জয়পুরহাটে হঠাৎ করে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত দুইদিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু রোগী জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোগীর চাপে হাসপাতালের তৃতীয় তলার ডায়রিয়া ওয়ার্ড নীচ তলায় স্থানান্তর করেও জায়গা না হওয়ায় মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা চলছে।
বুধবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের নীচ তলার বেডেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগিদের স্যালাইন পুশ করা হয়েছে। পুরো ওয়ার্ড ছাপিয়ে করিডোর পর্যন্ত রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ্য হওয়ায় অনেক রোগি ফিরেও গেছে।
জয়পুরহাট সদরের হরিপুর গ্রাম থেকে সন্তানদের চিকিৎসা নিতে আসা আবু বকর সিদ্দিক বলেন,‘তার সাড়ে চার ও দেড় বছরের দুই শিশু সন্তান হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে মঙ্গলবার সকাল দশটায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগির সংখ্যা অনেক বেশি। স্যালাইন দেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ মনে হচ্ছে। খাবারের ত্রুটির কারণেই তার সন্তানরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ওই ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া দুই বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে নিয়ে তার মা জলি আকতার মঙ্গলবার রাতে নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার ইছবপুর গ্রাম থেকে এসেছেন হাসপাতালে। তিনি বলেন,হঠাৎ করেই তার সন্তান পাতলা পায়খানা ও বমি করতে থাকে। উপায়ন্তর না দেখে রাতেই নিয়ে এসেছি হাসপাতালে। দুই ব্যাগ স্যালাইন পুশ করার পর এখন কিছুটা ভালো। তবে কি কারণে তার সন্তানের ডায়রিয়া হয়েছে তা তিনি বলতে পারেননি। ক্ষেতলালের বটতলী গ্রাম থেকে আসা নাঈম হোসেন বলেন,তার দেড় বছরের শিশু নওয়াজ গত সোমবার হঠাৎ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে সুস্থ আছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুর বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, ‘হঠাৎ করেই হাসপাতালে শিশু ডায়রিয়ার রোগি বেড়ে গেছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় রোগিদের হাসপাতালের নীচ তলায় তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। খাবারের ত্রুটি থেকেই এর ব্যাপকতা বেড়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএম