শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩৫

ধর্মতত্ত্ব

রসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি মহব্বত

হাফেজ কারি মাওলানা মুফতি ওলিউল্লাহ পাটোয়ারী

রসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি মহব্বত

দ্বীন ও ইমানই হলো এ দুনিয়ার সবচেয়ে বড় নিয়ামত। এ অমূল্য নিয়ামত আমরা রসুলুল্লাহ (সা.)- এর মাধ্যমেই লাভ করেছি। তিনি আমাদের প্রতি অশেষ অনুগ্রহ করেছেন। তিনি নির্মম অত্যাচার ও অপরিসীম নির্যাতন ভোগ করে হিদায়াতের বাণী পৌঁছিয়েছেন। তার এ কোরবানি ও ত্যাগ না হলে আমাদের কাছে দীন পৌঁছাত না, বরং আমরা কুফর ও শিরকের অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকতাম।  কাজেই রসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসা পোষণ করা আমাদের নৈতিক ও ইমানি দায়িত্ব। উপরন্তু রসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসাকে অন্য সবকিছুর ভালোবাসা থেকে ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। তবেই প্রকৃত ইমানদার হওয়া যায়। ইরশাদ হয়েছে : বলুন, তোমাদের কাছে যদি আল্লাহ, তার রসুল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা অপেক্ষা অধিক প্রিয় তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের স্বগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসায়-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশঙ্কা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা ভালোবাস, তবে অপেক্ষা কর আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত। আল্লাহ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না। (সূরা তাওবা, ৯:২৪)

রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন : তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হব।

যৌক্তিকভাবেও যদি আমরা বিষয়টি বিশ্লেষণ করি তাহলেও দেখব যে, সবার চেয়ে রসুলুল্লাহ (সা.)-কেই অধিক ভালোবাসা কর্তব্য। কেননা সাধারণত চার কারণে একজন অপর একজন মানুষকে ভালোবেসে থাকে : ১. বাহ্যিক সৌন্দর্য, ২. চারিত্রিক গুণাবলি, ৩. ইহসান ও ৪. আত্মীয়তা। উপরোক্ত চারটি কারণ রসুলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান। কাজেই সৃষ্টির মধ্যে রসুলুল্লাহ (সা.)-ই সর্বাধিক ভালোবাসা পাওয়ার হকদার।

এ ভালোবাসা হবে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা। এর বাস্তবায়ন ঘটবে রসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ ও অনুকরণের মধ্যদিয়ে। বস্তুত যাবতীয় আমল তথা লেবাস— পোশাক, পানাহার, আচার-অনুষ্ঠান, এক কথায় ব্যক্তিগত জীবন থেকে আরম্ভ করে আন্তর্জাতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রসুলুল্লাহ (সা.)-কে অনুকরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে তার ভালোবাসা ও মহব্বতের প্রকৃষ্ট নিদর্শন।  ইরশাদ করেন : তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তার ইচ্ছা ও কামনা আমার নিয়ে আসা আদর্শের পূর্ণ অনুসারী হবে। রসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা যেমনিভাবে তাঁর অনুসরণ ব্যতীত সম্ভব নয়, ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন ও রসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ ও অনুকরণ ব্যতীত সম্ভব নয়। আল-কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আলে ইমরান, ৩:৩১)। যে ব্যক্তি রসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। রসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য ছাড়া আল্লাহর আনুগত্য আদৌ সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : কেউ রসুলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল। (সূরা নিসা, ৪:৮০)

 

এ ছাড়াও আরও বহু আয়াতে রসুলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে কেউ যদি আনুগত্য না করে, তবে তার ঠিকানা হবে জাহান্নামে। ইরশাদ হয়েছে : কারোর কাছে সৎ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যেদিকে সে ফিরে যায় সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব।

আর তা কত মন্দ আবাস! (সূরা নিসা, ৪:১১৫)।  অপর এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : বলুন, আল্লাহর আনুগত্য কর, এর পর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সেই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী এবং তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে; রসুলের কাজ তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছিয়ে দেওয়া। (সূরা নূহ্, ২৪:৫৪)।


আপনার মন্তব্য