শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ মার্চ, ২০২০ ২০:০৭
আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০২০ ২০:১৯

আইইডিসিআরকে তুলোধুনা করা সেই নারী করোনা নেগেটিভ

অনলাইন ডেস্ক

আইইডিসিআরকে তুলোধুনা করা সেই নারী করোনা নেগেটিভ
আতিক রমা

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে। এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন পাঁচ জন। এদিকে, সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন আতিক রমা নামে এক নারী। 

এবার তিনি আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তার করোনাভাইরাস ফলাফল নেগেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

শনিবার তিনি তার ফেসবুকে যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো- 

অবশেষে!!!!!
মাত্র রিপোর্ট পেলাম হাতে 'Result: NEGATIVE for Covic-19 '

অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদে এ জীবনে আর একবার নতুন জীবন পেলাম। সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আমি শুধু এটুকুই চেয়েছিলাম, একটা সঠিক ডায়াগনোসিস হোক। সঠিক রোগ নির্ণয়। তা করতে গিয়ে দেখলাম চারদিকে খালি অব্যবস্থাপনা। সেটুকুরই প্রতিবাদ করেছিলাম একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে। বিশ্বব্যাপী যে মহামারী ধেয়ে এসেছে তা সামাল দিতে প্রতিটা দেশকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, সামনের দিনে আরও হবে। এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম না।

আমি পারতো পক্ষে কখনও কাউকে হেও করি না বা অসম্মান করে কিছু বলি না বা লিখি না। কিন্তু এবার IEDCR প্রধান মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরার ওপর খুব রেগেছিলাম। উনি আমার চেয়ে বয়সে বড় হওয়া স্বত্বেও খারাপ ভাষায় গালাগাল করে পোস্ট লিখেছিলাম। আসলে প্রচন্ড অসুস্থ ছিলাম এবং স্বাস্থ্য সেবা নিতে গিয়ে প্রতি পদে পদে অব্যবস্থাপনা দেখে এবং উক্ত কাজে নিয়োজিত লোকজনের অসৌজন্যমূলক আচরণে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। যদিও ব্যক্তিগত ভাবে ওনাকে আমি চিনি না এবং ব্যক্তিগত ভাবে আমার সাথে ওনার কোনো বিরোধ নেই, তবুও সার্বিক পরিস্থিতিতে মূল দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিটিকে আক্রমণ করেছিলাম। তারজন্য এই পোস্টের মাধ্যমে তার কাছে আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

একজন তার পোস্টে লিখেছিল আমি Self Suspect ছিলাম। কিন্তু সেই তথ্যটা ভুল ছিল যা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি। আমাকে একজন ডাক্তারই টেস্টটা করাতে জোর করেছিলেন। কারণ আমার টেস্টের ওপর তারও অনেক কিছু নির্ভর করছিল। আমি তার কাছেও কৃতজ্ঞ।

এখন বলি আমার চারপাশে কি কি ঘটেছে। থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়ে বিল্ডিং লকডাউন করে একটা হুলুস্থুল করা হয়েছিল। বিল্ডিং-এর মানুষজনের স্বাভাবিক চলাফেরায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির ফলে বেশির ভাগই বিরক্ত ছিল।

আমাদের বিল্ডিং থেকে নাকি বাসার কাছের মসজিদে নামাজ পরতে যেতে মানা করা হয়েছিল বাসিন্দাদের। আজই তা জানলাম।

সেক্টর কল্যাণ সমিতির ময়লার গাড়ি নাকি আর সব বাসার বর্জ নিলেও গত দুইদিন আমাদের বাড়িরটা নেয়নি। একটা দুর্যোগ আসতেই পারে। সেই দুর্যোগ যদি সম্মিলিত ভাবে মোকাবেলা করা যায় তবেই তা মোকাবেলা করা যাবে। করোনাভাইরাস তেমনই। এটা কারো একার যুদ্ধ না। এটা সমগ্র পৃথিবীর যুদ্ধ। একে পৃথিবীর সকল মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই প্রতিহত করতে হবে। কাউকে একা যুদ্ধ করতে দিয়ে পালিয়ে বাঁচা যাবে না এটুকু বলতে পারি।

গত কিছুদিনে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা কাজে লাগাতে চাই এবং যেকোন মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকতে চাই। তার জন্য কিছু প্রস্তুতি দরকার। সেটা নেয়া শুরু করেছি। সাথে আরও যারা থাকতে চান, জানাবেন। আমরা সবাই মিলে এই সংকট দূর করবো।

আবারও সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমি স্রষ্টার কাছে শুধু একটা বার প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলাম, একটা বার আমাকে কনসিডার করার অনুরোধ করেছিলাম, উনি আমার কথা রেখেছেন। কিছু কাজ করতে চাই। সেই কাজগুলো করার সুযোগ যখন উনি দিয়েছেন তখন আর পেছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। সবাই আমাকে আশীর্বাদ করবেন যেন স্বপ্নগুলো পূরণ করে তবেই বিদায় নিতে পারি। সবার জন্য ভালোবাসা। জগতের সকল প্রাণ ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য