কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে চলমান তীর সংরক্ষণ কাজকে ঘিরে স্বস্তি ফিরেছে নদীতীরবর্তী মানুষের মাঝে। বিশেষ করে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজের মান ভালো হওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুর হেলান, কালির মেলা, রামহরি এলাকাসহ তিস্তা নদীর বিভিন্ন ভাঙনপ্রবণ স্থানে বর্তমানে তীর সংরক্ষণ কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের ভাঙন আতঙ্ক কিছুটা কমে এসেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর তীররক্ষা প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে মোট ৪০টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকায় কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। প্রকল্পে ২৫০ কেজি বালুভর্তি জিও ব্যাগ এবং ১৭৫ কেজি ওজনের সিমেন্ট ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে কিছু এলাকায় জিও ব্যাগে নির্ধারিত পরিমাণ বালু না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতে ভাঙন রোধের প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। তবে এবার কাজের মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় তারা আশাবাদী।
গাবুর হেলান এলাকার বাসিন্দা শহিদ মিয়া বলেন, আগে অনেকবার কাজ হলেও ভাঙন থামেনি। এবার কাজ ভালো হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে।
একই এলাকার মন্টু মিয়া বলেন, “তিস্তার ভাঙনে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এবার কাজ ভালো হওয়ায় মানুষের ভয় অনেকটাই কমেছে।”
স্থানীয় গৃহবধূ আম্বিয়া বেগম বলেন, “প্রতি বছর ভাঙনের কারণে আমরা আতঙ্কে থাকতাম। এবার মনে হচ্ছে কিছুটা নিরাপদ থাকা যাবে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মঈদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি নিয়ম মেনে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বুয়েট টেস্ট ও ট্রাসফোর্স গণনার ভিত্তিতে কাজের বিল প্রদান করা হয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/এনআরএইচ