শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪১

পবিত্র আশুরা

হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়

পবিত্র আশুরা

ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক দিক থেকে ১০ মহররম বা আশুরার দিনটি নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাসমতে, এ দিনে দুনিয়ার প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, আবার এ দিনেই বিবি হাওয়া (আ.)সহ তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নির্বাসনে পাঠানো হয়। তাঁরা আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেন এই পবিত্র দিনেই। আশুরার সঙ্গে অনেক নবীর স্মৃতি জড়িত। ১৩৭৯ বছর আগে হিজরি ৬১ সনের এই দিনে কারবালার প্রান্তরে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) শাহাদাতবরণ করেন। ইসলামী বিধানকে ভ্রুকুটি দেখিয়ে অবৈধভাবে খলিফা পদ করায়ত্ত করেন ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া। তাকে খলিফা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেন ইমাম হোসাইন (রা.)। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার বদলে শাহাদাত-বরণকেই নবী-দৌহিত্র তথা আহলে বায়েতের সদস্যরা শ্রেয় বলে মনে করেন। মুসলমানরা ইমাম হোসাইন (রা.) তথা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রক্তের উত্তরাধিকারী ও তাঁদের অনুসারীদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা এ দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। শোকাবহ এ দিনটি তাদের কাছে অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার। সত্যের সঙ্গে অসত্যের লড়াই এক চিরন্তন সত্য। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে চলার যে জীবন বিধান প্রবর্তন করেন তাতে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে অসত্য, অসুন্দর ও অকল্যাণের প্রতিভূরা। একপর্যায়ে তারা বাহ্যিকভাবে ইসলামী পতাকার নিচে আশ্রয় নেয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর শুরু হয় গোত্রতন্ত্র ও কায়েমি স্বার্থের ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্রে বিষপানে হত্যা করা হয় নবী-দৌহিত্র হজরত হাসান (রা.)-কে। কারবালায় ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে পরিবার-পরিজন ও ৭২ জন অনুসারীসহ শাহাদাতবরণ করেন ইমাম হোসাইন (রা.)। কারবালার ঘটনা শিক্ষা দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যে লড়াই তা অপরাজেয়। ইয়াজিদ বাহিনী হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীদের জীবন কেড়ে নিতে পারলেও ইতিহাস তাঁদের আদর্শের অমরতাকেই স্মরণ করে। অন্যায় যুদ্ধে ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া জয়ী হলেও সে জয় ছিল পরাজয়ের চেয়েও লজ্জাকর। কারবালার শহীদদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।


আপনার মন্তব্য