শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

সিলেট বিএনপিতে হঠাৎ মেরুকরণ

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেট বিএনপিতে হঠাৎ মেরুকরণ

রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে সিলেট বিএনপির মাথাব্যথা না থাকলেও বলয়কেন্দ্রিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতার কমতি নেই। তাই শুধু মূল দলেরই নয়, অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলোও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যতিব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন বলয়ভিত্তিক নেতারা। দীর্ঘ বিরতির পর নানা ইস্যুতে কয়েক মাস ধরে সিলেট বিএনপি কিছুটা রাজপথমুখী হয়ে ওঠায় বেড়েছে ‘শক্তি প্রদর্শনের’ প্রতিযোগিতাও। আর এই প্রতিযোগিতার পর্যায়ে হঠাৎ করেই মেরুকরণ দেখা দিয়েছে বিএনপি পরিবারে। ‘কমিটির রাজনীতিতে’ কোণঠাসা হয়ে পড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হঠাৎ মাঠের রাজনীতিতে গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। শোডাউন করে নিজের রাজনৈতিক শক্তির প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সিলেটে গ্রুপিং রাজনীতিতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলয়ে ভাঙন ধরিয়ে ভারী করার চেষ্টা করছেন নিজের বলয়। সিলেট বিএনপির রাজনীতি বহুধা বিভক্ত হলেও বেশ কিছু দিন ধরে প্রধান দুই বলয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। জেলা ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এবং ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। কেন্দ্রে প্রভাব খাটিয়ে সব কমিটিতেই নিজের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ নিয়ে একবার ক্ষোভে পদত্যাগও করতে চেয়েছিলেন আরিফ ও তার বলয়ের কয়েকজন নেতা। সেবার কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন আরিফ। এরপর খন্দকার মুক্তাদিরের প্রভাবের কাছে অনেকা ‘কোণঠাসা’ হয়ে পড়েন আরিফ ও তার বলয়ের নেতারা।

কিন্তু সম্প্রতি খন্দকার মুক্তাদির বলয়ে দ্বন্দ্ব এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেওয়ায় আরিফুল হক চৌধুরীর বলয়ে শক্তি বৃদ্ধির হাওয়া লাগতে শুরু করে। এত দিন মুক্তাদির বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত অঙ্গসংগঠনের অনেক দায়িত্বশীল নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বলয়ে যোগ দিয়েছেন। আর এ সুযোগে বিভিন্ন ইস্যুতে আরিফ নগরীতে বিশাল বিশাল শোডাউন করে নিজের শক্তির প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত দিবস উপলক্ষে নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ হয়। বিএনপির কেন্দ্র থেকে গঠিত ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন সিলেট বিভাগীয় সমন্বয় কমিটি’ এই সমাবেশের আয়োজক। ওই কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল হক চৌধুরী। সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। ওই দিন বিশাল সমাবেশ করে আরিফুল হক চৌধুরী নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। এই আয়োজন কেন্দ্রীয় নেতাদেরও প্রশংসা কুড়ায়।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর রেজিস্ট্রারি মাঠে জেলা ও মহানগর বিএনপির সমাবেশে বিশাল শোডাউন নিয়ে যোগ দেন আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সব কর্মসূচিতে আরিফ বলয়ের নেতা-কর্মীদের শোডাউন করে অংশ নিতে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিসিকের বিগত দুই নির্বাচনে জিতে মেয়র হওয়ার পর তিনি দলীয় রাজনীতিতে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনে তাকে পাওয়া যায় না- এমন সমালোচনাও আছে দলের ভিতর। বিপরীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে ক্রমেই নিজের অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছেন আরিফ। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সভা-সমাবেশ, সরকারবিরোধী কর্মসূচি ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সরব ভূমিকা দেখা যাচ্ছে আরিফকে।

বিএনপির রাজনীতিতে এই মেরুকরণ প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা নিজের এবং দলের ভালোমন্দ ঠিকই বুঝেন।  কোন নেতা সুসময়ের বন্ধু, কে দুর্দিনের কান্ডারি সেটা তারা বুঝতে পারেন। দলের এই কঠিন সময়ে যে ব্যানারের পেছনে থাকলে জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করা যাবে, আমার বিশ্বাস, নেতা-কর্মীরা সেই ব্যানারেই আছেন। আগামীতেও তারা একই অবস্থানে থাকবেন।’

সর্বশেষ খবর