২১ আগস্ট, ২০২১ ১২:৪৮

বৃষ্টিপাতে আমন ধানের বীজতলা পঁচে যাওয়ায় অসহায় কৃষক

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

বৃষ্টিপাতে আমন ধানের বীজতলা পঁচে যাওয়ায় অসহায় কৃষক

আমন ধানের বীজতলা পঁচে যাওয়ায় অসহায় কৃষক

পর পর দুইবার বঙ্গোপসাগরে লঘু চাপের প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে গলাচিপার কৃষকরা চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। আমন ধানের অধিকাংশ বীজতলার ধানবীজ পঁচে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

এ অবস্থায় কৃষকদের ঘরে ঘরে চলছে বোবা কান্না। তারা পাচ্ছে না স্থানীয় বা প্রশাসনের কোনো সহায়তা। কৃষকরা ধানচারা সংগ্রহের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কোথাও কিছু চারা পাওয়া গেলেও তার দাম আকাশ ছোঁয়া। 

স্থানীয় কৃষি দফতর সূত্র জানায়, এ বছর বর্ষা মৌসুমে আমন আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫ মেট্রিক টন। তবে কৃষি বিভাগ বলছে শতকরা ১০ ভাগ বীজতলার বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু কৃষকরা বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে শতকরা ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ বীজতলার বীজ সম্পূর্ণ পঁচে গেছে। আংশিক পঁচে গেছে আরও ৫ থেকে ১০ ভাগ। এ অবস্থা সৃষ্টির ফলে অনেক জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। 

এদিকে, কৃষকদের ব্যাপক চাহিদার কারণে গত এক সপ্তাহে গলাচিপা উপজেলা সদরের বিভিন্ন বিক্রেতাদের গুদামের বীজ বিক্রি হয়ে গেছে। গুদামগুলো হয়ে পড়েছে ফাঁকা। বীজ বিক্রেতা আল আমিন জানান, গত কয়েক বছরেই আমন ধানের বীজের এতো চাহিদা ছিল না। এতোদিন কৃষকরা নিজস্ব উৎস থেকে ধান দিয়ে বীজতলা তৈরি করছিল। এ বছর অতিরিক্ত বর্ষার কারণে অধিকাংশ কৃষকের বীজতলার বীজ পঁচে গেছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, এ এলাকা এমনিতেই দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে কৃষকরা আমন ধানের বীজতলা তৈরি করেছিল ২ হাজার ৩শ’ ৩৩ হেক্টর জমিতে। লঘুচাপের প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ৫৭ দশমিক ৪৫ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ পঁচে গেছে। তবে এ অবস্থা সামাল দিতে সব ধরনের প্রচেষ্টা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।


বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর