বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

অপরিকল্পিত প্রকল্প খুলনার উন্নয়নে অন্তরায়

সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি পরিকল্পনাবিদদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

আধুনিক খুলনায় রূপসা নদীর তলদেশ থেকে টানেল তৈরি করে শহরকে নদীর পূর্ব পাশে বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ পরিকল্পনায় রূপসার পূর্বপাড়কে শহরের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে খুলনাকে আরও দৃষ্টিনন্দন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা যায়, খুলনাকে ‘হেলদি সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির সভায় এ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে ভৈরব সেতু প্রকল্প হাতে নেওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে টানেল পরিকল্পনা। কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই রূপসা সেতু ও ভৈরব সেতু থাকলে টানেল প্রকল্পে অনুমোদন পাওয়া যাবে না বলছেন উন্নয়ন কর্মীরা। এভাবে অপরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়ন খুলনার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দেখা দিচ্ছে। গতকাল খুলনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ও  খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাউদ্দিন জুয়েলের মতবিনিময়ে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘টানেল হলে নদীতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে টানেল শহরের সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে। চট্টগ্রামে টানেল হচ্ছে, আমাদের এখানেও টানেল করা সম্ভব। কিন্তু ভৈরব সেতু নিয়ে তাড়াহুড়ো করা হয়েছে। কিছুদিন অপেক্ষা করলে প্রধানমন্ত্রী হয়তো টানেলে রাজি হতেন। তিনি রাজি না হলে তখন সেতুর চিন্তাভাবনা করা যেত। এখন দুই পাশে দুই সেতুর মাঝখানে টানেল বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।’ এদিকে একইভাবে নির্মাণাধীন খুলনা শিপইয়ার্ড ও শেরেবাংলা চার লেন সড়কে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি কমন ডাক্ট করার বিষয়ে সিটি মেয়র আবদুল খালেক প্রস্তাব দিলেও সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ খাতে ওজোপাডিকো প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তুত করলেও শেরেবাংলা রোডে ওই প্রস্তাবনায় সমন্বয় ছাড়া চার লেনের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রস্তাবিত ফোর লেনের নওয়াপাড়া এলাকায় বিপত্তি দেখা দিয়েছে। সড়কের পাশে জায়গা না থাকায় এখানে ফোর লেনের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল বলেন, যারা পরিকল্পনা করেছেন তারা হয়তো ওই জায়গায়ই যাননি। এখানে ফোর লেন করা কখনো সম্ভব নয়।

পরে বৈঠকে বিকল্প হিসেবে ফ্লাইওভার করার প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে ভেবে বাইপাস নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এদিকে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোস্তফা সারওয়ার বলেন, খুলনাকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। খুলনা শহরকে পশ্চিমপ্রান্তে লম্বালম্বি বাড়ানো হচ্ছে।

এরই মধ্যে শহর ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে পানি বিদু্যুৎ ইউটিলিটি সুবিধা এই ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিতে হচ্ছে। কিন্তু রূপসার তলদেশ থেকে টানেল করে নদীর ওপারে গেলে সেখানে সহজেই নতুন শহর সাজানো যাবে।