শিরোনাম
প্রকাশ : ২ মে, ২০২১ ১৬:৩৮
আপডেট : ২ মে, ২০২১ ১৬:৫৫
প্রিন্ট করুন printer

কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্ত

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:

কাপ্তাই হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্ত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলধারা ও বাংলাদেশের প্রধান মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হয়েছে পোনা মাছ। রবিবার দুপুরে রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের বিপনি কেন্দ্র ফিসারী ঘাট এলাকায় এ মাছের পোনা অবমুক্ত করেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। 

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোঃ আব্দুল লতিফ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের রাঙামাটি জেলা ব্যবস্থাপক লে. কর্ণেল কমান্ডার এম. তৌহিদুল ইসলাম (ট্যাজ) ও  রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজোহরা উপমা উপস্থিত ছিলেন। 

বিএফডিসি সূত্রে জানা যায়, বন্ধকালিন সময় রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি লক্ষ্যে এ পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। কারণ রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ দেশের কার্প জাতীয়  মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের একটি অন্যতম স্থান। এ হ্রদে  প্রতি বছর প্রাকৃতিক প্রজননকৃত মাছের মধ্যে শতকরা ৩১ ভাগ কাতাল,  ১২ ভাগ রুই, শতকরা ৭ ভাগ মৃগেল ও ৫১ ভাগ কালিবাউশের প্রজনন হয়। যা দেশের সামগ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই মাছের সুষ্ঠু প্রজননের লক্ষ্যে প্রতি বছর তিন মাস হ্রদের মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়ে। একই সাথে বন্ধকালিন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এবার মোট ৫ মেট্টিক টনের অধিক পোনা মাছ কাপ্তাই হ্রদে মাছ অবমুক্ত করা হবে। প্রথম ধাপে মেট্টিক টন পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। পর্যায়ক্রমে বাকি পোনা মাছগুলোও অবমুক্ত করা হবে। 

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ একটি সম্পদ। হ্রদের মাছ দেশে-বিদেশে প্রসারিত। তাই মাছের ভান্ডার হিসিবে বহু আগে সবার কাছে কাপ্তাই হ্রদ পরিচিতি লাভ করেছে। তাই হ্রদ বাচিয়ে রাখতে হবে। কারণ হ্রদ বেঁচে থাকলে মাছ বেচে থাকবে। মানুষের কর্ম সংস্থানও বেচে থাকবে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসূমে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে। মাছের প্রজনন হলে মাছের ঘাটতি পূরণ হবে। যারা মাছ শিকার উপর নির্ভশীল মৎস্যজীবিদের বেকার সময়ে সরকারি পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বিজিএফের খাদ্যশষ্য। যাতে মৎস্যজীবীরা না খেয়ে না থাকে। এসময় তিনি রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। 
পরে তিনি দরিদ্র মৎসজীবিদের মাঝে বিভিএফের চাল বিতরণ করেন। একই সাথে অবৈধ কারণে জালও আগুনে পুরিয়ে দেন। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর