শিরোনাম
বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪ ০০:০০ টা

ফাঁদে প্রাণ যাচ্ছে হাজারো পাখির

ঝিনাইদহে লিচু রক্ষায় বাগান মালিক ও ইজারাদারের কারেন্ট জালের ফাঁদ

শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ

ফাঁদে প্রাণ যাচ্ছে হাজারো পাখির

কারেন্ট জালের ফাঁদে ঝিনাইদহে লিচুবাগানে প্রাণ যাচ্ছে হাজারো দেশি প্রজাতির পাখির। লিচু রক্ষায় বাগান মালিক ও ইজারাদার মিলে ব্যবহার করছেন কারেন্ট জালের ফাঁদ। লিচু সুস্বাদু আর লোভনীয় ফল। তবে মৌসুমের জনপ্রিয় এ ফল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে এ নির্মমতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এতে বাগানে মারা যাচ্ছে মানুষের খাদ্যশৃঙ্খল, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী এসব পাখি।

সরেজমিনে গতকাল সদর উপজেলার খাজুরা পশ্চিমপাড়ার এক লিচুবাগানে গিয়ে দেখা যায়, পাখি থেকে লিচু রক্ষার জন্য কারেন্ট জাল ব্যবহার করা হয়েছে। পাখি যাতে লিচু খেতে না পারে তাই এসব ব্যবস্থা। পাখি অবাধে এসে গাছের ডালে বসতে বা উড়তে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। শত চেষ্টা করেও মুক্তি নেই। লিচুবাগানের চারদিকে ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় কারেন্ট জালে পুরো বাগান ঢেকে রাখা হয়েছে। আর সিনথেটিক সুতার তৈরি মিহি জালে ঝাঁকে ঝাঁকে আটকে মারা যাচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় কাঠঠোকরা, দোয়েল, কোকিল, কাকাতুয়া, টুনটুনি, বুলবুলি, বউ কথা কও, শালিক, ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির হাজারো পাখি। স্থানীয়রা বলেন, ‘পাখির আর্তনাদে রাতে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। দিনের বেলায় বাগানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ও একই চিত্র দেখা যায়। মৃত পাখির দুর্গন্ধে এলাকায় থাকা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ করলে বাগান মালিক পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে এনে আমাদের নানা রকম হয়রানি করেন।’ বাগান মালিক সুজন শাহ্ বলেন, ‘আমার বাগান এক ইজারাদারের কাছে ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলাম। ওই ইজারাদার বাগান রক্ষা করতে না পারায় স্থানীয় সদর থানা পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

তবে সদর থানার উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, ‘আমি একটি জমি কেনা সমিতির উপদেষ্টা। লিচুবাগানের মালিকসহ ২৫ সদস্য রয়েছেন এ সমিতিতে। বাগানটি সমিতি কেনে। পাখি লিচু নষ্ট করে দিচ্ছে বিধায় বাগানটি ইজারাদার ঘিরে রাখেন। তা না হলে বিভিন্ন ধরনের দেশি পাখি বসে ফল নষ্ট করে দিচ্ছে।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বন বিভাগের একদল কর্মী। সেখানে বনপ্রহরী দিপু বিশ্বাস বলেন, ‘এভাবে হাজার হাজার পাখি নিধন করা কাম্য নয়। বাগানের প্রবেশদ্বারে তালা মেরে রাখায় আমরা এখন পর্যন্ত বাগানটিতে প্রবেশ করতে পারিনি। বাগানের ভিতরে অসংখ্য পাখি কারেন্ট জালে আটকা পড়ে আছে। এ ঘটনা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদফতরকে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে খুলনা থেকে একটি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা করেছে। এ রকম নিষ্ঠুরতার জন্য আমরা অবশ্যই বাগান মালিকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।’ এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। কারেন্ট জাল ব্যবহার করা আইনত অপরাধ ও চরম অমানবিকতা। উপজেলা প্রশাসন থেকে ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

সর্বশেষ খবর