২৩ জুন, ২০২২ ১৭:০৯

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। পানি কমতে থাকায় বানভাসিদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলেও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। বাড়িঘর এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। বাঁধে আশ্রিতরা বাঁধেই অস্থায়ী সংসার শুরু করেছে। জেলায় যমুনা নদীর পানি বুধবার বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার পানি কমে তা ৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বৃহস্পতিবার সারাদিন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক নিজে বন্যাদুর্গত এলাকা বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার তেকানি চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নে গিয়ে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, সোনাতলা উপজেলা চেয়াম্যান অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লিটন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. সাদিয়া আফরিন, পাকুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান লতিফুল বারি টিম, তেকানি চুকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক।

জানা যায়, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। সারিয়াকান্দি উপজেলায়তে এ পর্যন্ত ৮৩টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ১১ হাজার ১৮০টি পরিবারের ৫৬ হাজার ৭২০ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় বন্যায় ১০ হাজার ২৫০টি টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। ১ লাখ ১০ হাজার গবাদিপশু পানিবন্দী হয়েছে। পশুখাদ্য তলিয়ে যাওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে গবাদিপশু।

পানিতে আংশিকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে ৫৫০টি বাড়িঘর। ডুবে গেছে উপজেলার ৬৮টি কাঁচারাস্তা, ৩টি পাকারাস্তা এবং ৯টি ব্রিজ। ৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আংশিক ডুবে গেছে। আর সোনাতলা উপজেলায় ২১টি গ্রামের ২০ হাজার ১২৮ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে আছে। ধুনট উপজেলায় ৯টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে আছে ১ হাজার ৬০০ মানুষ। প্রায় ৭ দিন ধরে পানিবন্দী থাকায় বানভাসিদের মাঝে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

বগুড়া জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, বন্যা দেখা দেওয়ায় সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৫ লাখ টাকা ও ২০ মেট্রিক টন চাল, সোনাতলা উপজেলায় ৩ লাখ টাকা ও ১৫ মেট্রিক টন চাল, ধুনট উপজেলায় ২ লাখ টাকা ও ১০ মেট্রিক টন চাল আপাতত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেওয়া যাবে। জেলা প্রশাসন থেকে এমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর