শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:০৯

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মৎস চাষিদের ভর্তুকি দাবি

রংপুরে বর্ষণে পুকুর-খালের কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরে বর্ষণে পুকুর-খালের কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে
রংপুরে শতাব্দির সেরা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত নাছনিয়া বিল

রংপুরে শতাব্দির সেরা বর্ষণে শত শত পুকুর, খাল ও নাছনিয়া বিলের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। মৎস্য চাষিদের দাবি প্রায় কয়েক কোটি টাকার মাছ বর্ষণে বের হয়ে গেছে। পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় কয়েকশ মৎস চাষি পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। 

অনেক চাষি লীজ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণে মাছ বের হয়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা পুঁজি নিয়ে মাথায় হাত দিয়েছেন অনেকে। তারা ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মৎস চাষে সরকারের নিকট ভতুর্কি দাবি করেছেন। 

নগরীর চিকলী, কুকরুল ও চকচকার বিলেরও অবস্থা একই। এছাড়াও অনেকে পুকুর লীজ নিয়ে মাছ করতে গিয়েও পুঁজি হারাতে বসেছেন।

রংপুর নগরীর নাছনিয়া বিল লীজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন আজমল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এই বিলের মাছ ভেসে গেছে। তার দাবি মাছ ভেসে যাওয়ায় তার প্রায় কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নিকট লীজ নিয়ে তিনি মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছ ছেড়েছেন বিলে। অনেক মাছ বড়ও হয়ে গিয়েছিল। সব মাছ বের হয়ে যাওয়ায় তিনি পথে বসার উপক্রম। তার মতো কয়েক শত মৎস খামারী অতিবর্ষণের ফলে পথে বসেছেন।
 
পূর্ব শালবনের আজমল উদ্দিন জানান, বিল তৈরি, মাছের খাবার, বিল নিরাপত্তার লোক রাখা ও মাঝে মাঝে মাছের পরিচর্যায় কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে। অনেক মাছ বিক্রির উপযোগী হয়ে পড়েছিল। সব আমার শেষ হয়ে গেল। এখন ভর্তুকি ছাড়া আমার জীবন বাঁচাই দায়। 

শুধু নাছনিয়া নয় কুকরুল, চকচকা বিলের মতো অসংখ্য পুকুরের পাড় উছলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। ফলে শতশত মৎসজীবী পুঁজি হারিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে। মৎস চাষিদের বের হয়ে যাওয়া মাছগুলো বিভিন্ন জলাশয়, প্রধান সড়ক, বিভিন্ন বাসাবাড়ি, পুকুর ও খাল থেকে অনেকেই জাল দিয়ে ধরে বিক্রি করছে।

আবহাওয়া অফিসের সূত্র মতে গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩৩ মিলিমিটার। এসময় ভারী বর্ষণে খাল বিল পুকুরের পানি উপচে পড়ে।  ফলে পুকুর, খাল বিলের মাছগুলো অন্যত্র চলে গেছে।

রংপুর বিভাগীয় মৎস অফিসের উপ-পরিচালক মো. সাইনার আলম বেসরকারি পর্যায়ে খামারীদের চাষ করা মাছ ভেসে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মৎস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কয়েক কোটি টাকার মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি মৎস চাষে ক্ষতিগ্রস্তদের ভর্তুকির বিষয়টি সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাবেন। 

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর