Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৯ ১৭:২৬

পাহাড়ে কাটেনি শঙ্কা

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পাহাড়ে কাটেনি শঙ্কা

পাহাড়ে এখনো শঙ্কা কাটেনি। তাই দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। পুরো রাঙামাটি জেলা জুড়ে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে প্রশাসন। একই সাথে পাহাড়ে থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেছেন, দুইটি পৃথক ঘটনার পর রাঙামাটিতে আর কোন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি সদস্যরা। কোন নাশকতাকারিকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। তিনি আর বলেন, বাঘাইছড়িতে ও বিলাইছড়িতে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে। 

বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে নিহতদেন দাফন  ও দাহক্রিয়া সম্পন্ন
অন্যদিকে, গত ১৮ ও ১৯মার্চ রাঙামাটি বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ৮জনের দাফন ও দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। 
বুধবার সকালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং বাজার এলাকায় কবরস্থানে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়র, পোলিং কর্মকর্তা মো.আমীর হোসেন ও আনসার ভিডিপি সদস্য জাহানারা বেগম, বিলকিস আক্তার, মো. আলা-আমীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

এছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলছড়ি ইউনিয়নের কড়াঙ্গাতলীতে মিহির কান্তি দত্ত ও পথচারি মন্টু চাকমার দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান, রাঙামাটি বাঘাইছড়ি থানার কর্মকর্তা (ওসি) এম এ মনঞ্জুর আলম। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত অভ্যাহত রেখেছে। যে কোন সময় খুনিদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। 

অন্যদিকে কড়া পুলিশের নিরাপত্তায় বিলাইছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার উড়াছড়ি এলাকায় দাহক্রিয়া সম্পন্ন করেছে তার পরিবার। এ ব্যাপারে বিলাইছড়ি থানার কর্মকর্তা (ওসি) পারভেস আলী জানান, বিলাইছড়ি থানায় এ হত্যাকাণ্ডের কোন মামলা হয়নি। কারণ নিহতের স্বজনরা তার দাহক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তবে মামলার কার্যক্রম চলমান। 

বিলাইছড়িতে ৪৮ঘণ্টার অবরোধ

অন্যদিকে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা হত্যার প্রতিবাদে ৪৮ঘণ্টা অবরোধ চলছে। 

বুধবার সকাল থেকে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. জাহিদের নেতৃত্বে এ অবরোধ কর্মসূচী শুরু হয়। এ অবরোধের কারণে বিলাইছড়িথেকে রাঙামাটি শহরে কোন নৌ-যান চলাচল করে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। এখনো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চাপা আতঙ্কে ঘর থেকে বের হচ্ছে না সাধারণ মানুষ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবি করার চেষ্টা করছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।
এব্যাপারে বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. জাহিদ জানান, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যা করেছে স্থানীয় আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এ হত্যাকান্ডের বিচার ও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত পর্যন্ত এ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। 

আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি সাত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমার গ্রুপ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস’কে দায়ী করে রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  করেছে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। 
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পৌরসভা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এসময় বিভিন্ন ব্যানার ও প্রতিবাদি ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে শত শত পাহাড়ি-বাঙালী নারী পুরুষ বিক্ষোভ মিছিলে আংশগ্রহণ করে।  মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সামনে এসে সামাবেশে মিলিত হয়। 

এ মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাঙামাটি ২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। এসময় তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, আওয়ালী লীগের সহ-সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর, আওয়ামী লীগ নেতা অংশু ছাইন চৌধুরী, অংশুপ্রু চৌধুরী, রাঙামাটি মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান রোমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১৮মার্চ) রাতে নির্বাচনের শেষে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কংলাছড়ি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনটি কেন্দ্রের মালামালসহ উপজেলা সদরে আসার পথে নয় মাইল এলাকায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যদের উপর ব্রাশ ফায়ার করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সে সময় ঘটনাস্থলে মারা যায় ৭জন। আহত হয় আর ১৯জন। এ ঘটনার ১৩ঘণ্টা পর অর্থাৎ (১৯মার্চ মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টায় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে গুলি করে হত্যা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এসব ঘটনায় পাহাড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য