শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ টা

হিজড়াদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ডিএমপির অভিযান শুরু

মাহবুব মমতাজী

হিজড়াদের লাগামহীন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে চাঁদা না দিলে পথচারীদের নানাভাবে অপমান ও লাঞ্ছিত হতে হয় হিজড়াদের হাতে। এতে বাদ যান না নারীরাও। এক প্রকার জোর করেই নগরবাসীর কাছ থেকে এসব চাঁদা আদায় করছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে গত ২০ জুন মাসিক অপরাধ সভায় এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। এ নির্দেশনা পাওয়ার পরই মঙ্গলবার থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া শুরু করেছে রাজধানীর সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি)। ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ সদর দফতরের সামনে, শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, কাকরাইল, সায়েন্সল্যাব, মহাখালী, বনানী, মিরপুর এবং উত্তরা এলাকায় হিজড়াদের উৎপাত বেশি। এসব এলাকায় তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পুলিশের মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে। কেউ যদি স্বাভাবিকভাবে কারও কাছে অনুদান চায়, আর এর পরিপ্রেক্ষিতে কেউ খুশি মনে টাকা দিলে তাতে পুলিশ কিছু বলবে না। যদি কারও কাছ থেকে জোর জবরদস্তি করে টাকা আদায় করে তাহলে তাদের নিষেধ করবে পুলিশ সদস্যরা। এরপরও যদি কোনো ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে টাকা আদায় করা হয় তাহলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভিন্নস্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তুরাগের বাউনিয়া বটতলা, রানাভোলা, ফুলবাড়িয়া, সিরাজ মার্কেট, ধরঙ্গার টেক, নয়ানগর, চলভোগ, দিয়াবাড়ী, নলভোগ, পাকুড়িয়া, আহালিয়া, দলিপাড়া, বাউনিয়া, উলুদাহা, বাদালদী ও তুরাগ ফাঁড়ি এলাকায় হিজড়াদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ১৩ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ী মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সিগন্যাল পয়েন্টেও তারা বেপরোয়া। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা কিংবা প্রাইভেট কার থামিয়ে আদায় করে চাঁদা। আর চলন্ত বাসে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা উঠানো হয়।

এদিকে বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি ও মহাখালী সিগন্যালে দেখা যায়, অন্তত ২০-২৫ জন হিজড়া যানজটে থেমে থাকা প্রতিটি বাসে উঠে যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা থেকে শুরু করে যার কাছে যত পায় তত টাকা চাঁদা নেয়। কোনো যাত্রী দিতে না চাইলে তাকে নানা অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলে অপমান করে। এমনকি থেমে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীদের কাছ থেকেও নেওয়া হয় টাকা। এমন দৃশ্য দেখা যায় কাকরাইল এলাকাতেও। মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরেও চাঁদা আদায়ে সড়কে নামেন তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হিজড়াদের টার্গেট বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। চাহিদানুযায়ী টাকা না দিলে অপমান-অপদস্থ হতে হয়। টাকা না দিলে হিজড়ারা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে গায়ে হাত দেয়।

কামরুল হাসান নামে প্রভাতী পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, সম্প্রতি তিনি আগারগাঁও যাচ্ছিলেন। পথে হুট করে বাসে উঠে পড়ে একদল হিজড়া। তারা বাসের প্রতি আসনে যেয়ে যেয়ে টাকা তুলছিল। যে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তাকেই তারা বাসভর্তি যাত্রীর সামনে অপদস্থ করেছে। একযাত্রী তাদের এমন আচরণের প্রতিবাদ করে টাকা দিবে না বলে জানালে তাকে প্রকাশ্যে চুম্বন করে বসে। পরে নিরুপায় হয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন।

গত ৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টাকা তোলা নিয়ে হিজড়াদের দুই পক্ষে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩-৪ জন হিজড়া আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি প্রাঙ্গণের সামনে হিজড়াদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। তবে কাকরাইল এলাকার কয়েকজন হিজড়া বলছেন, হিজড়ারা চাঁদাবাজি করে না। কারণ অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি আর জীবনের জন্য হাততালি দিয়ে চাঁদাবাজি এক নয়। আমাদের পরিবার নাই, চাকরি নাই, শিক্ষা নাই। আমরা বাঁচব কী খেয়ে? আমাদের সন্তান নাই। ভবিষ্যতে অসুস্থ হলে দেখার মানুষ নাই।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর