শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০২১ ১৪:০৫
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০২১ ১৪:০৮
প্রিন্ট করুন printer

শিশু মিজানের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করলেন আওয়ামী লীগ নেতা সুজন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

শিশু মিজানের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করলেন আওয়ামী লীগ নেতা সুজন
শিশু মিজানের পাশে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সুজন
Google News

কথা ছিল খেলাধুলা করবে, স্কুলে যাবে, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন দেখবে! কিন্তু বাবা হারানোর পর পেটের দায়ে ১০ বছরের শিশু মিজানকে ধরতে হয় ভ্যানের হাতল! ভ্যান চালক মিজান! অথচ এই নিষ্ঠুর দুনিয়া, তার পেটের অন্ন যোগানোর অবলম্বন ভ্যানটিও ঈদের আগের রাতে কৌশলে ভুলিয়ে ভালিয়ে চুরি করে নেয় এক অমানুষ।

ভ্যান হারিয়ে শোকে আছন্ন মিজানের কান্না হৃদয় ছুয়েছিল অনেকের! অনেকে দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই মিজানের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ মানুষ। তারই ধারাবাহিকতায় মিজানকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ও পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে তার মুখে ঈদের হাসি ফিরিয়ে দিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সুজন।

ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলা কামারপুকুর নীলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মিজান (১০)। বাবা মারা যাওয়ার পরে নিজেই পরিবারের হাল ধরেছে। পড়ালেখার পাশাপাশি ভ্যান গাড়ি চালিয়ে সংসারের ছোট বোন ও মা কে নিয়ে সুখেই কাটছিল মিজানের জীবন।

কিন্তু গত ২০ই জুলাই দুপুরে একজন চোর ছলেবলে কৌশলে মিজানের ভ্যানটি তার কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে যায়। এর পর থেকে মিজানের মুখের হাসিটি হারিয়ে গিয়েছিল। কোনভাবেই মিজানের কান্না থামানো যাচ্ছিল না। মিজানের কান্নায় সেই এলাকার পরিবেশটা নিশ্চুপ হয়ে যায়।

পরে বিষয়টি নিয়ে “মিজানের জীবনযুদ্ধের গল্প” শিরোনামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সাংবাদিক আব্দুল লতিফ লিটু। সেই স্ট্যাটাস ভাইরাল হলে অনেকেই মিজানকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঈদ এর দিনে মিজানের বাসায় ঈদ উদযাপন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন। তিনি বলেন, মিজান এই ছোট্ট বয়সে সংসারের হাল ধরেছে। আমি ফেসবুকে তার হৃদয় বিদারক ঘটনাটি পড়ার পরেই তাকে সহযোগিতা করার জন্য তার বাসায় আসি। মিজান এর মতো ছেলে আমাদের সমাজের গর্ব। এই বয়সে মা, বোন এর দায়িত্ব মিজানের উপর। আমি মিজানের মা এর একটি বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহার আবাসন প্রকল্পের একটি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। তবে আশা থাকবে, মিজান ফিরুক পড়ার টেবিলে, আনন্দের শৈশবে।

শিশু মিজান জানায়, আমি স্বপ্নেও ভাবিনাই এভাবে আমার বাসায় এভাবে ঈদ হবে কোনোদিন। সব কিছু আমার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছে। যারা আমার এই দুর্দিনে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম পুষ্প ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর