Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:৫৮
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:০১

বাগেরহাটে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা রাশিদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ইলিয়াছ জোমাদ্দারের (৪৮) বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। 

প্রভাবশালীদের সালিস-বৈঠকের নামে ঘটনার ১২ দিন পর ধর্ষণের শিকার শিশুর বাবা বাদী হয়ে সোমবার মধ্যরাতে শরণখোলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় ধর্ষক মাদ্রাসা সুপারের বিচার দাবিতে দুপুরে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ বেড হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে পলাতক থাকা ধর্ষক মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইলিয়াছ জোমাদ্দার (৪৮) জেলার শরণখোলা উপজেলার পূর্ব রাজাপুর গ্রামের মৃত আ. গফফার জোমাদ্দারের ছেলে। 

শিশুটির বাবা মো. রফিক হাওলাদার জানান, শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাহফিজুর রহমান শেখ জানান, গত ৮ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে উত্তর খোন্তাকাটা গ্রামের মো. রফিক হাওলাদারের মেয়ে শিক্ষার জন্য ওই মাদ্রাসার সুপার ইলিয়াছের কাছে যান। ওইদিন পড়া শেষে লম্পট মাদ্রাসা সুপার তাকে লাইব্রেরি কক্ষে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে শিশুকন্যা লামিয়াকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে শিশুটিকে হুমকি দিয়ে বলেন, এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে খুন করে ফেলা হবে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি গিয়ে শিশুটি মা হাওয়া বেগমকে ধর্ষণের ঘটনা খুলে বলে এবং, রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়েকে মোরেলগঞ্জ রাইসা ক্লিনিকে চিকিৎসা ভর্তি করেন। 

মামলা দায়েরের বিলম্বের বিষয়ে শিশুটির বাবা জানান, মেয়েটি সুস্থ হতে বিলম্ব ও এলাকার প্রভাবশালীরা সালিস-বৈঠকের নামে তালবাহনা করায় বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে সোমবার মধ্যরাতে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছি। 

খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, সোমবার (১৯ আগষ্ট) বিকালে ধর্ষণের শিকার শিশুর বাবা জানান, মাদ্রাসা সুপার মাওলানা ইলিয়াছ জোমাদ্দার শিশুটিকে ধর্ষণ করেছে। ১২ দিন ধরে চিকিৎসার পরও সুস্থ হয়ে ওঠেনি শিশুটি। তিনি মিশুটির বাবাকে দ্রুত থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন। ওই মাদ্রসা সুপারের বিরুদ্ধে আগেও এ ধরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাহফিজুর রহমান শেখ জানান, সোমবার মধ্যরাতে শিশুটি বাবা বাদী হয়ে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক মাদ্রাসা সুপারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ বেড হাসপাতালে সম্পন্নের পর জবানবন্দী রেকর্ড করার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য