অমৃতার পরীর গল্প খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই সে পরীর গল্প শুনতে চায়। আর রাত্রে ঘুমানোর সময় বাবা -মায়ের কাছে পরীর গল্প তার চাই-ই চাই।
অমৃতাদের বাড়ির সামনের শিউলি গাছটায় অনেক ফুল ফুটেছে। শরতের পূর্ণিমা রাত। চারিদিকে ধবধবে সাদা আলো। চাঁদের আলোয় শিউলি ফুল দেখে এসেছে অমৃতা ওর বড় বোনের সঙ্গে। যদিও অনেকবারই দেখেছে। কিন্তু পূর্ণিমার আলোয় শিউলি ফুল দেখতে কী যে লাগে ওর! যাহোক, ভোরে ঘুম থেকে উঠেই ডালা হাতে সে গাছ তলায় গেল। ফুল ঝরে পড়ে যেন গালিচা পেতেছে গাছ তলাটায়! সে খুশিতে কুড়াচ্ছে আর কুড়াচ্ছে।
খুকুমণি ফুলগুলো দেবে!
অমৃতার কানে পড়েছে কথাটা। সে ভাবছে ও পাড়ার কাকিমণি হয়তো!
আবারও, খুকুমণি ফুলগুলো দেবে!
এবার অমৃতার কানে যেন ভালো করে বাজল কথাটা। ভাবল কিছুক্ষণ। শব্দটা তো অপরিচিত মনে হচ্ছে! সে তাকাল। ওরে বাস্! সাদা পরী!
অবাক লাগছে অমৃতার, পরী!
কি, অবাক লাগছে! পরী হেসে বলল।
অমৃতার কথাই বেরোচ্ছে না। সে তাকিয়েই আছে।
পরী বলল, খুকুমণি, আমি তোমার পরী অ্যান্টি। তুমি না পরীর গল্প খুব ভালোবাস!
অমৃতা বলল, হ্যাঁ বাসিই তো। কিন্তু দেখতে পাব!
হাসতে হাসতে পরী বলল, এই তো আমি! তোমার ফুলগুলো দেবে!
এগুলো দিয়ে যে আমি খেলব। অমৃতা বলল।
পরী বলল, তুমি চকলেট পছন্দ করো না!
পছন্দ করি তবে খুব বেশি খাই না। দাঁত দেখিয়ে অমৃতা বলল, মা বলেছে বেশি চকলেট খেলে দাঁত নষ্ট হয়। তবে রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করে ঘুমাই।
বা-বাহ্, তুমি তো স্বাস্থ্য সচেতন মেয়ে। এ বলে আরও কয়েকটা চকলেট নিয়ে এগিয়ে গেল পরী। বলল, নাও।
নেবে কি নেবে না ভাবনায় পেল অমৃতার। ফুল কুড়ানো ছেড়ে বাড়ির দিকে পা বাড়াল সে। পরীকে বলল, একটুখানি দাঁড়াও, মাকে বলে আসি।
খুকুমণি শোনো, মাকে বলতে হবে না। আমি তো তোমার প্রিয়। তুমিও আমার প্রিয়। বলতে বলতে পরী এগোচ্ছিল.. অমৃতা যেতে যেতে বলল, মা আমার ভীষণ প্রিয়। তাকে না বলে কোনো কাজই করি না। মাকে না বলে কিছু করলে মা যে কষ্ট পাবে! বলেই অমৃতা ডাকল- মা, মা-
মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙল অমৃতার। কি ব্যাপার! ঘুমের ঘোরে মা মা করছিলে যে! মাকে জড়িয়ে ধরে অমৃতা বলল, পরী এসেছিল! চকলেট দিতে চেয়েছিল। তাই তোমার কাছে শুনতে আসছিলাম!
মা হাসতে হাসতে আদর দিতে দিতে বলল,
পাগলি মেয়ে আমার...