নিসবেত নামে এক ব্রিটিশ রংপুর জেলার কালেক্টরেটে ছিলেন। পীরপুর গ্রামে সে সময় মোট মোটা ডোরাকাটা রং-বেরঙের সুতার গালিচা বা শতরঞ্জি তৈরি হতো। নিসবেত সাহেব এসব শতরঞ্জি দেখে মুগ্ধ হন। পরে তিনি শতরঞ্জির গুণগতমান উন্নয়ন এবং এ শিল্পের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে সহায়তা প্রদান করেন এবং উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক বিপণনে চেষ্টা করেন। এ শিল্পের মানোন্নয়ন ও বিপণন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্যই নিসবেতের নামানুসারে গ্রামটির নামকরণ করা হয় নিসবেতগঞ্জ। শতরঞ্জি কেবলমাত্র বাঁশ এবং রশি দিয়ে মাটির ওপর সুতো দিয়ে টানা প্রস্তুত করে সুতা গণনা করে হাত দিয়ে নকশা করে তৈরি করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর