শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০

পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণ কাজ

পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণ কাজ

পদ্মা সেতু নির্মাণের মূল কাজ শুরু হয়েছে রবিবার থেকে। এ উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে টেস্ট পাইল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে ঘটা করে। বসানো হয়েছে মঞ্চ। এই মঞ্চ ব্যবহার করে নদীর ওপর ভাসমান ক্রেন থেকে ১২০ মিটারের পাইলগুলো বসানো হচ্ছে পদ্মার বুকে। চীনা ঠিকাদাররা চীনা পদ্ধতিতে কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে দুটি গরু, দুটি খাসি, দুটি মোরগ উৎসর্গ করেছে পদ্মার উদ্দেশ্যে। এ জন্য বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়। চীনা পদ্ধতির এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শরিক হয়েছিলেন পদ্মা পাড়ের হাজার হাজার মানুষ। তাদের স্বপ্নের সেতুর মূল কাজ শুরুকে তারা দেখছেন স্বপ্ন পূরণের মহোৎসব হিসেবে। ২০ মার্চ শুরু হবে পদ্মা সেতুর ট্রায়াল পাইলের মূল কাজ। এ কাজকে সামনে রেখে রবিবার টেস্ট পাইলের কাজ শুরু হয়। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ঘোষিত সময়ে ট্রায়াল পাইলের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার অংশ হিসেবে ট্রায়াল পাইলের বিশাল কর্মকাণ্ড যথাসময়ে শুরুর এ উদ্যোগকে গুরুত্বের চোখে দেখা হচ্ছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায়। কিন্তু এ উদ্যোগ হোঁচট খায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের টানাপড়েনে। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পদ্মা সেতুর কাজ নিয়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র চলছে। এ অভিযোগ তুলে প্রকল্প থেকে সরে আসে তারা। শেষ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়ন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে জাতীয় অগ্রগতির অংশীদার করতে পদ্মা সেতু তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে দেশের এই বৃহত্তম সেতু। আশার কথা, সরকার যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকে শুধু চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নেয়নি, প্রতিকূল অবস্থাকে উপেক্ষা করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ সাফল্যও দেখিয়েছে। হরতাল-অবরোধ সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের এই সেতু নির্মাণের কাজ। বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য পদ্মা সেতু প্রকল্প সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই কঠিন পরীক্ষায় দেশকে জিততেই হবে।


আপনার মন্তব্য